মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩২০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
দরূদ ও সালামের বিশেষ বিশেষ কালিমাসমূহ
৩২০. হযরত উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: জিবরাঈল (আ) আমার হাতের আঙ্গুলে গুণে গুণে দরূদের এ কলিমাগুলো শিক্ষা দেন এবং বলেন যে, রব্বুল ইয্যতের পক্ষ থেকে এরূপ নাযিল হয়েছে:

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ، اَللّٰهُمَّ وَتَرَحَّمْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا تَرَحَّمْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اَللّٰهُمَّ وَتَحَنَّنْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا تَحَنَّنْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اَللّٰهُمَّ وَسَلِّمْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا سَلَّمْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

(মুসনাদে ফেরদৌস-দায়লমী, শুআবুল ঈমান-বায়হাকী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عُمَرَ رَضِي الله عَنهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " عَدَّهُنَّ فِي يَدَيَّ جِبْرِيلُ وَقَالَ جِبْرِيلُ هَكَذَا أُنْزِلَتْ مِنْ عِنْدِ رَبِّ الْعِزَّةِ:
اللهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
اللهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
اللهُمَّ وَتَرَحَّمْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا تَرَحَّمْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
اللهُمَّ وَتَحَنَّنْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا تَحَنَّنْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
اللهُمَّ وَسَلِّمْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا سَلَّمْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ (رواه البيهقى فى شعب الايمان والديلمى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ দরূদটিতে রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি আল্লাহ তা'আলার নিকট সালাত, বরকত ও তারাহহুমের দু'আর সাথে সাথে সালাম ও তাহানুনের (تحنن) দু'আ করা হয়েছে।
তাহানুন হচ্ছে প্রীতি সোহাগ ও বাৎসল্য। সালাম অর্থ সকল অনিষ্ট থেকে নিরাপদ এবং হিফাযতে থাকা।
এ হাদীস সংক্রান্ত একথাটিও উল্লেখযোগ্য যে, কানযুল উম্মালের ১ম জিলদে যেখানে এ হাদীসখানা উদ্ধৃত হয়েছে, সেখানেই সনদের দিক থেকে এর দুর্বলতার কথাটাও বলে দেয়া হয়েছে। তারপর এ কিতাবেরই দ্বিতীয় জিলদে দরূদ শরীফের এ কালিমাসমূহই হযরত আলী মুরতাযার যবানীতে মুস্তাদরক প্রণেতা আবু আবদুল্লাহ হাকিম নিশাপুরী (র)-এর 'মা'রিফতে ইলমে হাদীস'-এর বরাতে ধারাবাহিক সনদের সাথে উদ্ধৃত করেছেন। এ সনদের কোন কোন রাবীর উপর কঠোর সমালোচনাও করা হয়েছে। সাথে সাথে সুয়ূতী (র) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তা অন্যান্য তরীকা বা সূত্রেও পেয়েছেন। হযরত আনাস (রা) থেকেও প্রায় একই মর্মের একখানা হাদীস রিওয়ায়াত আছে, যা ইব্‌ন আসাকিরের কানযুল উম্মালেও বর্ণিত হযেছে। হাদীস বেত্তাগণের এটা সর্বজন স্বীকৃত মূলনীতি যে, যয়ীফ হাদীস বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হলে তা গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। বিশেষত ফাযায়েলে আমল সংক্রান্ত যয়ীফ হাদীসসমূহও আমলযোগ্য। মোল্লা আলী কারী (র) (شرح شفاء) (শরহে শিফা) গ্রন্থে হাকিমের রিওয়ায়াতকৃত হযরত আলী (রা)-এর হাদীসের রাবীদের প্রতি কঠোর সমালোচনার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন:
“চূড়ান্ত বিচারে এ হাদীসটি যয়ীফ আর উলামাগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেন যে, আমলসমূহের ফাযায়েলের ব্যাপারে যয়ীফ হাদীসও নির্ভরযোগ্য বিবেচিত হয়ে থাকে” (শারহে শিফা, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৭৩)
এসব কথার দিকে লক্ষ্য রেখেই এ হাদীসখানা যয়ীফ হওয়া সত্ত্বেও এখানে উদ্ধৃত করা হলো।

এ পর্যন্ত যেসব হাদীস, লিখিত হয়েছে, যেগুলোতে দরূদ ও সালামের কালিমাসমূহ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, এর সবগুলিই ছিল মারফু' শ্রেণীর হাদীস। অর্থাৎ এ সবগুলিই স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী ছিল। এগুলোতে দরূদ ও সালামের যে কালিমাগুলো শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, এ সবগুলোর বুনিয়াদ বা ভিত্তি ওহীর উপর প্রতিষ্ঠিত। হযরত আবূ মাসউদ আনসারীর হাদীসের বর্ণনা প্রসঙ্গে উপরে বলা হয়েছে যে, যখন হযরত বশীর ইবনে সা'আদ (রা) জিজ্ঞেস করলেন যে, আমরা আপনার প্রতি কিভাবে দরূদ প্রেরণ করবো, তখন তিনি অনেকক্ষণ ধরে নিরুত্তর ছিলেন। এ সময় তাঁর কাছে ওহী আসে এবং তিনি দরূদে ইবরাহীমী শিক্ষা দেন। এর দ্বারা জানা গেল যে, দরূদ শরীফের ব্যাপারে তিনি মৌল নির্দেশনা ওহী থেকেই লাভ করেছিলেন। এর ভিত্তিতে বলা যায় যে, দরূদ ও সালামের যে সব কালিমা সময় সময় তিনি শিক্ষা দিয়েছেন সেগুলো ওহী ভিত্তিক। পক্ষান্তরে বিভিন্ন সাহাবায়ে কেরাম এবং বুযুর্গানে দীন থেকে যে সব দরূদ বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোতে সে বৈশিষ্ট্যটি বিদ্যমান নেই এবং সেগুলোর ফযীলত হুযুর ﷺ-এর শিক্ষা দেওয়া দরূদসমূহের সমকক্ষ নয়; যদিও-বা শাব্দিক দিক থেকে এবং অর্থের দিক থেকে এগুলোও বেশ উঁচু দরের এবং এগুলোর মকবুলিয়তের ব্যাপারেও কোন সন্দেহ নেই। ঐ পর্যায়ের দু'খানা দরূদ নিম্নে দেওয়া হচ্ছে। এর একখানা ফকীহুল উম্মত হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)-এর যবানীতে হাদীসের কিতাবসমূহে উদ্ধৃত হয়েছে এবং অপরখানা হযরত আলী মুরতাযা (র)-এর যবানীতে বর্ণিত এবং এ দু'খানা দরূদের দ্বারাই এ প্রসঙ্গের ইতি টানছি।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান