মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৮৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
বিচারকদের জন্য দিকদিশারী মূলনীতি ও উপদেশাবলী
৪৮৩. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলল্লাহ ﷺ আমাকে বলেন, যখন তোমার নিকট দু'ব্যক্তি কোন ঝগড়া ও মোকদ্দমা নিয়ে ফায়সালা করার জন্য আসে তখন তুমি প্রথম পক্ষের কথা শুনে ফায়সালা দিও না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় পক্ষের কথা শুন। এরূপ করলে তুমি বুঝতে পারবে এবং জানতে পারবে কিভাবে ফয়সালা করবে। হযরত আলী (রা) বলেন, এরপর থেকে সর্বদা আমি কাযী হিসাবে রত থাকি। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا تَقَاضَى إِلَيْكَ رَجُلاَنِ فَلاَ تَقْضِ لِلأَوَّلِ حَتَّى تَسْمَعَ كَلاَمَ الآخَرِ فَسَوْفَ تَدْرِي كَيْفَ تَقْضِي. قَالَ عَلِيٌّ فَمَا زِلْتُ قَاضِيًا بَعْدُ هَذَا. (رواه الترمذى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আলী মুর্তজা (রা)-এর হাদীস সুনানে আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহতেও রয়েছে। এর বিষয়বস্তু হচ্ছে- রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত আলী মুর্তজা (রা)-কে কাযী নিযুক্ত করে ইয়ামেন প্রেরণের ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি নিবেদন করলেন, হজুর, আমার বয়স খুব কম এবং ঝগড়া-বিবাদ ও মোকদ্দমার ফায়সালা করতে জানি না। তখন তিনি তাঁকে আশ্বস্ত করলেন যে, আল্লাহ তা'আলা তোমার সাহায্য ও পথপ্রদর্শন করবেন। তিনি তোমার দ্বারা সঠিক ফায়সালা করাবেন। সাথে সাথে তিনি এ নীতি নির্ধারণী দিকদর্শন প্রদান করলেন। যখন কোন ফায়সালা তোমার সামনে আসে তখন যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি উভয় পক্ষের বক্তব্য না শুনবে ততক্ষণ কেবল রায় স্থির করবে না এবং ফায়সালাও দিবে না। যখন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনার পর বিষয়টির ওপর চিন্তা করবে তখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে পথ প্রদর্শন হবে এবং সঠিক ফায়সালার তাওফীক লাভ করবে।
আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত আলী মুর্তজা (রা)-এর সম্পর্কে যা বলেছিলেন তা এভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল যে, ঝগড়া-কলহ ও মোকদ্দমা বিষয়ে সাহাবা শ্রেণীর মধ্যে তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্য অর্জিত ছিল। তাঁর ফায়সালাকে শেষ ফায়সালা মনে করা হত।
আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত আলী মুর্তজা (রা)-এর সম্পর্কে যা বলেছিলেন তা এভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল যে, ঝগড়া-কলহ ও মোকদ্দমা বিষয়ে সাহাবা শ্রেণীর মধ্যে তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্য অর্জিত ছিল। তাঁর ফায়সালাকে শেষ ফায়সালা মনে করা হত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)