মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৯২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
দাস-দাসীদের ব্যাপারে হুযুর (ﷺ)-এর অন্তিম ওসিয়্যত
৯২. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর (মৃত্যুপূর্ব) শেষ কথা এই ছিল: নামাযের প্রতি যত্নবান থাক, নামাযের গুরুত্ব দাও, আর নিজের দাস-দাসীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে চল। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عن علىٍّ رضى الله عنه قال كان آخر كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم الصَّلاة الصَّلاة، اتقوا الله فيما ملكت أيمانكم. (سنن ابی داؤد)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, এ দুনিয়া থেকে এবং আপন উম্মত থেকে চির বিদায়ের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মতকে বিশেষভাবে দু'টি বিষয়ের তাকীদ ও ওসিয়্যত করেছিলেন। একটি এই যে, নামাযের প্রতি যত্নবান থাকবে, এতে যেন উদাসীনতা ও ত্রুটি না হয়। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং বান্দার উপর আল্লাহর সবচেয়ে বড় হক। দ্বিতীয়টি এই যে, দাস-দাসীদের সাথে আচরণের সময় ঐ মহা প্রতাপশালী আল্লাহকে ভয় করবে, যার আদালতে সবাইকে হাযির হতে হবে এবং মযলুমকে যালেম থেকে বদলা দেওয়া হবে। দাস-দাসী ও অধীনস্থদের বেলায় এটা কত বড় মর্যাদার কথা যে, রহমতের নবী (ﷺ) এ দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সর্বশেষ বাক্য আল্লাহর হকের সাথে তাদের হক আদায় ও তাদের সাথে উত্তম আচরণের ওসিয়্যত করেছেন।

এ হাদীস অনুযায়ী হুযুর (ﷺ)-এর মুখ থেকে সর্বশেষ যে বাক্য উচ্চারিত হয়েছিল, সেটা ছিল و(اتقوا الله فيما) ملكت أيمانكم আর হযরত আয়েশা রাযি.-এর এক বর্ণনা দ্বারা যা বুখারী শরীফেও বর্ণিত হয়েছে, জানা যায় যে, সর্বশেষ বাক্য যা হুযুর (ﷺ)-এর মুখে উচ্চারিত হয়েছিল, সেটা ছিল «اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الْأَعْلَى» অর্থাৎ, হে আল্লাহ! মহান বন্ধু! হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এ দু'টি হাদীসের মধ্যে এভাবে সমন্বয় বিধান করেছেন যে, উম্মতকে সম্বোধন করে তিনি ওসিয়্যত হিসাবে শেষকথা তো সেটাই বলেছিলেন, যা হযরত আলী রাযি.-এর উপরের হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে। আর এরপরে আল্লাহ তা'আলাকে সম্বোধন করে শেষ বাক্য ওটাই বলেছিলেন, যা হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণনা করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান