মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৬২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
অজ্ঞানের তালাক
৩৬২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, প্রতিটি তালাকই বৈধ তবে মানসিক ভারসাম্যহীন ও অজ্ঞানের তালাক ছাড়া। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كُلُّ طَلاَقٍ جَائِزٌ، إِلاَّ طَلاَقَ الْمَعْتُوهِ الْمَغْلُوبِ عَلَى عَقْلِهِ. (رواه الترمذى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এখনো এরূপ হয়ে থাকে যে, কোন রোগ-ব্যাধি বা দুর্বিপাকের কারণে মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি ভারসাম্যহীন ও লোপ পেয়ে যায়। আর সে এমন সব কথা বলতে থাকে যা সঠিক জ্ঞান-বুদ্ধির সময়ে বলে না। অথচ নিজের কথা সম্বন্ধে তার পূর্ণ অনুভূতিও থাকে না। এরূপ ব্যক্তিকে معتوه তথা বুদ্ধি লোপপ্রাপ্ত বলা হয়। সুতরাং এরূপ ব্যক্তি যদি এ অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয় তবে তা পতিত হবে না। যেভাবে মাতাল ও পাগলের তালাক পতিত বলে গৃহীত নয়।

অন্য এক হাদীসে বলা হয়েছে, শরীয়তে তিন ব্যক্তি مرفوع العقل (বুদ্ধি বর্জিত) হিসাবে গণ্য। অর্থাৎ তাদের কোন কথা ও কাজ ধর্তব্য হিসাবে গণ্য করা হবে না এবং তাদের ওপর শরীয়তের নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না। ১. নিদ্রিত ব্যক্তি, ২. অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু ও ৩. জ্ঞান লুপ্ত ব্যক্তি। এতে বুঝা গেল যে, কোন ব্যক্তি যদি নিদ্রিতাবস্থায় কথা বলে এবং সে সময় স্ত্রীকে তালাক দেয় তবে এ তালাক পতিত হবে না। এভাবে ছোট শিশু ও জ্ঞান লুপ্ত ব্যক্তির তালাকও পতিত হবে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান