মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ১০১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ইসলামী ভ্রাতৃত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচরণের ব্যাপারে নির্দেশাবলী
১০১. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রত্যেক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। তাই সে নিজেও তার উপর যুলুম করবে না এবং অন্যের যুলুমের পাত্র হওয়ার জন্য তাকে অসহায় ছেড়ে দিবে না, আর সে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করবে না। (হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, এখানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপন বক্ষের দিকে তিনবার ইশারা করে বললেন,) তাকওয়া এখানে থাকে। কোন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলমান ভাইকে হেয় প্রতিপন্ন করে। প্রতিটি মুসলমানের রক্ত, সম্পদ ও সম্ভ্রম অন্য মুসলমানের উপর হারাম। (অর্থাৎ, এগুলোর উপর হস্তক্ষেপ করা হারাম।) -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لاَ يَظْلِمُهُ وَلاَ يَخْذُلُهُ وَلاَ يَحْقِرُهُ. التَّقْوَى هَاهُنَا. وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ: بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ. (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ হেদায়াত ও উপদেশ দেওয়ার সাথে যে, কোন মুসলমান অন্য মুসলমানকে ছোট ও হেয় জ্ঞান করবে না- নিজের বক্ষের দিকে তিনবার ইশারা করে যে বলেছেন, তাকওয়া এখানে থাকে, এর উদ্দেশ্য ও মর্ম বুঝার জন্য এটা জেনে নেওয়া চাই যে, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট বড় হওয়া, ছোট হওয়া, মান-অপমান, শ্রেষ্ঠত্ব ও নিকৃষ্টতার মাপকাঠি হচ্ছে তাকওয়া ও খোদাভীতি। কুরআন পাকে বলা হয়েছে : اِنَّ اَکۡرَمَکُمۡ عِنۡدَ اللّٰہِ اَتۡقٰکُم অর্থাৎ, আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই অধিকতর মর্যাদার অধিকারী, যে তোমাদের মধ্যে তাকওয়ায় অগ্রগামী। আর তাকওয়া মূলতঃ আল্লাহর ভয় ও আখেরাতের হিসাব-নিকাশের চিন্তার নাম। আর একথাও স্পষ্ট যে, এটা অন্তরের অভ্যন্তরের একটি গোপন অবস্থা। এটা এমন কোন জিনিস নয় যে, অন্য কেউ চোখে দেখে বুঝতে পারে যে, এ ব্যক্তির মধ্যে তাকওয়া আছে বা নেই। এ জন্য কোন ঈমানদারের এ অধিকার নেই যে, সে অন্য কোন ঈমানদারকে ছোট মনে করবে ও তাকে অবজ্ঞা করবে। কে জানে, যাকে তুমি নিজের বাহ্যিক জ্ঞান ও লক্ষণাদি দ্বারা অবজ্ঞার পাত্র মনে করছ, তার অভ্যন্তরে রয়েছে তাকওয়া, আর এ কারণে সে আল্লাহর কাছে সম্মানের পাত্র। এ জন্য কোন মুসলমানের জন্য বৈধ নয় যে, সে অন্য মুসলমানকে হেয় জ্ঞান করবে। সামনে তিনি বলেছেন, কোন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য কেবল এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে আল্লাহর কোন মুসলমান বান্দাকে ছোট মনে করবে ও তাকে হেয় জ্ঞান করবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)