মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৫০৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
নবুওয়তের রাজপথে খিলাফত কেবল ৩০ বছর
৫০৩. হযরত সাফীনা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, নবুওয়তী খিলাফত (অর্থাৎ নববী নিয়ম-নীতি ও কর্ম-পদ্ধতির অনুসরণে রাষ্ট্র পরিচালনা) কেবল ৩০ বছর। এরপর আল্লাহ যাকে চান বাদশাহী দান করবেন। (আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَفِينَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خِلَافَةُ النُّبُوَّةِ ثَلَاثُونَ سَنَةً، ثُمَّ يُؤْتِي اللَّهُ الْمُلْكَ مَنْ يَشَاءُ» (رواه ابوداؤد)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহর পক্ষ হতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট একথা প্রতিভাত করা হয়েছিল যে, তাঁর উম্মতের মধ্যে তাঁর পর নবুওয়তী রাজপথ ধরে অর্থাৎ যথাসম্ভব তাঁর রীতি-নীতির সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতি কেবল ৩০ বছর পর্যন্ত চলবে। এরপর বাদশাহী ও রাষ্ট্রীয় যুগ আসবে। সুতরাং তাই হয়েছিল। হজুর ﷺ-এর ওফাতের ঠিক ত্রিশতম সালে হযরত আলী মুর্তাজা (রা) শহীদ হন। তাঁর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র হযরত হাসান (রা) তাঁর স্থলাভিষিক্ত ও খলীফা হন। তবে তিনি কয়েক মাস পর মুসলমানদের গৃহযুদ্ধ বন্ধ করার জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এক ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী হববত মু'আবীয়া (রা)-এর সাথে সন্ধি করে তাঁর পক্ষে খিলাফত থেকে পৃথক হয়ে যান। হযরত হাসান (রা)-এর খিলাফতের এই কয় মাস যোগ করলে পূর্ণ ৩০ বছর হয়ে যায়। খিলাফত আলা মিনহাজিন নবুওয়্যাত ও খিলাফতে রাশেদা, যাকে এ হাদীসে খিলাফাতুন্নবুয়াত বলা হয়েছে, কেবল ঐ ৩০ বছর পর্যন্ত ছিল। এরপর রীতি-নীতিতে পরিবর্তনের যুগ শুরু হয় এবং নিখাদ ‘খিলাফত আলা মিনহাজিন্নবুওয়ত’-এর স্থলে বাদশাহীর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অন্যান্য ভবিষ্যদ্বাণীর ন্যায় আলোচ্য হাদীসও তাঁর মু'জিযা ও নবুওয়তের দলীল। তাঁর ওফাতের পর যা কিছু ঘটার ছিল, যা জানার কোন বাহ্যিক মাধ্যম ছিল না, তিনি তা বলে দেন। আর তা-ই বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছিল। একথা সুস্পষ্ট যে, তাঁর এই জ্ঞাত হওয়া আল্লাহ তা'আলার ওহীর মাধ্যমেই হয়েছিল।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অন্যান্য ভবিষ্যদ্বাণীর ন্যায় আলোচ্য হাদীসও তাঁর মু'জিযা ও নবুওয়তের দলীল। তাঁর ওফাতের পর যা কিছু ঘটার ছিল, যা জানার কোন বাহ্যিক মাধ্যম ছিল না, তিনি তা বলে দেন। আর তা-ই বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছিল। একথা সুস্পষ্ট যে, তাঁর এই জ্ঞাত হওয়া আল্লাহ তা'আলার ওহীর মাধ্যমেই হয়েছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)