মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৮২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
তাওবার দ্বারা বড় বড় গুনাহ মাফ হয়ে যায়
কুরআন ও হাদীসের দ্বারা জানা যায়, আল্লাহর রহমত অনন্ত অসীম এবং কল্পনাতীত প্রশস্ত। তাওবা এবং ইস্তিগফারের বদৌলতে তিনি বড় বড় গুনাহও মাফ করে দেন এবং বড় বড় দাগী পাপী-তাপীদেরকেও মার্জনা করে দেন। যদিও তাঁর মধ্যে কহর ও জালাল তথা ক্রোধ এর সিফাতও রয়েছে। আর তাঁর এ সিফাতটাও তাঁর উচ্চতম মর্যাদা অনুপাতে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যমান। কিন্তু তা কেবল ঐসব পাপী-তাপী ও অপরাধীদের জন্যে, যারা পাপকর্ম ও অপরাধ করার পরও তাওবা করে তাঁর দিকে রুজু হয় না এবং তাঁর কাছে মাফী ও মাগফিরাত প্রার্থনা করে না; বরং নিজেদের পাপাচারে অবিচল থেকে এ অবস্থায়ই দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করে। নিম্ন লিখিত হাদীসগুলির মর্ম ও পয়গাম তাই।
একশ' ব্যক্তির হত্যাকারী তাওবা করে মার্জনা লাভ করলো
কুরআন ও হাদীসের দ্বারা জানা যায়, আল্লাহর রহমত অনন্ত অসীম এবং কল্পনাতীত প্রশস্ত। তাওবা এবং ইস্তিগফারের বদৌলতে তিনি বড় বড় গুনাহও মাফ করে দেন এবং বড় বড় দাগী পাপী-তাপীদেরকেও মার্জনা করে দেন। যদিও তাঁর মধ্যে কহর ও জালাল তথা ক্রোধ এর সিফাতও রয়েছে। আর তাঁর এ সিফাতটাও তাঁর উচ্চতম মর্যাদা অনুপাতে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যমান। কিন্তু তা কেবল ঐসব পাপী-তাপী ও অপরাধীদের জন্যে, যারা পাপকর্ম ও অপরাধ করার পরও তাওবা করে তাঁর দিকে রুজু হয় না এবং তাঁর কাছে মাফী ও মাগফিরাত প্রার্থনা করে না; বরং নিজেদের পাপাচারে অবিচল থেকে এ অবস্থায়ই দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করে। নিম্ন লিখিত হাদীসগুলির মর্ম ও পয়গাম তাই।
একশ' ব্যক্তির হত্যাকারী তাওবা করে মার্জনা লাভ করলো
২৮২. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বর্ণনা করেছেন, তোমাদের পূর্বেকার কোন এক (নবীর) উম্মতের মধ্যে এক ব্যক্তি আল্লাহ্ নিরান্নব্বই জন বান্দাকে হত্যা করে। (তারপর তার মনে অনুতাপের সঞ্চার হয় এবং আখিরাতের ভয় জাগে) সে লোকজনকে জিজ্ঞেস করে যে, সে এলাকার সবচাইতে বড় আলেম কে? (যাতে করে সে তাঁকে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারে যে, আমার মার্জনার কী হবে?) লোকজন একজন সন্ন্যাসী (বা প্রবীণ দরবেশ) সম্পর্কে তাকে বললে সে তাঁর কাছে গিয়ে বললো যে, সে নিরানব্বইজন লোক হত্যা করেছে, তার জন্যে কি তাওবার কোন ব্যবস্থা আছে? (সেও মার্জনা পেতে পারে এমন কোন ব্যবস্থা কি তার জানা আছে? সে সন্ন্যাসী জবাবে বললেন: তা তো কোনমতেই হতে পারে না। তখন সেই নিরান্নব্বই খুনের অপরাধী ব্যক্তিটি সেই সন্ন্যাসীকেও হত্যা করে তার জীবনের একশ'টি খুন পুরো করলো। (কিন্তু তারপর আবার তার মনে সেই পূর্বের মত অনুতাপ ও মার্জনার চিন্তার উদ্রেক হয়।) তারপর সে আবার সবচাইতে বড় আলেম কে জানতে চায়। তখন তাঁকে একজন আলেমের সন্ধান দেওয়া হয়। তারপর সে তাঁর নিকট গিয়ে বললো যে, সে একশ'টি খুন করেছে। তার জন্যে কি তাওবার কোন ব্যবস্থা আছে? জবাবে তিনি বললেন: হাঁ, হাঁ, (এমন ব্যক্তির তাওবাও কবুল হতে পারে।) তার তাওবার পথে কে বাধার সৃষ্টি করতে পারে? (অর্থাৎ আল্লাহর মখলুকদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তাওবার পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। তারপর তিনি তাকে পরামর্শ দিলেন) তুমি অমুক জনপদে যাও। সেখান আল্লাহর কিছু ইবাদওগুযার বান্দা রয়েছেন। তুমিও তাঁদের সাথে মিলে ইবাদতে লিপ্ত হবে এবং তোমার স্ব-এলাকায় আর ফিরবে না। কেননা, এটা অত্যন্ত খারাপ এলাকা।
সে মতে সে ব্যক্তি রওয়ানা হয়ে পড়লো। যখন সে পথের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছলো তখন আকস্মিকভাবে মৃত্যু তার সম্মুখে উপস্থিত হলো। এবার তাকে নিয়ে রহমতের ফেরেশতাদের এবং আযাবের ফেরেশতাদের মধ্যে বচসা শুরু হলো। রহমতের ফেরেশতারা বললেন: এ ব্যক্তি তাওবা করে আসছে এবং সাচ্চা দেলে আল্লাহমুখী হয়েছে। (এ জন্যে সে রহমত লাভের হকদার হয়ে গেছে।)
ওদিকে আযাবের ফেরেশতারা বললেন: এ ব্যক্তি কখনো কোন পুণ্য কাজ করেনি (উপরন্তু এক শতটি খুন করে এসেছে, এ জন্যে এ দাগী অপরাধী এবং আযাবের হকদার) এ সময় একজন ফেরেশতা (আল্লাহর হুকুমে) মানুষের বেশে সেখানে উপস্থিত হলেন। তাঁরা উভয় পক্ষ তাকেই সালিশরূপে মেনে নিলেন। তিনি এর ফয়সালা দিলেন এই যে, দুই জনপদের দূরত্ব মেপে নিন। (অর্থাৎ ফিৎনা-ফ্যাসাদ ও পাপচারপূর্ণ যে জনপদ থেকে ঐ ব্যক্তিটি রওয়ানা হয়েছে এবং আল্লাহর ইবাদতগুযার বান্দাদের যে জনপদের দিকে ঐ ব্যক্তি রওয়ানা করেছে। তারপর যে জনপদটি তার অপেক্ষাকৃত নিকটবর্তী, তাকে সে দলের অন্তর্ভূক্ত বলে গণ্য করুন! সে মতে যখন দূরত্ব মাপা হলো তখন দেখা গেল, যে জনপদের উদ্দেশ্যে সে রওয়ানা করেছে সেটাই অপেক্ষাকৃত নিকটবর্তী। তখন রহমতের ফেরেশতাগণ তার প্রাণ কবয করলেন।- (সহীহ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিম)
সে মতে সে ব্যক্তি রওয়ানা হয়ে পড়লো। যখন সে পথের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছলো তখন আকস্মিকভাবে মৃত্যু তার সম্মুখে উপস্থিত হলো। এবার তাকে নিয়ে রহমতের ফেরেশতাদের এবং আযাবের ফেরেশতাদের মধ্যে বচসা শুরু হলো। রহমতের ফেরেশতারা বললেন: এ ব্যক্তি তাওবা করে আসছে এবং সাচ্চা দেলে আল্লাহমুখী হয়েছে। (এ জন্যে সে রহমত লাভের হকদার হয়ে গেছে।)
ওদিকে আযাবের ফেরেশতারা বললেন: এ ব্যক্তি কখনো কোন পুণ্য কাজ করেনি (উপরন্তু এক শতটি খুন করে এসেছে, এ জন্যে এ দাগী অপরাধী এবং আযাবের হকদার) এ সময় একজন ফেরেশতা (আল্লাহর হুকুমে) মানুষের বেশে সেখানে উপস্থিত হলেন। তাঁরা উভয় পক্ষ তাকেই সালিশরূপে মেনে নিলেন। তিনি এর ফয়সালা দিলেন এই যে, দুই জনপদের দূরত্ব মেপে নিন। (অর্থাৎ ফিৎনা-ফ্যাসাদ ও পাপচারপূর্ণ যে জনপদ থেকে ঐ ব্যক্তিটি রওয়ানা হয়েছে এবং আল্লাহর ইবাদতগুযার বান্দাদের যে জনপদের দিকে ঐ ব্যক্তি রওয়ানা করেছে। তারপর যে জনপদটি তার অপেক্ষাকৃত নিকটবর্তী, তাকে সে দলের অন্তর্ভূক্ত বলে গণ্য করুন! সে মতে যখন দূরত্ব মাপা হলো তখন দেখা গেল, যে জনপদের উদ্দেশ্যে সে রওয়ানা করেছে সেটাই অপেক্ষাকৃত নিকটবর্তী। তখন রহমতের ফেরেশতাগণ তার প্রাণ কবয করলেন।- (সহীহ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا، فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَاهِبٍ، فَأَتَاهُ فَقَالَ: إِنَّهُ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا، فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ؟ فَقَالَ: لَا، فَقَتَلَهُ، فَكَمَّلَ بِهِ مِائَةً، ثُمَّ سَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْ لِ الْأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَجُلٍ عَالِمٍ، فَقَالَ: إِنَّهُ قَتَلَ مِائَةَ نَفْسٍ، فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ؟ فَقَالَ: نَعَمْ، وَمَنْ يَحُولُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ التَّوْبَةِ؟ انْطَلِقْ إِلَى أَرْضِ كَذَا وَكَذَا، فَإِنَّ بِهَا أُنَاسًا يَعْبُدُونَ اللهَ فَاعْبُدِ اللهَ مَعَهُمْ، وَلَا تَرْجِعْ إِلَى أَرْضِكَ، فَإِنَّهَا أَرْضُ سَوْءٍ، فَانْطَلَقَ حَتَّى إِذَا نَصَفَ الطَّرِيقَ أَتَاهُ الْمَوْتُ، فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ، فَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ: جَاءَ تَائِبًا مُقْبِلًا بِقَلْبِهِ إِلَى اللهِ، وَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الْعَذَابِ: إِنَّهُ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ، فَأَتَاهُمْ مَلَكٌ فِي صُورَةِ آدَمِيٍّ، فَجَعَلُوهُ بَيْنَهُمْ، فَقَالَ: قِيسُوا مَا بَيْنَ الْأَرْضَيْنِ، فَإِلَى أَيَّتِهِمَا كَانَ أَدْنَى فَهُوَ لَهُ، فَقَاسُوهُ فَوَجَدُوهُ أَدْنَى إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي أَرَادَ، فَقَبَضَتْهُ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ " (رواه البخارى ومسلم واللفظ له)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসটি কোন খণ্ডিত ঘটনার বর্ণনা নয়, বরং এ ভঙ্গিতে রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহ তা'আলার রহমত গুণের ব্যাপ্তি এবং তার পূর্ণতার কথাই বর্ণনা করেছেন। এর মর্মবাণী এবং পয়গাম হচ্ছে, বড় বড় পাপীতাপী গুনাহগার বান্দাও যদি সাচ্চা দেলে আল্লাহ তা'আলার হুযুরে তাওবা করে এবং ভবিষ্যত জীবনে আল্লাহর আনুগত্য অবলম্বন করে চলার সঙ্কল্প গ্রহণ করে তাহলে তাকেও মাফ করে দেওয়া হবে এবং আরহামুর রাহিমীন পরম দয়ালু আল্লাহর রহমত এগিয়ে এসে তাকে কোলে তুলে নেবে; যদিও ঐ তাওবার পরক্ষণেই তার বিদায়ের ডাক এসে যায় আর সে একটি পুণ্যকর্ম করার সুযোগও না পায় এবং তার আমলনামায় একটি নেকিও লিখিত না থাকে।
এ হাদীসের বক্তব্য সম্পর্কে একটি নীতিগত আপত্তি তোলা হয়েছে এই যে, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করাটা এমনি একটি পাপ, যার সম্পর্ক শুধু আল্লাহর সাথেই নয়, বরং হক্কুল ইবাদও তাতে জড়িত রয়েছে। যে পাপী ব্যক্তিটি কাউকে অন্যায়ভাবে খুন করলো সে আল্লাহর নাফরমানীর সাথে সাথে সেই নিহত ব্যক্তি এবং তার বিবি বাচ্চা পরিবার পরিজনের প্রতিও যুলুম করলো। আর একটি সর্বজন স্বীকৃত নীতি হচ্ছে এ জাতীয় যুলুম বা গুনাহ কেবল তাওবার দ্বারাই মাফ হয় না, বরং সংশ্লিষ্ট মযলুম ব্যক্তিদের নিকট থেকে মাফ নেওয়াও তার জন্যে অপরিহার্য হয়ে পড়ে। (এ হাদীসে উক্ত খুনী ব্যক্তিটির ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত। তাহলে সে কি করে ক্ষমার উপযুক্ত বিবেচিত হলো?)
