মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
খাতামুন নাবিয়্যীন হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) এর আনীত দ্বীন ও শরী‘আত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে, এতে মানব জীবনের প্রতিটি শাখার ব্যাপারেই সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মা‘আরিফুল হাদীস সিরিজের পূর্ববর্তী পাঁচটি খণ্ডে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যেসব হাদীস ও বাণী পেশ করা হয়েছে, এগুলোর সম্পর্ক হয়ত আকীদা-বিশ্বাসের সাথে ছিল অথবা নৈতিকতা, প্রেরণা এবং অন্তর ও আত্মার বিভিন্ন অবস্থার সাথে অথবা তাহারাত, (তথা পাক পবিত্রতা) নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি ইবাদত এবং যিকর ও দু‘আর সাথে ছিল। এবার ঐসব হাদীসের আলোচনা শুরু করা হচ্ছে, যেগুলোর সম্পর্ক সামাজিক অধিকার ও শিষ্টাচার এবং আর্থিক আদান-প্রদানের সাথে। এগুলোর দ্বারা জানা যাবে যে, আমরা আমাদের সগোত্রীয়, বন্ধু-বান্ধব, ছোট, বড়, আপন-পর জীবন চলার পথে যাদের সাথে আমাদের পরিচয়, সহাবস্থান, লেন-দেন ইত্যাদি হয়, তাদের সাথে কি আচরণ করব এবং একজনের উপর অন্য জনের কি হক ও দাবী রয়েছে। অনুরূপভাবে লেন-দেন ক্রয়-বিক্রয়, কর্জ ও আমানত, ব্যবসা ও কৃষিকাজ, শ্রম ও হস্তশিল্প, শিল্প প্রতিষ্ঠা ও ইজারা এবং এ ধরনের অন্যান্য আর্থিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে আল্লাহ ও রাসূলের কি বিধান রয়েছে এবং এগুলোর কোন পদ্ধতিটি বৈধ আর কোটি অবৈধ।
সামাজিক আচরণ ও পারস্পরিক আদান-প্রদানের বিশেষ গুরুত্ব
এ দু'টি অধ্যায় (অর্থাৎ, আচরণ ও লেন-দেন) এ দৃষ্টিকোণ থেকে শরী‘আত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যে, এগুলোর মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত দিকনির্দেশনা ও প্রবৃত্তির কামনা এবং শরী‘আত বিধান ও পার্থিব স্বার্থ ও লাভের দ্বন্দ্ব ইবাদত ইত্যাদি অন্যান্য সকল অধ্যায়ের চেয়ে বেশী হয়ে থাকে। এজন্য আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য এবং তাঁর রাসূল ও শরী‘আত অনুসরণের যেমন পরীক্ষা এসব ময়দানে হয়ে থাকে, অন্য কোন ময়দান ও ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। আর এটাই ঐ জিনিস, যার কারণে ফিরিশতাদের উপর মানবজাতির এক ধরনের মর্যাদা অর্জিত হয়েছে। অন্যথায় একথা স্পষ্ট যে, ঈমান-ইয়াকীন ও সার্বক্ষণিক যিকর ও ইবাদত এবং আত্মার কমনীয়তা ও পবিত্রতায় মানুষ ফিরিশতাদের সমকক্ষও হতে পারে না।
সামাজিক আচার-আচরণ সম্পর্কীয় বিধান ও দিকনির্দেশনা
এই ভূমিকার পর আমরা প্রথমে সামাজিক আচরণ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ পেশ করছি। বিয়ে-শাদী, তালাক, ইদ্দত, ভরণ-পোষণ ইত্যাদির সাথে সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সামাজিক আচরণের বিধান ও দিকনির্দেশনার ধারা সন্তান জন্ম গ্রহণ থেকেই শুরু হয়ে যায়। এ জন্য আমরা ঐসব হাদীস দ্বারাই এ প্রসঙ্গের সূচনা করছি, যেগুলোর মধ্যে সন্তান জন্ম গ্রহণ সম্পর্কেই দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বলে দেওয়া হয়েছে যে, নবজাতকের ব্যাপারে পিতামাতার কি কি দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
