মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৮১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
মুসলিম সাধারণের জন্যে ইস্তিগফার
২৮১. হযরত আবুদ্দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি নারী-পুরুষ সকল মু'মিনের জন্যে আল্লাহ তা'আলার দরবারে মাগফিরাতের দু'আ করবে, সে ব্যক্তি আল্লাহর ঐ সব মকবুল বান্দার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে, যাদের দু'আ কবুল হয়ে থাকে এবং যাদের বরকতে পৃথিবীবাসীরা জীবিকা প্রাপ্ত হয়ে থাকে। (মু'জামে কবীর: তাবারানী সঙ্কলিত)
کتاب الاذکار والدعوات
عن أبي الدرداء قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "من استغفر للمؤمنين والمؤمنات كل يوم سبعا وعشرين مرة كان من الذين يستجاب لهم ويرزق بهم أهل الأرض" (رواه الطبرانى فى الكبير)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহর বান্দাদের মঙ্গল কামনা এবং তাদের উপকারের জন্যে সচেষ্ট হওয়াটা আল্লাহ তা'আলার নিকট অত্যন্ত পসন্দনীয়। এক হাদীসে আছে:

الْخَلْقُ عِيَالُ اللَّهِ فَأَحَبُّ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ أَنْفَعُهُمْ لِعِبَادِهِ
(كنز العمال)

"সমস্ত সৃষ্টিকুল হচ্ছে আল্লাহর পরিজন স্বরূপ। সুতরাং মানব জাতির মধ্যে আল্লাহর নিকট প্রিয়তম হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে তার সৃষ্টিকূলের সর্বাধিক উপকার সাধনকারী।"
-(কানযুল উম্মাল)

মখলুকের জন্যে খানা-পিনা, কাপড়-বস্ত্র প্রভৃতি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী সরবরাহ করা এবং তাদেরকে শান্তি ও আরাম দেওয়া যেমন তাদের খিদমত এবং উপকার করার পন্থা, তেমনি আল্লাহ তা'আলার নিকট তাঁর বান্দাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করাটাও পারলৌকিক জগতের হিসাবে তাদের একটা বড় খিদমত এবং তাদের পরম উপকার সাধন। তার মূল্য সেদিনই বুঝা যাবে, যেদিন এ ব্যাপারটি চোখের সম্মুখে উদ্ঘাটিত হবে যে, কার ইস্তিগফারের দ্বারা কে কতটুকু উপকৃত হয়েছেন। সুতরাং যে মু'মিন বান্দা ইখলাসের সাথে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ঈমানদার নারী-পুরুষদের জন্যে মাগফিরাতের দু'আ করে থাকেন, (যার কথা এ হাদীসে ২৭বার বলে উল্লেখ করা হয়েছে) তিনি সমস্ত মু'মিন পুরুষ ও মু'মিন নারীদের বিশেষ উপকার সাধনকারী এবং আখিরাতের হিসাবে অনেক বড় খিদমতগার। তাঁরা তাঁদের এ আমলের দ্বারা আল্লাহ তা'আলার নিকট এতই মকবুল মুকাররাব বা নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা হয়ে যান যে, তাদের দু'আসমূহ কবুল হয়ে থাকে এবং তাঁদের দু'আর বরকতে আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীবাসীদেরকে জীবিকা প্রদান করে থাকেন।

কিন্তু এখানে লক্ষ্যযোগ্য ব্যাপার হচ্ছে, এ পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষ এবং প্রতিটি প্রাণীর খিদমত এবং তার প্রয়োজনীয় আরাম পৌঁছাবার চেষ্টাই নেকি এবং ছওয়াবের কাজ। হাদীসে পাকে বলা হয়েছে:

فِي كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ رَطْبٍ صَدَقَةٌ

"প্রতিটি তাজা প্রাণ ও যকৃতধারীর ব্যাপারেই সাদকার বিষয়টি প্রযোজ্য।” অর্থাৎ প্রতিটি প্রাণীর উপকার সাদকা স্থানীয়। কিন্তু আল্লাহর নিকট মাগফিরাত ও জান্নাতের দু'আ কেবল ঈমানদারদের জন্যেই করা চলে। কুফর ও শিরক ওয়ালারা যাবৎ না এসব জঘন্য পাপাচার থেকে তাওবা করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মাগফিরাত ও জান্নাতের তারা যোগ্য নয়। এজন্যে তাদের জন্য রহমত ও মাগফিরাতের দু'আও করা চলে না। হাঁ, তাদের জন্যে হিদায়াত ও তাওবার তাওফীকের দু'আ করা যেতে পারে, যার পরে তাদের জন্যে রহমত ও মাগফিরাতের দ্বার উন্মুক্ত হতে পারে। তাদের জন্যে এ দু'আটুকু করাই তাদের সবচাইতে বড় উপকার সাধন এবং তাদের প্রতি সর্বোত্তম শুভেচ্ছা কামনা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান