মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৪৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ছিনতাই (কারো জিনিস অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা)

যদি কারো কোন জিনিষ মূল্য পরিশোধ করে গ্রহণ করা হয় তবে শরী'আত ও সাধারণের ভাষায় এটাকে ‘ইজারা’ বলে। আর যদি কোন প্রকার বিনিময় ও ভাড়া ছাড়া কোন জিনিস সাময়িকভাবে ব্যবহারের জন্য গ্রহণ করা হয় এবং ব্যবহার শেষে ফেরত দেওয়া হয় তবে এটাকে 'কর্জ' বলা হয়। এসব পদ্ধতি বৈধ ও বিশুদ্ধ। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দিকনির্দেশনা ও বাণী পূর্ব পৃষ্ঠাগুলোতে পাঠকবৃন্দের দৃষ্টি গোচর হয়েছে।

অন্য কারো জিনিস গ্রহণের এটাও এক পন্থা যে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অন্যায়ভাবে নিয়ে নেওয়া। শরী'আতের পরিভাষায় এটাকে (غصب) ছিনতাই বলে। এটা হারাম ও শক্ত গুনাহ। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিম্ন বর্ণিত কতক হাদীস পাঠক পাঠ করে নিন।
৪৪৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি কারো কিছু জমি অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে তবে কিয়ামতের দিন তাকে এ জমির কারণে (এর শাস্তিস্বরূপ) জমির সাত স্তর নিচে দাবিয়ে দেওয়া হবে। (বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدُ اللَّهِ ابْنُ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَخَذَ مِنَ الْأَرْضِ شَيْئًا بِغَيْرِ حَقِّهِ خُسِفَ بِهِ يَوْمَ القِيَامَةِ إِلَى سَبْعِ أَرَضِينَ» (رواه البخارى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

দু এক শব্দের পার্থক্যসহ রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে এ বিষয় বহু সাহাবী বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ বাণীর সারকথা হচ্ছে- যদি কেউ অন্য কারো জমির ক্ষুদ্রতম অংশও অন্যায়ভাবে গ্রাস করে (এক বর্ণনায় আছে অর্ধ হাতও গ্রাস করে) তবে কিয়ামতের দিন এ গুনাহর শাস্তিস্বরূপ তাকে যমীনে দাবানো হবে এবং শেষসীমা অর্থাৎ পাতাল পর্যন্ত দাবানো হবে।

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে জমি গ্রাসেরই এক দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এক হাদীসের সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনা এইরূপ যে, হযরত আমীর মু'আবিয়া (রা)-এর শাসনামলে এক মহিলা হযরত সাঈদ ইবনে যায়দ (রা)-এর বিরুদ্ধে (তিনি ছিলেন 'আশারা মুবাশশারার অন্তর্ভুক্ত) তখনকার মদীনার প্রশাসক মারওয়ান-এর কোর্টে দাবি পেশ করেন যে, তিনি আমার অমুক জমি গ্রাস করেছেন। এ মিথ্যা নালিশে হযরত সাঈদ (রা) দারুণভাবে ব্যথিত হলেন। তিনি মারওয়ানকে বললেন, আমি এ মহিলার জমি গ্রাস করব? আমি তো রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে এ বিষয়ে এরূপ শক্ত ধমক শুনেছি…. [এ কথা হযরত সাঈদ (রা) এমন দৃঢ় চিত্তে বলেছিলেন যে, স্বয়ং মারওয়ান প্রভাবান্বিত হয়ে পড়েন]। তিনি বললেন, এখন আমি আপনার নিকট কোন প্রমান চাব না। এরপর হযরত সাঈদ (রা) (ব্যথিত হৃদয়ে) বদ দুআ করলেন, হে আল্লাহ! যদি তুমি জান যে, এ মহিলা আমার প্রতি মিথ্যা অভিযোগ পেশ করেছে তবে তাকে দৃষ্টিশক্তি থেকে বঞ্চিত কর। আর তার জমিই তার কবর বানিয়ে দাও।
(ঘটনার বর্ণনাকারী হযরত উরওয়া বলেন) এরপর তাই হল। আমি নিজে সেই মহিলাকে দেখেছি। শেষ বয়সে সে দৃষ্টিহীনা হয়ে পড়ে। সে বলত, সাঈদ ইবনে যায়দ-এর বদ দুআর কারণে আমার এ দশা হয়েছে। এরপর এরূপ হল যে, একদিন সে তার জমির উপর দিয়ে যাচ্ছিল। এক গর্তে পতিত হল আর সে গর্তই তার কবর হল: আল্লাহ তা'আলা এ ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণের তাওফীক দিন। (বুখারী, মুসলিম)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান