মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৯৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
জনসাধারণকে নেতার আনুগত্য এবং নেতাকে আল্লাহ্-ভীতি ও ন্যায়পরায়ণতার উপদেশ
৪৯৫. হযরত মু'আবিয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, হে মু'আবীয়া! যদি তোমাকে শাসক বানানো হয় তবে আল্লাহকে ভয় করবে এবং ইনসাফ করবে। মু'আবিয়া বলেন, নবী ﷺ-এর এ কথার পর সর্বদা আমি চিন্তা করতাম যে, আমি রাষ্ট্রীয় কাজে জড়িয়ে পড়ব। এমন কি আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাতে জড়িয়ে পড়ি। (আহমদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا مُعَاوِيَةُ، إِنْ وُلِّيتَ أَمْرًا فَاتَّقِ اللَّهَ وَاعْدِلْ» ، قَالَ: فَمَازِلْتُ أَظُنُّ أَنِّي مُبْتَلًى بِعَمَلٍ لِقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى ابْتُلِيتُ. (رواه احمد)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
প্রথম হাদীসের ন্যায় এ হাদীসেও রাষ্ট্রীয় শাসকদের জন্য এ বাণীই রয়েছে যে, তাঁরা আল্লাহ্-ভীতি এবং ন্যায় ও ইনসাফের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। আলোচ্য হাদীস থেকে এটাও জানা গেল যে, সম্ভবত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর একথা প্রকাশিত হয়েছে যে, এক সময় মু'আবিয়া নির্দেশদাতা ও শাসক হবেন। সুতরাং হযরত 'উমর (রা) ও হযরত উসমান (রা)-এর খিলাফতকালে তিনি সিরিয়ার গভর্নর ছিলেন। এরপর হযরত হাসান (রা)-এর সাথে সন্ধির পর এমন এক সময় এল যে, তাঁকে গোটা ইসলামী রাষ্ট্রের আমীর ও নেতা মেনে নেয়া হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)