মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৪০৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
সুদ
৪০৭. হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সুদ যদিও বর্ধিত হয় তবে পরিণামে ইহা কমের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। (আহমদ, ইবনে মাজাহ, শুআবুল ঈমান)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: « إِنَّ الرِّبَا وَإِنْ كَثُرَ، فَإِنَّ عَاقِبَتَهُ تَصِيرُ إِلَى قُلٍّ» (رواه احمد وابن ماجه والبيهقى فى شعب الايمان)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসের শব্দ عاقبته দ্বারা যদি পরকালীন পরিণতি অর্থ গ্রহণ করা হয় তবে একথা সুস্পষ্ট যে, কোন ঈমানদার ব্যক্তির এতে সন্দেহ হবে না। আখিরাতে পৌঁছে আমরা সবাই দেখতে সক্ষম হব যে, যে সব লোক সুদের মাধ্যমে নিজের সম্পদ বৃদ্ধি করেছে আর এ জগতে সে লক্ষপতি, কোটিপতি হয়েছে, আখিরাতে সে একেবারে নিঃস্ব হয়ে পাই পাই-এর মুখাপেক্ষী হবে। আর তাদের এ সম্পদই তাদের জন্য মুসীবত ও শাস্তির কারণ হবে। যেভাবে আল্লাহ তা'আলা কুরআন মজীদে এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ স্বীয় বাণী দ্বারা অবহিত করেছেন।

আর যদি হাদীসের অর্থ এই গ্রহণ করা হয় যে, সুদের দ্বারা সম্পদ যতই বৃদ্ধি পাক না কেন অবশেষে দুনিয়াতেও তাতে ক্ষয় আসবে। তবে বহির্দৃষ্টি সম্পন্নদের তো এতে সন্দেহ ও কথা থাকতে পারে, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা যাদের সত্য দর্শনের চোখ দিয়েছেন এতেও তাদের কোন প্রকার সংশয় হবে না। এরূপ অনেক ঘটনা বহুল প্রসিদ্ধ যে, কোন ব্যক্তি সুদের মাধ্যমে নিজের সম্পদ বাড়াতে বাড়াতে সে স্বীয় যুগের কারূণে পরিণত হয়। এরপর ঐ ব্যক্তির জীবনেই এবং কখনো তার পরে কোন এমন বিপদ-আপদ পতিত হয় যার ফলে গোটা হিসাব একাকার হয়ে যায়। আর কখনো সেই লক্ষপতি ও কোটিপতি দেউলিয়া ও মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে। একথা শতভাগ পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতালব্ধ যে, সুদখোর ব্যক্তি সত্যিকার সেই শান্তি, সম্মান ও মর্যাদা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত থাকে, যা সম্পদ অর্জনের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এ প্রেক্ষিতে এ কথা বলা খুবই সঠিক যে, কোন সুদখোর সুদী ব্যবসার মাধ্যমে যত সম্পদই অর্জন করুক সে সম্পদের সত্যিকার স্বাদ ও উপকার থেকে সর্বদা বঞ্চিতই থেকে যায়। এ হিসাবে সে সম্পদশালী হওয়া সত্ত্বেও দরিদ্র ও অভাবী। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে, يمحق الله الربوا সুদের অর্জিত সম্পদকে আল্লাহ তা'য়ালা কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রাখেন আর এতে অচিরেই ধ্বংস আসে। হযরত ইবনে মাসউদ (রা)-এর এ হাদীসে আল্লাহ তা'আলার এ বাণীর ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান