মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৭৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
কবিতা ও কাব্যচর্চা

যদিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পবিত্র যুগে এবং এর পূর্বেও কবিতা ও কাব্যচর্চা ব্যাপক ছিল এবং এমন মানুষ খুব কমই ছিল, যারা এর প্রতি অনুরাগী ছিল না। কিন্তু স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আদৌ কোন সম্পর্ক ছিল না; বরং কুরআন মজীদ থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা বিশেষ হেকমতের অধীনে তাঁকে এ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখেছিলেন। সূরা ইয়াসীনে বলা হয়েছে: وَمَا عَلَّمۡنٰہُ الشِّعۡرَ وَمَا یَنۡۢبَغِیۡ لَہٗ অর্থাৎ, আমি তাঁকে কবিতা শিখাইনি এবং এটা তাঁর জন্য শোভনীয়ও নয়। তাছাড়া সে সময় যে ধরনের কাব্যচর্চার প্রচলন ছিল এবং কবিরা সাধারণত যে চরিত্র ও কর্মের অধিকারী হত, কুরআন মজীদে এর নিন্দাবাদ করা হয়েছে। এরশাদ হয়েছে: وَالشُّعَرَآءُ یَتَّبِعُہُمُ الۡغَاوٗنَ. اَلَمۡ تَرَ اَنَّہُمۡ فِیۡ کُلِّ وَادٍ یَّہِیۡمُوۡنَ. وَاَنَّہُمۡ یَقُوۡلُوۡنَ مَا لَا یَفۡعَلُوۡنَ অর্থাৎ, বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে। আপনি কি দেখেন না যে, তারা উদভ্রান্ত হয়ে প্রত্যেক উপত্যকায় ঘুরে বেড়ায়। আর তারা যা করে না তাই বলে। -সূরা শুআরা
কোন কোন সাহাবী কবিতা ও কাব্যচর্চা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, এটা কি সাধারণভাবেই নিন্দনীয়। তিনি উত্তরে বললেন, না, এমন নয়; বরং কবিতার বিষয়বস্তু যদি ভালো হয়, তাহলে সেটা ভালো, আর যদি মন্দ হয়, তাহলে সেটাও মন্দ। আর কোন কোন ক্ষেত্রে তিনি এও বলেছেন যে, কোন কোন কবিতা বড়ই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে থাকে। এবার এ ধারার কিছু হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন।
১৭৪. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে কবিতার আলোচনা উঠলে তিনি বললেন, এটাও এক ধরনের কথা ও উক্তি। এর মধ্যে যেটা ভালো সেটা ভালো, আর যেটা মন্দ সেটা মন্দ। দারাকুতনী
ইমাম শাফেয়ী এ হাদীসটিই হযরত উরওয়া থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: ذُكِرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الشِّعْرُ , فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هُوَ كَلَامٌ فَحَسَنَهُ حَسَنٌ , وَقَبِيحُهُ قَبِيحٌ». (رواه الدار قطنى وروى الشافعى عن عودة مرسلا)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান