মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪১৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
অপারগ (অতিশয় অভাবী) থেকে ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ
এখনো মানুষ দারিদ্র্যে ও উপবাস কিংবা কোন বিপদের কারণে অথবা কোন আকস্মিক পেরেশানীতে পতিত হয়ে নিজের কোন দ্রব্য বিক্রয়ের জন্য অথবা খাদ্য দ্রব্য ইত্যাদি কোন জিনিস ক্রয় করার জন্য অতিশয় অপারগতা ও ব্যাকুল হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় কঠিন হৃদয় ব্যবসায়ী সে লোকের অপারগ ও ব্যাকুলতা দ্বারা অবৈধ ফায়দা উঠতে পারে। নিম্ন লিখিত হাদীসে এটাকেই (অপারগের বিক্রয়) বলা হয়েছে এবং এটা নিষেধ করা হয়েছে।
এখনো মানুষ দারিদ্র্যে ও উপবাস কিংবা কোন বিপদের কারণে অথবা কোন আকস্মিক পেরেশানীতে পতিত হয়ে নিজের কোন দ্রব্য বিক্রয়ের জন্য অথবা খাদ্য দ্রব্য ইত্যাদি কোন জিনিস ক্রয় করার জন্য অতিশয় অপারগতা ও ব্যাকুল হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় কঠিন হৃদয় ব্যবসায়ী সে লোকের অপারগ ও ব্যাকুলতা দ্বারা অবৈধ ফায়দা উঠতে পারে। নিম্ন লিখিত হাদীসে এটাকেই (অপারগের বিক্রয়) বলা হয়েছে এবং এটা নিষেধ করা হয়েছে।
৪১৮. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ অপারগের ক্রয় বিক্রয়, অবর্তমান দ্রব্যের বিক্রয় ও ফল পরিপূর্ণতা লাভের পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: « نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْمُضْطَرِّ، وَعَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ، وَعَنْ بَيْعِ الثَّمَرَةِ قَبْلَ أَنْ تُدْرِكَ» (رواه ابوداؤد)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
অপারগের বিক্রয়ের বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ইহা নিষিদ্ধের কারণ এই যে, এরূপ অপারগ ও অসহায় লোকের সাথে ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত ব্যবসায়িক লেন-দেন করা যাবে না। বরং ঐ ভাইয়ের সেবা ও সাহায্য করবে আলোচ্য হাদীসে দ্বিতীয় যে বিষয় নিষেধ করা হয়েছে, বাইয়ে গারার অর্থাৎ এমন জিনিসের বিক্রয়, যা বিক্রেতার হাতে বর্তমান নেই, আর তা পাওয়াও নিশ্চিত নয়। যেমন কোন বনের হরিণ, পানি অথবা সমুদ্রের মাছ এ আশায় বিক্রি করা যে, শিকার করে তা সরবরাহ করব। এটাকে বাইয়ে গারার বলে, এটা নিষেধ করা হয়েছে। কেননা, বিক্রয়যোগ্য জিনিস না বিক্রেতার নিকট মওজুদ আর না তা পাওয়া নিশ্চিত। আর যদি পাওয়াও যায়, তবে রকমের ব্যাপারে মনোমালিন্য ও মতভেদের আশংকা রয়েছে। আলোচ্য হাদীসে তৃতীয় যে দ্রব্য নিষেধ করা হয়েছে, তা পরিপূর্ণতা লাভের পূর্বে ফল ফলাদি বিক্রি করা। এর বিশ্লেষণ উপরে করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)