মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৯৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
শাসককে জনসাধারণের হিতাকাঙ্খী হওয়ার শক্ত তাগিদ
৪৯৭. হযরত মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, যে বান্দাকে আল্লাহ কোন জনগোষ্ঠীর তত্ত্বাবধায়ক (শাসক) বানান, আর সে তাদের কল্যাণকামীতা করল না, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ مَعْقِلِ بْنَ يَسَارٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْتَرْعِيهِ اللهُ رَعِيَّةً، فَلَمْ يَحُطْهَا بِنَصِيحَةٍ، إِلَّا لَمْ يَجِدْ رَائِحَةَ الجَنَّةِ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীস থেকে জানা গেল যে, আমিল ও শাসকদের অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে- যে সব লোক তাদের শাসনাধীন, তাদের কল্যাণ কামনা ও হিত চিন্তায় কোন পদক্ষেপই বাকি রাখবে না। যদি জনসাধারণের কল্যাণকামিতায় ত্রুটি করে তবে জান্নাত থেকে এমন কি এর সুঘ্রাণ থেকেও বঞ্চিত থাকবে। এ হাদীসে এবং এ ছাড়াও কতক হাদীসে আমীর অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় শাসককে 'রাঈ' এবং তাঁর অধীনস্ত রাষ্ট্রের জনগণকে 'রাঈয়ত' বলা হয়েছে। মূল আরবী ভাষায় 'রাঈ' অর্থ রাখাল ও তত্ত্বাবধায়ক এবং 'রাঈয়ত' তাকে বলে, যাকে তিনি চরাণ এবং যার হিফাযত ও রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জিম্মায়। কেবল এ দু'শব্দ এ কথা বলার জন্য যথেষ্ট যে, ইসলামে রাষ্ট্রের ধারণা কিরূপ এবং শাসকদের কি দায়িত্ব রয়েছে। কর্তব্য সচেতন রাখাল তার রাখালাধীন ও তত্ত্বাবধানাধীন পশুকে শ্যামল-সবুজ চারণ ভূমিতে নিয়ে যায়। হিংস্র পশু ও চোর-ডাকাতদের থেকে সে এগুলোকে রক্ষা করে সন্ধ্যা বেলায় ঘরে নিয়ে আসে। এভাবে এগুলোকে পানাহার করানো ও দেখা-শুনা করাকেই নিজের দায়িত্ব মনে করে। এসব হাদীস আমাদের বলে যে, ইসলামে খলীফা ও শাষকদের এই ভূমিকাই রয়েছে যে, তাঁরা জনসাধারণের রক্ষক ও রাখাল এবং তাদের প্রয়োজনীয়তার চিন্তা তাদেরই জিম্মায়। যদি তারা এ বিষয়ে শৈথিল্য ও অমনোযোগিতা প্রকাশ করে তবে আল্লাহর নিকট অপরাধী হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)