মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৫২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
স্ত্রীদের সাথে ব্যবহারে সমতা ও ইনসাফ সম্পর্কে

যদি কোন ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকে তবে তার জন্য অপরিহার্য অবশ্য কর্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে যে, সে স্ত্রীদের সাথে একই রকম আচরণ করবে। কারো প্রতি সামান্যতম অবিচার হবে না। কুরআন মজীদের সূরা নিসায় যে আয়াতে চার স্ত্রী পর্যন্ত গ্রহণের স্পষ্ট অনুমতি প্রদান করা হয়েছে সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
{فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً } [النساء: 3]
অর্থাৎ যদি ভোমরা একাধিক স্ত্রীদের বিবাহের অবস্থায় ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে না পার আর সবার সাথে একই প্রকার ব্যবহার করতে না পার তবে এক স্ত্রীর ওপরই যথেষ্ট কর, একাধিক বিবাহ করো না। স্ত্রীদের সাথে বেইনসাফকারী স্বামীদের আখিরাতে যে বিশেষ অপমানজনক আযাব হবে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তা-ও উল্লেখ করেছেন, যেন মানুষ এ ব্যাপারে ভয় করে। তবে হৃদয়ের আকর্ষণের ওপর মানুষের হাত নেই। এ বিষয়ে মানুষ অপারগ, অবশ্য কর্মে ও ব্যবহারে পার্থক্য না হওয়া চাই।
৩৫২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন কোন মানুষের দুই (বা ততোধিক) স্ত্রী থাকে আর সে তাদের মধ্যে সমতা বিধান করে না, কিয়ামতের দিন দেহের এক দিক পতিত অবস্থায় সে উপস্থিত হবে। (তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا كَانَ عِنْدَ الرَّجُلِ امْرَأَتَانِ فَلَمْ يَعْدِلْ بَيْنَهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ سَاقِطٌ. (رواه الترمذى وابوداؤد والنسائى وابن ماجه والدارمى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

দুনিয়ার গুনাহ আর আখিরাতের শাস্তির মধ্যে যে সাদৃশ্য ও সম্বন্ধ হবে, এটাও তার এক দৃষ্টান্ত। যে কর্মে ও আচরণে এক স্ত্রীর প্রতি ধাবিত হত, কিয়ামতের দিন সে এমতাবস্থায় উঠবে যে, তার দেহের একদিক পতিত থাকবে। সব লোক তাকে এ অবস্থায় দেখতে পাবে। আল্লাহর আশ্রয় চাই, কি বিশ্রী দৃশ্য হবে আর কত অপমানজনক হবে সে অবস্থা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান