মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩১১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
দরূদ ও সালামের বিশেষ বিশেষ কালিমাসমূহ
৩১১. হযরত আবূ হুমায়দ সায়েদী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলা হলো: আপনার প্রতি কিভাবে দরূপ পাঠ করবো ইয়া রাসূলাল্লাহ? জবাবে তিনি বললেন: আল্লাহ তা'আলার দরবারে এরূপ আরয করবে:
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ
“হে আল্লাহ! তোমার খাস রহমত নাযিল কর মুহম্মদ ﷺ তাঁর সাথী-সহধর্মিণীগণ ও বংশধরদের প্রতি, যেমনটি তুমি নাযিল করেছ ইবরাহীম (আ)-এর আল-আওলাদের প্রতি। হে আল্লাহ! সমস্ত স্তব-স্তুতি তোমারই জন্যে শোভনীয় এবং তাবৎ মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্ব তোমারই"।
(সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِيْ حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ قَالَ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ؟ قَالَ: " قُولُوا: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ " (رواه البخارى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে দরূদ শরীফের যে শব্দমালা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, তা কা'আব ইব্‌ন উজরা (রা) বর্ণিত হাদীস থেকে কিছুটা ভিন্ন। প্রথম হাদীসে اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ এবং اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে এ হাদীসে উভয় স্থানেই وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ এর স্থলে وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ বলা হয়েছে। এরই ভিত্তিতে এ অধম প্রথমোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে সে সব ভাষ্যকারের বক্তব্যকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে- যাঁরা বলেছেন যে, দরূদ শরীফে 'আলে মুহাম্মদ' বলতে নবীর সহধর্মিণীগণ এবং নবী করীম ﷺ-এর বংশধরগণকে বুঝানো হয়েছে। অন্য একটি সামান্য শাব্দিক পার্থক্য এই যে, প্রথমোক্ত বংশধরগণকে বুঝানো হয়েছে। অন্য একটি সামান্য শাব্দিক পার্থক্য এই যে, প্রথমোক্ত হাদীসে كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ এবং كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ বলা হয়েছিল, অথচ এ হাদীসে উভয় স্থানে কেবল عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ বলা হয়েছে। হযরত আবু হুমায়দ সায়েদী (রা)-এর এ রিওয়ায়াত ছাড়াও অন্যান্য অধিকাংশ সাহাবীগণের বর্ণিত হাদীসসমূহেও, যা পরে আসছে অনুরূপভাবে কেবল عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ এসেছে। কিন্তু যেমনটি পূর্বেই বলা হয়েছে, এ কেবল শাব্দিক তারতম্য, তাতে অর্থের তেমন কোন তারতম্য হয়নি। আরবী বাকধারায় যখন কারো নামোল্লেখ করে তার 'আল'-এর উল্লেখ করা হয়, তার উল্লেখ আলাদাভাবে না করা হয়, তা হলে সেও এর অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। যেমন কুরআন শরীফে বলা হয়েছে:
{ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى آدَمَ وَنُوحًا وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ } [آل عمران: 33]
- আল্লাহ তা'আলা গোটা বিশ্বের জাতিসমূহের মধ্যে আদম, নূহ, আলে ইবরাহীম এবং আলে ইমরানকে নির্বাচিত করেছেন। বলা বাহুল্য, এখানে ইবরাহীম (আ) নিজেও 'আলে ইবরাহীম'-এর মধ্যে শামিল রয়েছেন। অনুরূপ : وَأَغْرَقْنَا آلَ فِرْعَوْنَ এবং أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ আয়াতদ্বয়ে স্বয়ং ফেরআউনও 'আলে ফেরআউন' শব্দের আওতাভুক্ত।

মোদ্দাকথা, উক্ত হাদীসদ্বয়ে দরূদ শরীফের যে সব শব্দমালা এসেছে, তাতে সামান্য তারতম্য কেবল শাব্দিক দিক থেকে রয়েছে, এজন্য উলামা-ফুকাহাগণ বলেছেন, এর যে কোনটাই সালাত আদায় কালে পড়া চলে। অনুরূপ অন্যান্য সাহাবায়ে কিরামের রিওয়ায়াতে পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহে যে হাদীসগুলো বর্ণিত হতে যাচ্ছে তাতে বর্ণিত দরূদ শরীফের শব্দমালায় যে তারতম্য রয়েছে, সে সবই সালাতে পড়া চলে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান