মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৬৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
আল্লাহর ওয়াস্তে ওয়াকফ
হাদিয়া, সাদকা ও খায়রাতের ন্যায় আর্থিক পুণ্য লাভের ক্ষেত্রে ওয়াকফও একটি। হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ (র) 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা' গ্রন্থে লিখেন, রসুলুল্লাহ ﷺ-এর পূর্বে আরবের লোক ওয়াকফ-এর ধারণা ও রীতির সাথে পরিচিত ছিল না। তিনিই আল্লাহ তা'আলার নির্দেশনা ও পথপ্রদর্শনে এ বিষয়ে শিক্ষা ও উৎসাহ প্রদান করেন।
ওয়াকফ-এর মূল কথা হচ্ছে স্থায়ী সম্পত্তির ন্যায় অবশিষ্ট থাকে নিজের কোন লাভজনক সম্পদ নিজের পক্ষ থেকে উত্তম কাজে ব্যয়ের জন্য সংরক্ষিত করে নেওয়া। এর উৎপন্ন দ্রব্য উপার্জিত মাল ওয়াফকারীর ইচ্ছানুযায়ী এক বা একাধিক উত্তম কাজে ব্যয় হবে। আর ওয়াকফকারী স্বয়ং চিরস্থায়ীভাবে নিজের জন্য ব্যয় করার অধিকার থেকে বিরত থাকবে। এ পরম্পরায় নিম্ন বর্ণিত হাদীসগুলো পাঠ করুন।
হাদিয়া, সাদকা ও খায়রাতের ন্যায় আর্থিক পুণ্য লাভের ক্ষেত্রে ওয়াকফও একটি। হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ (র) 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা' গ্রন্থে লিখেন, রসুলুল্লাহ ﷺ-এর পূর্বে আরবের লোক ওয়াকফ-এর ধারণা ও রীতির সাথে পরিচিত ছিল না। তিনিই আল্লাহ তা'আলার নির্দেশনা ও পথপ্রদর্শনে এ বিষয়ে শিক্ষা ও উৎসাহ প্রদান করেন।
ওয়াকফ-এর মূল কথা হচ্ছে স্থায়ী সম্পত্তির ন্যায় অবশিষ্ট থাকে নিজের কোন লাভজনক সম্পদ নিজের পক্ষ থেকে উত্তম কাজে ব্যয়ের জন্য সংরক্ষিত করে নেওয়া। এর উৎপন্ন দ্রব্য উপার্জিত মাল ওয়াফকারীর ইচ্ছানুযায়ী এক বা একাধিক উত্তম কাজে ব্যয় হবে। আর ওয়াকফকারী স্বয়ং চিরস্থায়ীভাবে নিজের জন্য ব্যয় করার অধিকার থেকে বিরত থাকবে। এ পরম্পরায় নিম্ন বর্ণিত হাদীসগুলো পাঠ করুন।
৪৬৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা উমর (রা) খায়বারে এক টুকরা জমি পেলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে হাযির হয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি খায়বারে এক টুকরা জমি পেয়েছি, (তা খুবই উত্তম ও মূল্যবান)-এর থেকে উত্তম আমি কোন সম্পদ পাইনি। এ বিষয়ে আপনি আমাকে কি নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন, যদি তুমি চাও তবে এরূপ কর- মূল জমিকে সংরক্ষণ (অর্থাৎ ওয়াকফ) করে এর (উৎপন্ন ও আমদানি) সাদকা নির্ধারণ কর। সুতরাং হযরত উমর ইহা (এভাবেই ওয়াকফ করলেন) আল্লাহর ওয়াস্তে সাদকা নির্ধারণ করে নিদেন। স্থির করা হল, এ জমি কখনো বিক্রি করা হবে না, দান করা হবে না, তাতে উত্তরাধিকারী চালু হবে না। এর উপার্জিত অর্থ আল্লাহর জন্য ব্যয় হবে। দরিদ্র, মিসকীন, আত্মীয়স্বজন, দাসমুক্তি, মুসাফির, অতিথির পেছনে এবং তত্ত্বাবধায়ক ন্যায়সঙ্গতভাবে খাবে, সম্পদশালী হওয়ার জন্য নয়। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ عَبْدِ اللهِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرُ أَرْضًا بِخَيْبَرَ فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ أَرْضًا بِخَيْبَرَ لَمْ أُصِبْ مَالاً قَطُّ هُوَ أَنْفَسُ عِنْدِي مِنْهُ فَمَا تَأْمُرُنِي بِهِ قَالَ: إِنْ شِئْتَ حَبَسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا. قَالَ فَتَصَدَّقَ بِهَا عُمَرُ أَنَّهُ لاَ يُبَاعُ أَصْلُهَا وَلاَ يُوهَبُ وَلاَ يُورَثُ. وَتَصَدَّقَ بِهَا فِي الْفُقَرَاءِ وَفِي الْقُرْبَى وَفِي الرِّقَابِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَالضَّيْفِ لاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهَا أَنْ يَأْكُلَ مِنْهَا بِالْمَعْرُوفِ أَوْ يُطْعِمَ غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ওয়াকফ বিষয়ে আলোচ্য হাদীস মূল ভিত্তির মতো গুরুত্ব রাখে। সপ্তম হিজরীতে যুদ্ধের ফলে খায়বর বিজিত হয়েছিল। সাধারণভাবে তথাকার জমি স্বর্ণ ফসলী ছিল। মক্কা বিজয়ের পর খায়বরের প্রায় অর্ধেক অংশ রাসুলুল্লাহ ﷺ মুজাহিদগণের মধ্যে বণ্টন করে দেন। হযরত উমর (রা)-এর অংশে জমির যে টুকরা এল, তিনি ধারণা করলেন আমার যাবতীয় সম্পদের মধ্যে এটা খুবই মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য। আর কুরআন মজীদে বলা হয়েছে-
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ .
(তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না)।
এ ভিত্তিতে হযরত উমর (রা)-এর অন্তরে এ কথা উদয় হল যে, খায়বরে আমার অংশ থেকে মূল্যবান কোন জিনিস আমার নিকট নেই। আমি এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও সৌভাগ্য লাভ করব। কিন্তু তিনি নিজে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি যে, এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার আমার নিকট উত্তম পন্থা কি? তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে নির্দেশ চাইলেন। তিনি তাঁকে ওয়াকফ করার পরামর্শ দিলেন, যা সাদকায়ে জারিয়া। সুতরাং হযরত উমর তা ওয়াকফ করে দিলেন। আর এর ব্যয়ের খাতও নির্দিষ্ট করে দিলেন। এ খাত প্রায় তাই যা যাকাতের বর্ণনায় কুরআন মজীদে বলা হয়েছে। (যেমন-কুরআন মজীদে সূরা তাওবায় বলা হয়েছে- সাদকা (যাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ গ্রস্তদের, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরদের জন্য। (আয়াত: ৬০)
পরিশেষে ওয়াকফ-এর মুতাওয়াল্লী ও এর ব্যবস্থাপকগণ সম্পর্কে বলেন, নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য তা থেকে কিছু গ্রহণ করবে না। তবে খাওয়া-দাওয়া, পরিজন ও মেহমানবৃন্দের জন্য এ থেকে সঙ্গতভাবে নিতে পারে।
(শরী'আতের অন্যান্য অধ্যায়ের ন্যায় ওয়াকফ-এর মাসআলাও ফিকহর কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে)
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ .
(তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না)।
এ ভিত্তিতে হযরত উমর (রা)-এর অন্তরে এ কথা উদয় হল যে, খায়বরে আমার অংশ থেকে মূল্যবান কোন জিনিস আমার নিকট নেই। আমি এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও সৌভাগ্য লাভ করব। কিন্তু তিনি নিজে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি যে, এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার আমার নিকট উত্তম পন্থা কি? তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে নির্দেশ চাইলেন। তিনি তাঁকে ওয়াকফ করার পরামর্শ দিলেন, যা সাদকায়ে জারিয়া। সুতরাং হযরত উমর তা ওয়াকফ করে দিলেন। আর এর ব্যয়ের খাতও নির্দিষ্ট করে দিলেন। এ খাত প্রায় তাই যা যাকাতের বর্ণনায় কুরআন মজীদে বলা হয়েছে। (যেমন-কুরআন মজীদে সূরা তাওবায় বলা হয়েছে- সাদকা (যাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ গ্রস্তদের, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরদের জন্য। (আয়াত: ৬০)
পরিশেষে ওয়াকফ-এর মুতাওয়াল্লী ও এর ব্যবস্থাপকগণ সম্পর্কে বলেন, নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য তা থেকে কিছু গ্রহণ করবে না। তবে খাওয়া-দাওয়া, পরিজন ও মেহমানবৃন্দের জন্য এ থেকে সঙ্গতভাবে নিতে পারে।
(শরী'আতের অন্যান্য অধ্যায়ের ন্যায় ওয়াকফ-এর মাসআলাও ফিকহর কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)