মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৭৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাকিম ও কাযী হওয়া বড় পরীক্ষা ও বিপজ্জনক

এটা সুস্পষ্ট যে, কাযী ও হাকিম হওয়ার পর একথার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে, মানুষের নিয়ত ও চরিত্রে ধ্বংস নেমে আসে এবং সে ভুল কাজ করতে থাকে, যে কারণে দ্বীন ও ঈমান নষ্ট হয়ে যায় এবং আখিরাত বরবাদ হয়ে পড়ে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ এজন্যে এ বিষয়ে অনেক ভয় প্রদর্শন করেছেন। এ ধারাবাহিকতায় এ দিকনির্দেশনাও করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় পদ ও বিচারালয়ের আসন তাদেরকে দেওয়া যাবে না, যারা এর অন্বেষণকারী ও অভিলাষী। বরং যারা এর অন্বেষণকারী নয়, তাদেরকে এ দায়িত্ব দেওয়া হবে।
৪৭৭. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, মানুষের মধ্যে ফয়সালা করার জন্যে যে ব্যক্তিকে কাযী বানানো হল, তবে তাকে ছুরি ছাড়া যবেহ করা হল। (আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا بَيْنَ النَّاسِ فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ. (رواه احمد والترمذى وابوداؤد وابن ماجه)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যে ব্যক্তিকে ছুরি দ্বারা যবেহ করা হয়, সে ২-৪ মিনিটে মরে যায়; কিন্তু যদি কাউকে ছুরি ছাড়া যবেহ করার চেষ্টা করা হয় তবে এ কথা সুস্পষ্ট যে, সে ব্যক্তি তাড়াতাড়ি মৃত্যু বরণ করবে না। দীর্ঘ সময় তার কষ্ট হবে। হাদীসের দাবি ও উদ্দেশ্য এই যে, কাযী ও হাকিম হওয়া নিজেকে বিরাট পরীক্ষা ও বিপদে নিক্ষেপ করা। আর এ পদ ও দায়িত্ব পালনকারীকে বুঝতে হবে যে, সে মাথার ওপর কাঁটার মুকুট তুলে নিচ্ছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান