মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪২৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয় বাতিল করার অধিকার
ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে যদি উভয় পক্ষ (বিক্রেতা ও ক্রেতা) অথবা উভয়ের মধ্যে কোন একজন এ শর্ত আরোপ করে নেয় যে, এক অথবা দু'তিন দিন পর্যন্ত বিষয়টি বাতিল করার আমার অধিকার থাকবে।
ফিকাহ্ ও শরীয়তের পরিভাষায় এটাকে 'খিয়ারে শর্ত' বলা হয়। এ বিষয়ে হাদীসে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টির ওপর ফকীহগণের ঐকমত্য রয়েছে। ইমাম শাফিঈ (র) এবং অন্যান্য কতক ইমামের নিকট এরূপ শর্ত ও চুক্তি ছাড়াও উভয় পক্ষ কর্তৃক বিষয়টি বাতিল করার তখন পর্যন্ত অধিকার থাকে যতক্ষণ তারা উভয়ে সেই স্থানে অবস্থান করে, যেই স্থানে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু যদি কোন একজনও স্থানচ্যুত হয়ে পৃথক হয়ে যায় তবে এ অধিকার বাকি থাকবে না। এটাকে ফিকাহর পরিভাষায় 'খিয়ারে মজলিস' বলা হয়। ইমাম আবু হানীফা (র) এবং অন্যান্য কতক ইমাম খিয়ারে মজলিসের সমর্থক নন। এ বিষয়ে তাঁদের অভিমত হচ্ছে ক্রয়-বিক্রয়ের কথা-বার্তা যখন উভয় পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ মীমাংসিত হয়ে যায় এবং বেচা-কেনা চূড়ান্ত হয়ে আদান-প্রদান হয়ে যায় আর প্রথম থেকে যদি কোন পক্ষ ক্রয়-বিক্রয় করার শর্ত সংযোগ না করে তবে কোন পক্ষই এককভাবে বিষয়টি বাতিল করতে পারবে না। হ্যাঁ! পারস্পরিক সম্মতিক্রমে বিষয়টি বাতিল করা যেতে পারে, যাকে শরী'আতের পরিভাষায় ইকালা বলা হয়।
ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে যদি উভয় পক্ষ (বিক্রেতা ও ক্রেতা) অথবা উভয়ের মধ্যে কোন একজন এ শর্ত আরোপ করে নেয় যে, এক অথবা দু'তিন দিন পর্যন্ত বিষয়টি বাতিল করার আমার অধিকার থাকবে।
ফিকাহ্ ও শরীয়তের পরিভাষায় এটাকে 'খিয়ারে শর্ত' বলা হয়। এ বিষয়ে হাদীসে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টির ওপর ফকীহগণের ঐকমত্য রয়েছে। ইমাম শাফিঈ (র) এবং অন্যান্য কতক ইমামের নিকট এরূপ শর্ত ও চুক্তি ছাড়াও উভয় পক্ষ কর্তৃক বিষয়টি বাতিল করার তখন পর্যন্ত অধিকার থাকে যতক্ষণ তারা উভয়ে সেই স্থানে অবস্থান করে, যেই স্থানে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু যদি কোন একজনও স্থানচ্যুত হয়ে পৃথক হয়ে যায় তবে এ অধিকার বাকি থাকবে না। এটাকে ফিকাহর পরিভাষায় 'খিয়ারে মজলিস' বলা হয়। ইমাম আবু হানীফা (র) এবং অন্যান্য কতক ইমাম খিয়ারে মজলিসের সমর্থক নন। এ বিষয়ে তাঁদের অভিমত হচ্ছে ক্রয়-বিক্রয়ের কথা-বার্তা যখন উভয় পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ মীমাংসিত হয়ে যায় এবং বেচা-কেনা চূড়ান্ত হয়ে আদান-প্রদান হয়ে যায় আর প্রথম থেকে যদি কোন পক্ষ ক্রয়-বিক্রয় করার শর্ত সংযোগ না করে তবে কোন পক্ষই এককভাবে বিষয়টি বাতিল করতে পারবে না। হ্যাঁ! পারস্পরিক সম্মতিক্রমে বিষয়টি বাতিল করা যেতে পারে, যাকে শরী'আতের পরিভাষায় ইকালা বলা হয়।
৪২৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, ক্রয়-বিক্রয়ে উভয় পক্ষের (বাতিলের) অধিকার আছে যতক্ষণ তারা পৃথক না হয়, শর্তযুক্ত ক্রয়-বিক্রয় ছাড়া। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «المُتَبَايِعَانِ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا بِالخِيَارِ عَلَى صَاحِبِهِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا، إِلَّا بَيْعَ الخِيَارِ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উদ্দেশ্য এই যে, যদি কোন পক্ষ হতেই ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার শর্তযুক্ত না করা হয় তবে ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার ক্ষমতা কেবল তখন পর্যন্ত থাকে যতক্ষণ উভয় পক্ষ পৃথক না হয়।
ইমাম শাফিঈ ও তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণকারী উলামা আলোচ্য হাদীসের শব্দ مَا لَمْ يَتَفَرَّقا দ্বারা খিয়ারে মজলিস বুঝেছেন। আর ইমাম আবু হানীফা (র) প্রমুখের নিকট এর অর্থ হচ্ছে- যতক্ষণ পর্যন্ত কথাবার্তা সম্পূর্ণ শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যেক পক্ষের ক্ষমতা রয়েছে অগ্রিম ফিরিয়ে নেবে। এরপর বাতিল করার কারো ক্ষমতা থাকবে না। তিনি «يَتَفَرَّقًا» শব্দ দ্বারা বিক্রয়স্থল থেকে পৃথক হওয়া নয় বরং লেনদেন ও কথাবার্তা থেকে পৃথক হওয়া ও সরে যাওয়া বুঝেছেন। যেমন কুরআন মজীদে এ শব্দই অনুরূপ অর্থে وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلًّا مِنْ سَعَتِهِ তালাকের বিষয়ে ব্যবহৃত করা হয়েছে।
ইমাম শাফিঈ ও তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণকারী উলামা আলোচ্য হাদীসের শব্দ مَا لَمْ يَتَفَرَّقا দ্বারা খিয়ারে মজলিস বুঝেছেন। আর ইমাম আবু হানীফা (র) প্রমুখের নিকট এর অর্থ হচ্ছে- যতক্ষণ পর্যন্ত কথাবার্তা সম্পূর্ণ শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যেক পক্ষের ক্ষমতা রয়েছে অগ্রিম ফিরিয়ে নেবে। এরপর বাতিল করার কারো ক্ষমতা থাকবে না। তিনি «يَتَفَرَّقًا» শব্দ দ্বারা বিক্রয়স্থল থেকে পৃথক হওয়া নয় বরং লেনদেন ও কথাবার্তা থেকে পৃথক হওয়া ও সরে যাওয়া বুঝেছেন। যেমন কুরআন মজীদে এ শব্দই অনুরূপ অর্থে وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلًّا مِنْ سَعَتِهِ তালাকের বিষয়ে ব্যবহৃত করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)