মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৪১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
মু'আনাকা, (কোলাকোলি) চুম্বন ও কারো সম্মানে দাঁড়িয়ে যাওয়া
১৪১. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে শারীরিক গঠন, চরিত্র, অভ্যাস ও চাল-চলনে (তাঁর ছোট মেয়ে) হযরত ফাতিমার চেয়ে অধিক সাদৃশ্যশীল আর কাউকে দেখিনি। (অর্থাৎ, এসব বিষয়ে তিনিই ছিলেন সবার চেয়ে বেশী সাদৃশ্যপূর্ণ।) যখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে আসতেন, তখন তিনি (ভালোবাসার আবেগে) তার দিকে উঠে দাঁড়াতেন, তার হাত নিজের হাতে লুফে নিতেন ও এতে চুমু খেতেন এবং নিজের স্থানে তাঁকে বসাতেন। তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তার কাছে তশরীফ নিয়ে যেতেন, তখন তিনিও তার জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন, তার হাত ধরে এতে চুমু খেতেন এবং নিজের স্থানে তাঁকে বসাতেন। আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا كَانَ أَشْبَهَ سَمْتًا وَهَدْيًا وَدَلًّا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ فَاطِمَةَ كَانَتْ «إِذَا دَخَلَتْ عَلَيْهِ قَامَ إِلَيْهَا فَأَخَذَ بِيَدِهَا، وَقَبَّلَهَا، وَأَجْلَسَهَا فِي مَجْلِسِهِ، وَكَانَ إِذَا دَخَلَ عَلَيْهَا قَامَتْ إِلَيْهِ، فَأَخَذَتْ بِيَدِهِ فَقَبَّلَتْهُ، وَأَجْلَسَتْهُ فِي مَجْلِسِهَا» (رواه ابوداؤد)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এসব হাদীস একথার সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, ভালোবাসা ও সম্মানের অনুভূতিতে মু'আনাকা ও চুম্বন (অর্থাৎ, হাতে এবং কপালে চুমু খাওয়া) জায়েয এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে প্রমাণিত। এ জন্য হযরত আনাস রাযি.-এর ঐ হাদীসকে যার মধ্যে মু'আনাকা ও চুম্বনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এর উপরই প্রয়োগ করতে হবে যে, এ নিষেধাজ্ঞার হুকুমটি ঐসব ক্ষেত্রের জন্য, যখন বুক মিলানো ও চুম্বনের মধ্যে কোন অনিষ্ট অথবা এর সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে।
হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণিত হাদীসটিতে হযরত ফাতিমার আগমনে হুযুর (ﷺ)-এর দাঁড়িয়ে যাওয়ার এবং হুযুর (ﷺ)-এর শুভাগমনে হযরত ফাতিমা রাযি.-এর দাঁড়িয়ে যাওয়ার উল্লেখ রয়েছে। এটা একথার প্রমাণ যে, ভালোবাসা, সম্মান ও ভক্তি প্রদর্শনের আবেগে নিজের কোন প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তির জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়াও বৈধ। কিন্তু কোন কোন হাদীস দ্বারা এটাও বুঝা যায় যে, হুযুর (ﷺ)-এর আগমনে যদি সাহাবায়ে কেরাম কখনো দাঁড়িয়ে যেতেন, তাহলে তিনি এটা অপছন্দ করতেন এবং কিছুটা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতেন। সম্ভবত এর কারণ ছিল তাঁর স্বভাবসুলভ বিনয় ও নম্রতা।
হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণিত হাদীসটিতে হযরত ফাতিমার আগমনে হুযুর (ﷺ)-এর দাঁড়িয়ে যাওয়ার এবং হুযুর (ﷺ)-এর শুভাগমনে হযরত ফাতিমা রাযি.-এর দাঁড়িয়ে যাওয়ার উল্লেখ রয়েছে। এটা একথার প্রমাণ যে, ভালোবাসা, সম্মান ও ভক্তি প্রদর্শনের আবেগে নিজের কোন প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তির জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়াও বৈধ। কিন্তু কোন কোন হাদীস দ্বারা এটাও বুঝা যায় যে, হুযুর (ﷺ)-এর আগমনে যদি সাহাবায়ে কেরাম কখনো দাঁড়িয়ে যেতেন, তাহলে তিনি এটা অপছন্দ করতেন এবং কিছুটা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতেন। সম্ভবত এর কারণ ছিল তাঁর স্বভাবসুলভ বিনয় ও নম্রতা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)