মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৪৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ঋণ প্রসঙ্গে
সভ্য জীবনে এ বিষয়েরও প্রয়োজন পড়ে যে, সাময়িক প্রয়োজনে কারো থেকে কোন জিনিস (পারিশ্রমিক ও বিনিময় ছাড়া) ব্যবহারের জন্যে চেয়ে আনা হয়, আর প্রয়োজন শেষে ফেরত প্রদান করা হয়। এটাকে ধার-করয বা ঋণ বলে। এটা এক প্রকারের সাহায্য-সহযোগিতা। আর নিঃসন্দেহে কোন প্রয়োজনশীল ব্যক্তিকে নিজের জিনিস ঋণ প্রদানকারী পুণ্য ও পুরস্কারের যোগ্য। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ ﷺ-ও প্রয়োজন কালে কোন জিনিস ঋণ হিসাবে গ্রহণ করে ব্যবহার করেছেন। আর এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যা নিম্নের হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে।
সভ্য জীবনে এ বিষয়েরও প্রয়োজন পড়ে যে, সাময়িক প্রয়োজনে কারো থেকে কোন জিনিস (পারিশ্রমিক ও বিনিময় ছাড়া) ব্যবহারের জন্যে চেয়ে আনা হয়, আর প্রয়োজন শেষে ফেরত প্রদান করা হয়। এটাকে ধার-করয বা ঋণ বলে। এটা এক প্রকারের সাহায্য-সহযোগিতা। আর নিঃসন্দেহে কোন প্রয়োজনশীল ব্যক্তিকে নিজের জিনিস ঋণ প্রদানকারী পুণ্য ও পুরস্কারের যোগ্য। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ ﷺ-ও প্রয়োজন কালে কোন জিনিস ঋণ হিসাবে গ্রহণ করে ব্যবহার করেছেন। আর এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যা নিম্নের হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে।
৪৪৩. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। (কোন সন্দেহের ভিত্তিতে) মদীনায় ভীতি সঞ্চার হল। (সম্ভবত শত্রুসেনার আগমনের ধারণা সৃষ্টি হয়েছিল) এ কারণে মদীনা শরীফের জনসাধারণের মধ্যে ভীতি ও বিপদের অনুভূতি সৃষ্টি হল। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ আবু তালহ্য আনসারী থেকে একটি ঘোড়া কর্জ চাইলেন। এটাকে মানদুব বলা হত। (তার অর্থ হচ্ছে ক্ষিপ্র গতিসম্পন্ন) এরপর তিনি তাতে আরোহণ করে (যেদিক থেকে বিপদের আশংকা ছিল সেদিকে গেলেন) তারপর প্রত্যাবর্তন করে বললেন, কিছুই দেখিনি, (অর্থাৎ বিপদের বিষয় দৃষ্টিগোচর হয়নি)। সুতরাং লোকজনকে আশ্বস্ত করা উচিত। এরপর আবু তালহার ঘোড়া সম্পর্কে বললেন, আমি এটাকে ক্ষিপ্র গতিসম্পন্ন পেয়েছি। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ فَزَعٌ بِالْمَدِينَةِ، فَاسْتَعَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَسًا مِنْ أَبِي طَلْحَةَ يُقَالُ لَهُ المَنْدُوبُ، فَرَكِبَ، فَلَمَّا رَجَعَ قَالَ: «مَا رَأَيْنَا مِنْ شَيْءٍ، وَإِنْ وَجَدْنَاهُ لَبَحْرًا» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীস থেকে জানা গেল যে, প্রয়োজনীয় সেই সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ আবু তালহার ঘোড়া কর্জ গ্রহণ করে তাতে আরোহণ করেছিলেন। বস্তুত এ ঘটনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বীরত্ব ও জিম্মাদারীর অনুভূতির বৈশিষ্ট্য আমাদের সামনে আসে যে, বিপদকালে সত্য উদঘাটন ও যাচাই বাছাইয়ের জন্যে একাকী তিনি চলে গেলেন। তারপর প্রত্যাবর্তন করে লোকজনকে নির্ভয় করলেন, যাতে তারা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়। আনুষঙ্গিক রূপে এটাও জানা গেল যে, হযরত আবু তালহার ঘোড়াটি অত্যন্ত ধীরগতির ও অলস ছিল বলে লোকে তার নামই দিয়েছিল ‘মানদুব’ (মন্থর গামী)। কিন্তু ঘোড়াটি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যানবাহন হয়ে এরূপ তেজী ও দ্রুতগতিসম্পন্ন হয়ে উঠল যে, তিনি স্বয়ং সেটিকে ‘প্রবহমান সমুদ্র’ (বিশাল গতিময়) বলে অভিহিত করলেন। অধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন ঘোড়াকে بحر বলা হত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)