হাদীসের ভাষ্যকারগণ এর জবাব দিয়েছেন এবং তাঁরা যথার্থ জবাবই দিয়েছেন।
তাঁরা এর জবাবে বলেছেন: উসূল এবং কানুন যে এটাই, তাতে সন্দেহ নেই। তবে মযলুম ব্যক্তিদের হক আদায়ের এবং তাদের ব্যাপারটা সাফ করার একটা পন্থা এটাও হতে পারে যে, আল্লাহ তা'আলা পরকালে তাদের উপর যুলুমকারী এবং তারপর সাচ্চা দেলে তাওবাকারী বান্দাদের পক্ষ থেকে মযলুম বা অত্যাচারিত ব্যক্তিদেরকে তাঁর নিজ রহমতের ভাণ্ডার থেকে প্রতিদান দিয়ে তাদেরকে রাজী-খুশি করে দেবেন। এ হাদীসে উক্ত শ' খুনের অপরাধী এবং পরে তাওবাকারী বান্দাটির ব্যাপারেও আল্লাহ তা'আলা তাই করবেন। তিনি তার পক্ষ থেকে তার হাতে নিহত ব্যক্তিদেরকে এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল মযলুমকে তাঁর নিজ রহমতের ভাণ্ডার থেকে এতটা দান করবেন যে, তারা সন্তুষ্ট হয়ে যাবে এবং এই একশ' খুনের খুনী অপরাধী তাওবাকারী বান্দা আল্লাহর রহমতে সরাসরি জান্নাতে চলে যাবে।
এ হাদীসের বক্তব্য সম্পর্কে একটি নীতিগত আপত্তি তোলা হয়েছে এই যে, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করাটা এমনি একটি পাপ, যার সম্পর্ক শুধু আল্লাহর সাথেই নয়, বরং হক্কুল ইবাদও তাতে জড়িত রয়েছে। যে পাপী ব্যক্তিটি কাউকে অন্যায়ভাবে খুন করলো সে আল্লাহর নাফরমানীর সাথে সাথে সেই নিহত ব্যক্তি এবং তার বিবি বাচ্চা পরিবার পরিজনের প্রতিও যুলুম করলো। আর একটি সর্বজন স্বীকৃত নীতি হচ্ছে এ জাতীয় যুলুম বা গুনাহ কেবল তাওবার দ্বারাই মাফ হয় না, বরং সংশ্লিষ্ট মযলুম ব্যক্তিদের নিকট থেকে মাফ নেওয়াও তার জন্যে অপরিহার্য হয়ে পড়ে। (এ হাদীসে উক্ত খুনী ব্যক্তিটির ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত। তাহলে সে কি করে ক্ষমার উপযুক্ত বিবেচিত হলো?)
হাদীসের ভাষ্যকারগণ এর জবাব দিয়েছেন এবং তাঁরা যথার্থ জবাবই দিয়েছেন।
তাঁরা এর জবাবে বলেছেন: উসূল এবং কানুন যে এটাই, তাতে সন্দেহ নেই। তবে মযলুম ব্যক্তিদের হক আদায়ের এবং তাদের ব্যাপারটা সাফ করার একটা পন্থা এটাও হতে পারে যে, আল্লাহ তা'আলা পরকালে তাদের উপর যুলুমকারী এবং তারপর সাচ্চা দেলে তাওবাকারী বান্দাদের পক্ষ থেকে মযলুম বা অত্যাচারিত ব্যক্তিদেরকে তাঁর নিজ রহমতের ভাণ্ডার থেকে প্রতিদান দিয়ে তাদেরকে রাজী-খুশি করে দেবেন। এ হাদীসে উক্ত শ' খুনের অপরাধী এবং পরে তাওবাকারী বান্দাটির ব্যাপারেও আল্লাহ তা'আলা তাই করবেন। তিনি তার পক্ষ থেকে তার হাতে নিহত ব্যক্তিদেরকে এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল মযলুমকে তাঁর নিজ রহমতের ভাণ্ডার থেকে এতটা দান করবেন যে, তারা সন্তুষ্ট হয়ে যাবে এবং এই একশ' খুনের খুনী অপরাধী তাওবাকারী বান্দা আল্লাহর রহমতে সরাসরি জান্নাতে চলে যাবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)