পিতামাতার প্রাথমিক দায়িত্বসমূহ: নবজাতকের কানে আযান
সামাজিক আচরণ ও পারস্পরিক আদান-প্রদানের বিশেষ গুরুত্ব
এ দু'টি অধ্যায় (অর্থাৎ, আচরণ ও লেন-দেন) এ দৃষ্টিকোণ থেকে শরী‘আত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যে, এগুলোর মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত দিকনির্দেশনা ও প্রবৃত্তির কামনা এবং শরী‘আত বিধান ও পার্থিব স্বার্থ ও লাভের দ্বন্দ্ব ইবাদত ইত্যাদি অন্যান্য সকল অধ্যায়ের চেয়ে বেশী হয়ে থাকে। এজন্য আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য এবং তাঁর রাসূল ও শরী‘আত অনুসরণের যেমন পরীক্ষা এসব ময়দানে হয়ে থাকে, অন্য কোন ময়দান ও ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। আর এটাই ঐ জিনিস, যার কারণে ফিরিশতাদের উপর মানবজাতির এক ধরনের মর্যাদা অর্জিত হয়েছে। অন্যথায় একথা স্পষ্ট যে, ঈমান-ইয়াকীন ও সার্বক্ষণিক যিকর ও ইবাদত এবং আত্মার কমনীয়তা ও পবিত্রতায় মানুষ ফিরিশতাদের সমকক্ষও হতে পারে না।
সামাজিক আচার-আচরণ সম্পর্কীয় বিধান ও দিকনির্দেশনা
এই ভূমিকার পর আমরা প্রথমে সামাজিক আচরণ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ পেশ করছি। বিয়ে-শাদী, তালাক, ইদ্দত, ভরণ-পোষণ ইত্যাদির সাথে সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সামাজিক আচরণের বিধান ও দিকনির্দেশনার ধারা সন্তান জন্ম গ্রহণ থেকেই শুরু হয়ে যায়। এ জন্য আমরা ঐসব হাদীস দ্বারাই এ প্রসঙ্গের সূচনা করছি, যেগুলোর মধ্যে সন্তান জন্ম গ্রহণ সম্পর্কেই দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বলে দেওয়া হয়েছে যে, নবজাতকের ব্যাপারে পিতামাতার কি কি দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
পিতামাতার প্রাথমিক দায়িত্বসমূহ: নবজাতকের কানে আযান
১. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আযাদকৃত গোলাম হযরত আবু রাফি রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে (স্বীয় নাতি) হযরত হাসান ইবনে আলীর কানে নামাযের আযানের মত আযান দিতে দেখেছি- যখন (তাঁর কন্যা) ফাতিমা তাকে প্রসব করলেন। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَذَّنَ فِي أُذُنِ الحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ حِينَ وَلَدَتْهُ فَاطِمَةُ بِالصَّلاَةِ. (رواه الترمذى وابوداؤد)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আবু রাফি রাযি.-এর এ হাদীসে হযরত হাসানের কানে কেবল আযান দেওয়ার উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু অপর এক হাদীস থেকে- যা কানযুল উম্মালে মুসনাদে আবু ইয়ালার বরাতে হযরত হুসাইন ইবনে আলী রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, বুঝা যায় যে, হুযুর (ﷺ) নবজাতকের ডান কানে আযান ও বাম কানে ইকামত দেওয়ার শিক্ষা ও উৎসাহ দিয়েছেন। সাথে সাথে এই বরকত ও প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন যে, এর কারণে সন্তান এক ধরনের রোগ থেকে নিরাপদ থাকে- (যা শয়তানের প্রভাবের কারণেও হয়।)
এসব হাদীস থেকে জানা গেল যে, পরিবারের লোকদের উপর নবজাতকের প্রথম হক ও অধিকার এই যে, সর্বাগ্রে তার কানকে এবং কানের মাধ্যমে তার মন-মস্তিষ্ককে আল্লাহর নাম ও তাঁর তওহীদ এবং ঈমান ও নামাযের দাওয়াতের সাথে পরিচিত করে তুলতে হবে। এর সর্বোত্তম পদ্ধতি এটাই হতে পারে যে, তার কানে আযান ও ইকামতের বাক্যগুলো শুনিয়ে দেওয়া হবে। আযান ও ইকামতের মধ্যে সত্য দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা ও আহ্বান অত্যন্ত ফলোদ্দীপক পদ্ধতিতে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এ দু'টি জিনিসের এই তাছীর ও প্রভাব বিভিন্ন হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে যে, এর কারণে শয়তান দূরে পালিয়ে যায়। এ জন্য এটা সন্তানের হেফাযতেরও একটি তদবীর ও প্রক্রিয়া।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জন্মের সময় নবজাতক মুসলমান সন্তানের কানে আযান ও ইকামত দেওয়ার তা'লীম দিয়েছেন। আর যখন হায়াত শেষে মৃত্যু এসে যায়, তখন তাকে গোসল দিয়ে এবং কাফন পরিয়ে তার জানাযার নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এভাবে তিনি যেন একথা জানিয়ে দিয়েছেন যে, মু'মিনের জীবন আযান ও নামাযের মধ্যবর্তী সময়ের জীবন। আর এ জীবন এভাবে কাটাতে হবে, যেভাবে আযানের পর নামাযের অপেক্ষা ও এর প্রস্তুতিতে সময় কাটে। তাছাড়া এ কথাও বুঝা যায় যে, মুসলমান সন্তানের প্রথম হক ও অধিকার এই যে, জন্মের সাথে সাথেই তার কানে আযান দিতে হবে, আর সর্বশেষ হক এই যে, তার জানাযার নামায পড়তে হবে।
এসব হাদীস থেকে জানা গেল যে, পরিবারের লোকদের উপর নবজাতকের প্রথম হক ও অধিকার এই যে, সর্বাগ্রে তার কানকে এবং কানের মাধ্যমে তার মন-মস্তিষ্ককে আল্লাহর নাম ও তাঁর তওহীদ এবং ঈমান ও নামাযের দাওয়াতের সাথে পরিচিত করে তুলতে হবে। এর সর্বোত্তম পদ্ধতি এটাই হতে পারে যে, তার কানে আযান ও ইকামতের বাক্যগুলো শুনিয়ে দেওয়া হবে। আযান ও ইকামতের মধ্যে সত্য দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা ও আহ্বান অত্যন্ত ফলোদ্দীপক পদ্ধতিতে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এ দু'টি জিনিসের এই তাছীর ও প্রভাব বিভিন্ন হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে যে, এর কারণে শয়তান দূরে পালিয়ে যায়। এ জন্য এটা সন্তানের হেফাযতেরও একটি তদবীর ও প্রক্রিয়া।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জন্মের সময় নবজাতক মুসলমান সন্তানের কানে আযান ও ইকামত দেওয়ার তা'লীম দিয়েছেন। আর যখন হায়াত শেষে মৃত্যু এসে যায়, তখন তাকে গোসল দিয়ে এবং কাফন পরিয়ে তার জানাযার নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এভাবে তিনি যেন একথা জানিয়ে দিয়েছেন যে, মু'মিনের জীবন আযান ও নামাযের মধ্যবর্তী সময়ের জীবন। আর এ জীবন এভাবে কাটাতে হবে, যেভাবে আযানের পর নামাযের অপেক্ষা ও এর প্রস্তুতিতে সময় কাটে। তাছাড়া এ কথাও বুঝা যায় যে, মুসলমান সন্তানের প্রথম হক ও অধিকার এই যে, জন্মের সাথে সাথেই তার কানে আযান দিতে হবে, আর সর্বশেষ হক এই যে, তার জানাযার নামায পড়তে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)