মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৫৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ইহসানকারীর কৃতজ্ঞতা এবং তার জন্য কল্যাণের দু'আ
৪৫৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। যখন রাসুলুল্লাহ ﷺ হিজরত করে মদীনায় এলেন (এবং মুহাজিরগণ আনসারদের মেহমানদারী ও তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি দেখলেন) তখন একদিন মুহাজিরগণ রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা যাদের নিকট এসে উঠেছি (অর্থাৎ আনসার) তাদের থেকে উত্তম কোন লোক দেখিনি। প্রাচুর্যে তাঁরা (প্রশস্ত হৃদয়ে আমাদের মেহমানদারীতে) খুব খরচ করেন। আর স্বল্পতায় তাঁরা তা দিয়ে আমাদের দুঃখ লাঘবকারী, আমাদের পক্ষ হতে পরিশ্রমের দায়িত্ব তাঁরা নিয়ে নিচ্ছেন। আর উপকারের বেলায় তাঁদের সাথে অংশীদার করে নিচ্ছেন। (তাঁদের এ অসাধারণ আত্মত্যাগে) আমরা আশংকা করছি যে, সব পুরস্কার ও পুণ্য তাঁরা নিয়ে নেবে। (আর আখিরাতে আমরা রিক্ত হস্ত হয়ে যাব) তিনি বললেন, না, এরূপ হবে না, যতক্ষণ তোমরা এর পরিবর্তে দু'আ করে চল ও তাদের জন্য উত্তম কথা বলে থাক। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ أَتَاهُ الْمُهَاجِرُونَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا رَأَيْنَا قَوْمًا أَبْذَلَ مِنْ كَثِيرٍ وَلاَ أَحْسَنَ مُوَاسَاةً مِنْ قَلِيلٍ مِنْ قَوْمٍ نَزَلْنَا بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ لَقَدْ كَفَوْنَا الْمُؤْنَةَ وَأَشْرَكُونَا فِي الْمَهْنَإِ حَتَّى خِفْنَا أَنْ يَذْهَبُوا بِالأَجْرِ كُلِّهِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ مَا دَعَوْتُمُ اللَّهَ لَهُمْ وَأَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِمْ. (رواه الترمذى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যখন রাসুলুল্লাহ ﷺ মক্কা মুআযযামা থেকে হিজরত করে পবিত্র মদীনায় এলেন, আর সাথে মুহাজিরদের এক বড় দল ছিল, যারা তাঁর পূর্বে বা পরে নিজ নিজ ঘর ছেড়ে পবিত্র মদীনায় এসেছিলেন, একথা সর্বজনবিদিত যে, প্রাথমিক দিনগুলোতে তাঁদের সবাইকে মদীনার আনসারগণ আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজেদের মেহমান করেছিলেন, জমি-জমা ও অন্যান্য কাজে নিজেরা পরিশ্রম করতেন আর তা থেকে যা উপার্জিত হত তাতে মুহাজিরদের শরীক করে নিতেন। সেই আনসারগণের মধ্যে বিত্তশালীও ছিলেন আবার দরিদ্রও ছিলেন। তবে নিজ নিজ অবস্থা অনুযায়ী মুহাজিরগণের সেবায় সবাই অংশ গ্রহণ করতেন। যাঁরা বিত্তশালী ছিলেন তাঁরা পূর্ণ প্রশস্ত হৃদয়ে মুহাজিরদের পেছনে নিজেদের সম্পদ দ্বিধাহীন চিত্তে ব্যয় করতেন। আর যাঁরা দরিদ্র ছিলেন তাঁরা নিজেদের পেট ক্ষুধার্ত রেখে তাঁদের খিদমত ও মেহমানদারী করতেন।

এমতাবস্থায় মুহাজিরগণের হৃদয়ে এ ধারণা জন্মাল, এমন না হয় যে, আনসারদের এ অসাধারণ আত্মত্যাগ ও ইহসানের কারণে আমাদের হিজরত ও ইবাদত ইত্যাদির সওয়াবও আমাদের ইহসানকারী অতিথিপরায়ণরা নিয়ে নেয়। আর আমরা লোকসানে থেকে যাই। তাঁরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে নিজেদের এ আশংকার কথা পেশ করলেন। তিনি তাঁদের আশ্বস্ত করলেন যে, এরূপ হবে না। তবে শর্ত হচ্ছে তোমরা তাঁদের এ ইহসানের পরিবর্তে তাদের জন্য আল্লাহর নিকট দু'আ করবে এবং অন্তরে ও মুখে তাদের ইহসানের স্বীকারোক্তি ও শুকরিয়া আদায় করে চলবে। আল্লাহ তা'আলা তোমাদের এ কাজকেই তাদের ইহসানের বিনিময়ে কবুল করবেন এবং তোমাদের পক্ষ হতে তাদের এই ইহসান ও আত্মত্যাগের পূর্ণ প্রতিদান তাদের দান করবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান