মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪১২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
সুদ
৪১২. আতা ইবনে ইয়াসার তাবেঈ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত মু'আবিয়া (রা) সোনা বা রূপার একটি পেয়ালা (অথবা জগ) অনুরূপ জাতীয় দ্রব্যের থেকে বেশি ওজনের দ্রব্যের বিনিময়ে বিক্রি করলেন। তখন হযরত আবুদ দারদা তাকে বললেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি এ জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করতেন; তবে এরূপ যে, সমান সমান হবে। হযরত মু'আবিয়া তাকে বললেন, আমিতো এটা ক্ষতিকর মনে করি না। হযরত আবুদ দারদা (খুবই অসন্তুষ্ট হয়ে) বললেন, মু'আবিয়ার ব্যাপারে কে আমাকে অক্ষম মনে করবে। তা আমি যাকে রাসুলুল্লাহ ﷺের নির্দেশ শুনাচ্ছি; আর সে আমাকে নিজের মত শুনাচ্ছে। (এরপর স্বয়ং মু'আবিয়াকে বললেন) তুমি যেখানে আছ আমি সেখানে থাকতে চাইনা। এরপর হযরত আবুদ দারদা (রা) উমর (রা)-এর নিকট মদীনায় এলেন এবং তাকে ঘটনা বললেন। তখন হযরত উমর হযরত মুয়াবিয়াকে লিখলেন, এ জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় করবেন না। সোনা-রূপা ইত্যাদি অনুরূপ জাতীয় জিনিস দ্বারা বিনিময় কেবল এ পদ্ধতিতেই বৈধ যে, উভয় দিক একই রকম এবং সমান ওজনের হবে। (মুআত্তা, নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ؛ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، بَاعَ سِقَايَةً مِنْ ذَهَبٍ، أَوْ وَرِقٍ بِأَكْثَرَ مِنْ وَزْنِهَا. فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: سَمِعْتُ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم، يَنْهَى عَنْ مِثْلِ هذَا إِلاَّ مِثْلاً بِمِثْلٍ. فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَةُ: مَا أَرَى بِمِثْلِ هذَا بَأْساً. فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: مَنْ يَعْذِرُ لِي مِنْ مُعَاوِيَةَ؟. أَنَا أُخْبِرُهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم. وَهُوَ يُخْبِرُنِي عَنْ رَأْيِهِ. لاَ أُسَاكِنُكَ بِأَرْضٍ أَنْتَ بِهَا. ثُمَّ قَدِمَ أَبُو الدَّرْدَاءِ، عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ. فَذَكَرَ لَهُ ذلِكَ. فَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، إِلَى مُعَاوِيَةَ: أَنْ لاَ يَبِيعَ ذلِكَ إِلاَّ مِثْلاً بِمِثْلٍ وَزْناً بِوَزْنٍ. (رواه مالك فى الموطا والنسائى فى سننه)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত উমর (রা)-এর শাসনামলে হযরত মু'আবিয়া (রা) সিরিয়ার গভর্নর ছিলেন। হযরত আবুদ দারদা (রা)-এর অবস্থান তথায় ছিল। সে সময়ে হযরত মু'আবিয়া সোনা অথবা রূপার তৈরি পানির এক পেয়ালা (অথবা জগ) মূল্য হিসেবে অনুরূপ জাতীয় দ্রব্য ওজনে কিছু বেশি নিয়ে বিক্রি করলেন। এবং তাতে কোন দোষ মনে করেন নি। হযরত আবুদ দারদা তাঁকে বললেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরূপ ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। নির্দেশ এরূপ যে, সোনা-রূপার কোন জিনিস যদি অনুরূপ জাতীয় জিনিসের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। তবে ওজনে কম-বেশি না হওয়া চাই। ওজন সমান সমান হবে। হযরত মু'আবিয়া (রা)-এর সম্ভবত ধারণা এই ছিল, সোনা অথবা রূপার তৈরি জিনিস (অলংকার বা পাত্র) যদি বিক্রয় করা হয় তবে তো তৈরির পারিশ্রমিক ধরে কিছু বেশি গ্রহণ করা নাজায়েয হবে না। এই ভিত্তিতে তিনি বললেন, "আমার নিকট এটাতো কোন গুনাহ নয়"। কিন্তু হয়রত আবুদ দারদা (রা) হযরত মু'আবিয়ার (রা) একথা খুবই অপসন্দ করলেন। কেননা, তিনি হুজুর ﷺ থেকে যা শুনেছিলেন তার আলোকে এ অভিমত অথবা ইজতিহাদের কোন অবকাশ আছে বলে তিনি মনে করতেন না। বস্তুত তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে সেখানের বসবাস পরিত্যাগ করে মদীনায় চলে আসেন এবং হযরত ওমর (রা)-এর নিকট ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি হযরত মু'আবিয়াকে লিখেন শরীয়তের নির্দেশ সেটাই, যা আবুদ দারদা বলেছেন। সুতরাং এ জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না।
এ বর্ণনা থেকে জানা গেল যে, 'রিবা' (সুদ)-এর দ্বিতীয় প্রকার (পরোক্ষ সুদ)-এর ব্যাপারে সাহাবা কিরাম এর মধ্যে কত কঠোরতা ছিল। আর এ বিষয়ে কারো ইজতিহাদী ভুল তাঁদের জন্য সহনীয় ছিল না।
এ বর্ণনা থেকে জানা গেল যে, 'রিবা' (সুদ)-এর দ্বিতীয় প্রকার (পরোক্ষ সুদ)-এর ব্যাপারে সাহাবা কিরাম এর মধ্যে কত কঠোরতা ছিল। আর এ বিষয়ে কারো ইজতিহাদী ভুল তাঁদের জন্য সহনীয় ছিল না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)