মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৬৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ইদ্দত

ইসলামী শরীয়তে তালাকপ্রাপ্তা নারীর জন্য ইদ্দতের নিয়মও নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে স্ত্রীকে তার স্বামী তালাক দিয়ে দেয় সে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ (যা স্বয়ং কুরআন মজীদে বর্ণনা করা হয়েছে) এই: যদি সেই নারী ঋতু বয়সের হয়ে থাকে তবে তার পূর্ণ তিন ঋতু অতিক্রান্ত হবে। আর যদি কম অথবা বেশি বয়সের কারণে ঋতু না হয় এবং গর্ভবতীও না হয় তবে তিন মাস। আর যদি গর্ভাবস্থায় থাকে তবে ইদ্দতের সময় সন্তান প্রসব পর্যন্ত- কম হোক বা বেশি।

ইদ্দতের এই প্রণালীতে বহু হিকমত ও উপযোগিতা রয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ উপযোগিতা এই যে, এর দ্বারা বৈবাহিক সম্পর্কের মর্যাদা ও পবিত্রতা প্রকাশ পায়। যদি ইদ্দতের নিয়ম না থাকে এবং নারীর এই অনুমতি থাকে যে, স্বামী তালাক দেবার পর সে তার ইচ্ছানুযায়ী তৎক্ষণাৎ দ্বিতীয় বিয়ে সংগঠিত করতে পারবে তবে অবশ্যই এটা বিয়ের মহান মর্যাদার পরিপন্থী হবে এবং বিয়ে 'শিশুদের খেলনা'য় পরিণত হবে।

দ্বিতীয় উপযোগিতা, বিশেষ করে রিজঈ তালাকের অবস্থায় ইদ্দতের এই সময়ে স্বামীর জন্য সম্ভব হবে যে, বিষয়টির ওপর সে পূর্ণভাবে চিন্তাভাবনা করে রিজ'আত করে নেবে এবং পুনরায় উভয়ে স্বামী-স্ত্রী হয়ে জীবন অতিবাহিত করতে থাকবে। আল্লাহ ও রাসূলের এ কথাই অধিক পসন্দনীয়। এজন্য রিজঈ তালাকের ইদ্দত পালনের মধ্যে নারীর জন্য উত্তম হচ্ছে সাজগোজ ও বেশবিন্যাস-এর প্রতি এরূপ লক্ষ্য রাখবে এবং তার আচরণ এরূপ সুন্দর করবে যে, স্বামীর স্বভাব পুনরায় তার প্রতি ধাবিত হবে এবং সে রিজাআত করে নেবে।

আর বাইন তালাক (মুগাল্লাজা নয়)-এর অবস্থায় যদিও রিজ'আত-এর তো সম্ভাবনা থাকে না, তবে ইদ্দতের মধ্যে নারী দ্বিতীয় বিয়ে না করার কারণে এ কথার অধিক সম্ভাবনা থাকে যে, উভয়ে পরস্পর সম্মত হয়ে পুনরায় বিয়ের মাধ্যমে নিজেদের ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্ক আবার সংস্থাপিত করবে।

তৃতীয় এক উপযোগিতা এটাও যে, ইদ্দতের নিয়মের কারণে নারীর গর্তে তালাকোত্তর জন্মগ্রহণকারী সন্তানের বংশধারা সম্পর্কে কারো কোন প্রকার সংশয় ও সন্দেহের অবকাশ থাকে না।

বস্তুত ইদ্দতের নিয়ম-নীতির এ ক’টি প্রকাশ্য রহস্য ও উপযোগিতা। সম্ভবত এ কারণেই অধিকাংশ সভ্য জাতিসমূহের নিয়ম-নীতিতে স্বামী-স্ত্রীর পৃথক হওয়ার অবস্থায় কোন না কোন আকৃতিতে ইদ্দতের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে কোন কোন জাতির নিয়ম-নীতিতে এই ইদ্দত বহু দীর্ঘ রাখা হয়েছে যা রেজয়ী মহিলার জন্য সাধ্যাতীত কষ্ট স্বরূপ। সামনে উল্লিখিতব্য হাদীস থেকে জানা যায় যে, ইদ্দতের নিয়ম তখন নাযিল হয়েছিল, যখন জনৈক মহিলা সাহাবী আসমা বিনতে ইয়াযীদ বিন সাকান আনসারীকে তাঁর স্বামী তালাক দিয়েছিলেন।
৩৬৪. হযরত আসমা বিনতি ইয়াযীদ বিন সাকান আল আনসারীয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে তাঁর তালাক হয়েছিল। তখন তালাকপ্রাপ্তা নারী যার সম্পর্কে তালাকের ইদ্দতের বিধান নাযিল হয়। (আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ بْنِ السَّكَنِ الْأَنْصَارِيَّةِ، أَنَّهَا «طُلِّقَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَمْ يَكُنْ لِلْمُطَلَّقَةِ عِدَّةٌ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ الْعِدَّةِ لِلطَّلَاقِ، فَكَانَتْ أَوَّلَ مَنْ أُنْزِلَتْ فِيهَا الْعِدَّةُ لِلْمُطَلَّقَاتِ» (رواه ابوداؤد)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসে ইদ্দত সম্পর্কিত যে আয়াত নাযিলের উল্লেখ রয়েছে তা স্পষ্টত সুরা বাকারার এ আয়াত:
وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ… الآية.
এ আয়াতে সেই সব তালাকপ্রাপ্তা নারীদের ইদ্দতের হুকুম বর্ণনা করা হয়েছ যাদের মাসিক হয়। আর কম বয়স অথবা বেশী বয়সের কারণে যাদের মাসিক হয় না অথবা যারা অন্তসত্ত্বা তাদের ইদ্দত সূরা তালাকের আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান