মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪২৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
খিয়ারে আয়ব' অর্থাৎ দোষের কারণে লেন-দেন বাতিল করার ক্ষমতা
ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত লেন-দেন বাতিল করার দু'প্রকার ক্ষমতা উপরে উল্লিখিত হাদীসসমূহে আলোচিত হয়েছে। (এক, খিয়ারে শর্ত, দুই, খিয়ারে মজলিস') তৃতীয় এক পদ্ধতি হচ্ছে- ক্রয়কৃত দ্রব্যে কোন ত্রুটি জানা গেলে যা পূর্বে জানা ছিল না, এ সূরতেও ক্রেতার লেন-দেন বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে। এর একটি দৃষ্টান্ত হযরত আয়েশা (রা) বর্ণিত নিম্নের হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে।
ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত লেন-দেন বাতিল করার দু'প্রকার ক্ষমতা উপরে উল্লিখিত হাদীসসমূহে আলোচিত হয়েছে। (এক, খিয়ারে শর্ত, দুই, খিয়ারে মজলিস') তৃতীয় এক পদ্ধতি হচ্ছে- ক্রয়কৃত দ্রব্যে কোন ত্রুটি জানা গেলে যা পূর্বে জানা ছিল না, এ সূরতেও ক্রেতার লেন-দেন বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে। এর একটি দৃষ্টান্ত হযরত আয়েশা (রা) বর্ণিত নিম্নের হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে।
৪২৯. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি অন্য আরো নিকট হতে এক দাস ক্রয় করল এবং সে (কিছুদিন) যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা তার নিকট রইল। এরপর সে জানতে পারল দাসটির মধ্যে ত্রুটি রয়েছে। তখন সেই ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট হাযির হলেন, তিনি (এই ত্রুটির ভিত্তিতে) দাসকে ফেরত প্রদানের ফায়সালা দিলেন। বিক্রেতা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই ভাই (এতদিন পর্যন্ত) আমার দাস থেকে কাজ নিয়েছে উপকৃত হয়েছে। (সুতরাং এর বিনিময় আমার প্রাপ্য) তিনি বললেন, «الخراج بالضمان» (অর্থাৎ লাভের যোগ্য সেই, যে ক্ষতির জিম্মাদার)। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَجُلًا، ابْتَاعَ غُلَامًا فَأَقَامَ عِنْدَهُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يُقِيمَ، ثُمَّ وَجَدَ بِهِ عَيْبًا فَخَاصَمَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَدَّهُ عَلَيْهِ فَقَالَ الرَّجُلُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَدِ اسْتَغَلَّ غُلَامِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْخَرَاجُ بِالضَّمَانِ» (رواه ابوداؤد والترمذى والنسائى وابن ماجة)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসের শেষে তাঁর বাণী «الخراج بالضمان» শরী'আতের সেই মৌল নীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা দ্বারা ফকীহবৃন্দ শর্ত শত মাসআলার নির্দেশ বের করেছেন। উদ্দেশ্য এই যে, লাভের উপযুক্ত সে-ই, যে ক্ষতির জিম্মাদার। যদি দাস ক্রয়কারীর নিকট দাসটি মরে যেত অথবা কোন দৈবাতে তার কোন অঙ্গহানি হয়ে যেত তবে এই ক্ষতি ক্রয়কারীরই হত। এ জন্য সেই দিনগুলোতে যে ফায়দা ক্রেতা দাস থেকে লাভ করেছেন, তা তারই অধিকার ছিল। সুতরাং তার বিনিময়ের প্রশ্নই উঠে না।
