মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৮৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
তাওবা ও ইস্তিগফারের খাস খাস কালিমা

তাওবা ও ইস্তিগফারের যে হাকীকত বা তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়েছে, তা থেকে পাঠক নিশ্চয়ই উপলব্ধি করে থাকবেন যে, এতে আসল গুরুত্বপূর্ণ এবং মৌলিক বিচার্য বিষয় হচ্ছে তার স্পীরিট এবং অন্তরের অবস্থা। বান্দা যে ভাষায় বা যে শব্দমালা যোগেই তাওবা করুক না কেন, তা যদি সাচ্চা দেলে আন্তরিকভাবে হয়ে থাকে, তাহলেই তা তাওবা ও ইস্তিগফার এবং গ্রহণীয় হবে। এতদসত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তাওবা ও ইস্তিগফারের কিছু কলিমা শিক্ষা দিয়েছেন এবং এগুলির বিশেষ বিশেষ ফযীলত ও বরকতের কথা বর্ণনা করেছেন। এ সিলসিলার কয়েকখানা হাদীস নিম্নে পাঠ করুন!
২৮৪. বেলাল ইবনে য়াসার ইবনে যায়দ (ইনি নবী করীম ﷺ-এর আযাদকৃত দাস ছিলেন)১ তাঁর পিতামহ যায়দ (রা)-এর যবানীতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি এই বলে আল্লাহ তা'আলার দরবারে ইস্তিগফার ও তাওবা করবে:
اَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
(আমি সেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি চিরঞ্জীব এবং চিরদিন কায়েম থাকবেন এবং তাঁর সমীপে তাওবা করছি।)
তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন- যদি যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পলায়নের মত গুনাহও সে ব্যক্তি করে থাকে।
(তিরমিযী ও আবূ দাউদ)

টিকা ১. হযরত যায়দ ইব্‌ন হারিছা নন, ইনি এক ভিন্ন যায়দ, যার পিতার নাম ছিল বূলী। ইনিও সাহাবী ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকেও আযাদ করেছিলেন।
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ بِلاَلَ بْنَ يَسَارِ بْنِ زَيْدٍ، مَوْلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: مَنْ قَالَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الحَيَّ القَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ، غُفِرَ لَهُ وَإِنْ كَانَ فَرَّ مِنْ الزَّحْفِ. (رواه الترمذى وابوداؤد)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

প্রাণ রক্ষার্থে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করা জঘন্যতম কবীরা গুনাহগুলোর অন্যতম। কিন্তু এতদসত্ত্বেও এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, এমন জঘন্যতম গুনাহর অপরাধে অপরাধী ব্যক্তিও যদি এ শব্দমালা যোগে আল্লাহ তা'আলার দরবারে তাওবা-ইস্তিগফার করে, তাহলে তাকেও ক্ষমা করে দেওয়া হবে। বলা বাহুল্য, এমনতর কথা রাসূলুল্লাহ ﷺ ওহী ও ইলহাম ব্যতিরেকে বলতেই পারেন না। এজন্যে বুঝে নিতে হবে যে, গুনাহগারদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনার এ শব্দমালা স্বয়ং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকেই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং এ শব্দমালার মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের বড় বড় গুনাহ মাফ করে দেওয়ার নিশ্চিত ওয়াদা বরং ফয়সালা করা হয়েছে। কী অপার তাঁর রহমত! কিন্তু মনে রাখতে হবে, ইস্তিগফার কেবল শব্দমালার নাম নয়, আল্লাহর নিকট সত্যিকারের ইস্তিগফার হচ্ছে তাই, যা অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে নিঃসৃত হয়ে থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান