মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৩৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ইজারা (অর্থাৎ পারিশ্রমিক ও ভাড়া সংক্রান্ত কায়কারবার)
কাউকে ভাড়া ও পারিশ্রমিক দিয়ে নিজের কাজ করানো কিংবা ব্যবহারের জন্য কাউকে নিজের জিনিস দিয়ে সেই জিনিসের ভাড়া গ্রহণ করাকে শরীয়াত ও ফিকহের পরিভাষায় ইজারা বলা হয় এবং ইহা সেই সব লেন-দেনের অন্তর্ভুক্ত, যার উপর মনুষ্য সভ্যতার ভিত্তি স্থাপিত। এ বিষয়ে কতক হাদীস নিম্নে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।
কাউকে ভাড়া ও পারিশ্রমিক দিয়ে নিজের কাজ করানো কিংবা ব্যবহারের জন্য কাউকে নিজের জিনিস দিয়ে সেই জিনিসের ভাড়া গ্রহণ করাকে শরীয়াত ও ফিকহের পরিভাষায় ইজারা বলা হয় এবং ইহা সেই সব লেন-দেনের অন্তর্ভুক্ত, যার উপর মনুষ্য সভ্যতার ভিত্তি স্থাপিত। এ বিষয়ে কতক হাদীস নিম্নে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।
৪৩৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সব নবীই বকরির রাখালী করেছেন। সাহাবা কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি ও? তিনি বললেন, হ্যাঁ কতক কীরাতের বিনিময়ে আমি মক্কাবাসীর বকরির রাখালী করতাম। (বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: «مَا بَعَثَ اللَّهُ نَبِيًّا إِلَّا رَعَى الغَنَمَ»، فَقَالَ أَصْحَابُهُ: وَأَنْتَ؟ فَقَالَ: «نَعَمْ، كُنْتُ أَرْعَاهَا عَلَى قَرَارِيطَ لِأَهْلِ مَكَّةَ» (رواه البخارى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ কতক কীরাতের বিনিময়ে মক্কাবাসীর বকরি রাখালীর যে বর্ণনা করেছেন, তা সম্ভবত প্রাথমিক বয়সে যখন তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে থাকতেন। তখন নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে মক্কাবাসীদের বকরির রাখালী করতেন। এর বিনিময়ে তিনি কতক কীরাত পেতেন। এটা তখন তাঁর জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন ছিল। এক কীরাত প্রায় এক দিরহামের বার ভাগের এক ভাগ ছিল। বকরি রাখালী করা খুবই ধৈর্যের কাজ। যদি মানুষের মধ্যে যোগ্যতা থাকে তবে এতে তার বিরাট প্রশিক্ষণ হয়। গর্ব ও অহংকার জাতীয় নিচুতার চিকিৎসা, ধৈর্য ধারণ ও রাগ কমানোর অভ্যাস গড়ে ওঠে, দয়া ও ভালবাসার অনুশীলন হয়। আলোচ্য হাদীস থেকে জানা গেল যে, আল্লাহ তা'আলার সব নবী এই কোর্স সম্পন্ন করেছেন। আনুষঙ্গিকরূপে এটাও জানা গেল যে, এরূপ পারিশ্রমিক কেবল বৈধই না, বরং নবীগণের সুন্নাতও।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)