এ স্থলে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-এর এক ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। এ ঘটনা ইমাম মালিক তার মুআত্তায় উদ্ধৃত করেছেন। ঘটনাটি হচ্ছে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) আটশত দিরহামে তাঁর এক দাস কারো নিকট বিক্রি করেছিলেন। বিক্রয়কালে তিনি একথা প্রকাশ করেছিলেন যে, এ দাসে কোন ত্রুটি নেই। পরে দাস ক্রয়কারী বললেন, তার মধ্যে অমুক রোগ রয়েছে যা তিনি বলেননি। [সম্ভবত হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) বলেছিলেন তার এ রোগ আমার এখানে ছিল না]। বস্তুত বিষয়টি তখনকার খলীফা হযরত উসমান (রা)-এর আদালতে পেশ হয়েছিল। তিনি বৃত্তান্ত শুনে (এবং এটা দেখে যে, ক্রেতা এ কথার সাক্ষী পেশ করতে সক্ষম নয় যে, দাসের এ রোগটি প্রথমে ছিল) শরী'আতের আইন মুতাবিক হযরত ইবনে উমর (রা) কে বললেন, আপনি শপথ করে এ কথা বলুন যে, দাসের এ রোগ আপনার ওখানে ছিল না। হযরত ইবনে উমর (রা) শপথ নিয়ে এ বর্ণনা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করে নিজের দাস ফেরত গ্রহণ করলেন। এরপর আল্লাহ এরূপ করলেন যে, রোগের লক্ষণ দূর হয়ে দাসটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। এরপর সেই দাসই হযরত ইব্ন ওমর (রা) পনের শত দিরহামে বিক্রি করেন।
এ মাসআলায় ফকীহবৃন্দের ঐকমত্য রয়েছে যে, যদি ক্রয়কৃত দ্রব্যে কোন ত্রুটি বের হয় (যে কারণে এর মূল্য ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়ে পড়ে) তবে এ কথা প্রমাণিত হওয়ার পর যে, এ ত্রুটি ক্রয়-বিক্রয়ের পূর্বে ছিল, ক্রেতার বিষয়টি বাতিল ও ক্রয়কৃত দ্রব্য ফেরত দিয়ে নিজের প্রদত্ত মূল্য ফেরত নেয়ার অধিকার আছে। এটাকেই 'খিয়ারে আয়ব' বলা হয়।
এ স্থলে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-এর এক ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। এ ঘটনা ইমাম মালিক তার মুআত্তায় উদ্ধৃত করেছেন। ঘটনাটি হচ্ছে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) আটশত দিরহামে তাঁর এক দাস কারো নিকট বিক্রি করেছিলেন। বিক্রয়কালে তিনি একথা প্রকাশ করেছিলেন যে, এ দাসে কোন ত্রুটি নেই। পরে দাস ক্রয়কারী বললেন, তার মধ্যে অমুক রোগ রয়েছে যা তিনি বলেননি। [সম্ভবত হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) বলেছিলেন তার এ রোগ আমার এখানে ছিল না]। বস্তুত বিষয়টি তখনকার খলীফা হযরত উসমান (রা)-এর আদালতে পেশ হয়েছিল। তিনি বৃত্তান্ত শুনে (এবং এটা দেখে যে, ক্রেতা এ কথার সাক্ষী পেশ করতে সক্ষম নয় যে, দাসের এ রোগটি প্রথমে ছিল) শরী'আতের আইন মুতাবিক হযরত ইবনে উমর (রা) কে বললেন, আপনি শপথ করে এ কথা বলুন যে, দাসের এ রোগ আপনার ওখানে ছিল না। হযরত ইবনে উমর (রা) শপথ নিয়ে এ বর্ণনা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করে নিজের দাস ফেরত গ্রহণ করলেন। এরপর আল্লাহ এরূপ করলেন যে, রোগের লক্ষণ দূর হয়ে দাসটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। এরপর সেই দাসই হযরত ইব্ন ওমর (রা) পনের শত দিরহামে বিক্রি করেন।
এ মাসআলায় ফকীহবৃন্দের ঐকমত্য রয়েছে যে, যদি ক্রয়কৃত দ্রব্যে কোন ত্রুটি বের হয় (যে কারণে এর মূল্য ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়ে পড়ে) তবে এ কথা প্রমাণিত হওয়ার পর যে, এ ত্রুটি ক্রয়-বিক্রয়ের পূর্বে ছিল, ক্রেতার বিষয়টি বাতিল ও ক্রয়কৃত দ্রব্য ফেরত দিয়ে নিজের প্রদত্ত মূল্য ফেরত নেয়ার অধিকার আছে। এটাকেই 'খিয়ারে আয়ব' বলা হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)