মা'আরিফুল হাদীস
ইলম অধ্যায়
হাদীস নং: ২
ইলম অধ্যায়
দীনে অজ্ঞ ব্যক্তিদের কর্তব্য হচ্ছে, জ্ঞাত ব্যক্তিদের থেকে শিখবে, আর জ্ঞাত ব্যক্তিদের দায়িত্ব হচ্ছে, তাদেরকে শিক্ষা দেবে।
২. প্রসিদ্ধ সাহাবী আব্দুর রহমান (রা)-এর পিতা আবযা আল খুযায়ী (রা) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মসজিদের মিম্বরে) ওয়াজ করেন, তাতে তিনি মুসলমানদের কতক গোত্রের প্রশংসা করেন। (যে, তারা তাদের দায়িত্বসমূহ সঠিক ভাবে পালন করছে) এরপর তিনি (মুসলমানদের অন্যান্য গোত্রকে সতর্ক ও তিরস্কার করে) বলেন, কী ব্যাপার সেই ব্যক্তিদের (এবং কী অজুহাত তাদের নিকট) যারা দীন না জানা মুসলমান প্রতিবেশীকে দীন শিক্ষা দেয় না এবং দীনের জ্ঞান প্রদান করে না। ওয়াজ নসীহত করে না, তাদের প্রতি সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ সম্পর্কীয় দায়িত্ব পালন করে না (এতদসঙ্গে তিনি বলেন) আর কী ব্যাপার সেই লোকদের (এবং কী অজুহাত তাদের নিকট যারা দীন ও আহকাম সম্বন্ধে জ্ঞাত নয় তা সত্ত্বেও) যারা নিজেদের নিকটে বসবাসকারী দীনী শিক্ষা ও দীনী ইলম অজর্নকারী মুসলমানদের থেকে দীন শিখতে, দীনী জ্ঞান আহরণ করতে এবং তাদের ওয়াজ নসীহত থেকে উপকৃত হতে চেষ্টা করে না? (এরপর তিনি শপথসহ জোর দিয়ে বলেন)
বস্তুত সেই ব্যক্তিগণ (যারা দীনের ইলম রাখে তারা, দীনের ইলম রাখে না) নিজেদের প্রতিবেশীদেরকে আবশ্যিকভাবে দীন শিক্ষা দিতে এবং তাদের মধ্যে দীনের জ্ঞান সৃষ্টি করতে স্বচেষ্ট হবে। তাদেরকে ওয়াজ নসীহত, ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর (যে সব ব্যক্তি দীন ও এর আহ্কাম সম্বন্ধে জ্ঞাত নয় তাদের প্রতি) আমার তাকিদ হচ্ছে, তারা (দীনের জ্ঞান ও ইলমধারী প্রতিবেশীদের থেকে দীন শিক্ষা করবে, দীনের জ্ঞান অর্জন করবে, তাদের ওয়াজ নসীহত হতে উপকৃত হবে, না হলে (অর্থাৎ- যদি এ উভয় দল এ উপদেশ অনুযায়ী কাজ না করে তবে) এ জগতেই আমি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করব।
এরপর (অর্থাৎ এই সতর্কীকরণ ওয়াজের পর) তিনি মিম্বর থেকে অবতরণ করে ঘরে প্রবেশ করেন। তারপর লোকজন পরস্পর বলাবলি করেন, কী ধারণা? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উদ্দেশ্য কারা? (অর্থাৎ এ ওয়াজে তিনি কাদের সতর্ক ও তিরস্কার করেছেন?) কেউ বললেন, আমাদের ধারণা, তাঁর উদ্দেশ্য আশ'আরী সম্প্রদায়, (অর্থাৎ আবূ মূসা আশ'আরীর গোত্রের লোকজন) তাঁদের অবস্থা হচ্ছে, তাঁরা ফকীহ্, দীনের জ্ঞান ও ইলম রাখে) আর তাঁদের পাশে পানির নালার নিকটে বাসকারী এরূপ বেদুঈন রয়েছে যারা একেবারে নিরক্ষর (এবং দীন সম্বন্ধে বিলকুল অজ্ঞ)।
এসব কথা আশ'আরীদের কানে এলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম-এর সমীপে হাযির হয়ে নিবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! (জানতে পারলাম) আপনি প্রশংসার সাথে কতক গোত্রের উল্লেখ করেছেন। আর আমাদের মন্দ বলা হয়েছে। আমাদের বিষয় কী? (এবং ত্রুটি কি?) তিনি বললেন, (আমার বলা কেবল এই-দীনের ইলম ও জ্ঞানী) লোকদের দায়িত্ব হচ্ছে, তারা (দীন না জানা) স্বীয় প্রতিবেশীদেরকে দীন শিক্ষা দেবে, তাদের মধ্যে দীনের জ্ঞান সৃষ্টি করবে, তাদের ওয়াজ নসীহত, এবং ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বারণ করবে। আর যারা দীন জানে না, তাদের অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে, তারা (দীনের জ্ঞানী) নিজেদের প্রতিবেশী থেকে দীনী শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং তাদের ওয়াজ ও নসীহত দ্বারা নিজেরা উপকৃত হতে থাকবে, এবং তাদের থেকে দীনের জ্ঞান লাভ করবে। কিম্বা এরপর আমি দুনিয়াতেই তাদেরকে শাস্তি দেওয়াব। আশ'আরীগণ নিবেদন করলেন, অন্য লোকদের অপরাধ ও ত্রুটির শাস্তিও কি আমাদের ভোগ করতে হবে? উত্তরে তিনি সেই কথাই পুনরোক্ত করলেন যা পূর্বে বলেছিলেন। আশ'আরীগণ আবার সেই নিবেদন করেন, যা প্রথমে নিবেদন করেছিলেন যে, অন্যদের গাফলত ও ত্রুটির শাস্তিও কি আমরা পাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ তা-ও। (অর্থাৎ দীন জানা ব্যক্তিগণ যদি নিজেদের অজ্ঞ প্রতিবেশীদের দীন শিক্ষা দিতে ত্রুটি করে, তবে তারাও এর শাস্তি পাবে।
আশ'আরীগণ নিবেদন করলেন, এরপর আমাদেরকে এক বছরের অবকাশ দেওয়া হোক। তিনি তাদেরকে এক বছরের অবকাশ দান করেন, যেন নিজেদের প্রতিবেশীদেরকে দীন শিক্ষা দেয়, তাদের মধ্যে জ্ঞান সৃষ্টি করে ও ওয়াজ নসীহত দ্বারা তাদের সংশোধনের চেষ্টা করে। এরপর তিনি (সূরা মায়িদার) এ আয়াত তিলাওয়াত করেন-
{لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ (78) كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ} [المائدة: 78، 79]
'বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল তারা দাউদ ও মারয়াম (আ)-এর পুত্র কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল। এটা এ জন্য যে, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারী। তারা যে সব মন্দ কাজ করত তা থেকে তারা একে অন্যকে বারণ করত না, তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট'! (সূরা মায়িদা ৭৮-৭৯)
(মুসনাদে ইবনে রাহবীয়া, বুখারীর ওয়াহ্দান, মান্দা ইবনে মানদাহ্, তাবারানীর মু'জামে কাবীর)
বস্তুত সেই ব্যক্তিগণ (যারা দীনের ইলম রাখে তারা, দীনের ইলম রাখে না) নিজেদের প্রতিবেশীদেরকে আবশ্যিকভাবে দীন শিক্ষা দিতে এবং তাদের মধ্যে দীনের জ্ঞান সৃষ্টি করতে স্বচেষ্ট হবে। তাদেরকে ওয়াজ নসীহত, ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর (যে সব ব্যক্তি দীন ও এর আহ্কাম সম্বন্ধে জ্ঞাত নয় তাদের প্রতি) আমার তাকিদ হচ্ছে, তারা (দীনের জ্ঞান ও ইলমধারী প্রতিবেশীদের থেকে দীন শিক্ষা করবে, দীনের জ্ঞান অর্জন করবে, তাদের ওয়াজ নসীহত হতে উপকৃত হবে, না হলে (অর্থাৎ- যদি এ উভয় দল এ উপদেশ অনুযায়ী কাজ না করে তবে) এ জগতেই আমি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করব।
এরপর (অর্থাৎ এই সতর্কীকরণ ওয়াজের পর) তিনি মিম্বর থেকে অবতরণ করে ঘরে প্রবেশ করেন। তারপর লোকজন পরস্পর বলাবলি করেন, কী ধারণা? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উদ্দেশ্য কারা? (অর্থাৎ এ ওয়াজে তিনি কাদের সতর্ক ও তিরস্কার করেছেন?) কেউ বললেন, আমাদের ধারণা, তাঁর উদ্দেশ্য আশ'আরী সম্প্রদায়, (অর্থাৎ আবূ মূসা আশ'আরীর গোত্রের লোকজন) তাঁদের অবস্থা হচ্ছে, তাঁরা ফকীহ্, দীনের জ্ঞান ও ইলম রাখে) আর তাঁদের পাশে পানির নালার নিকটে বাসকারী এরূপ বেদুঈন রয়েছে যারা একেবারে নিরক্ষর (এবং দীন সম্বন্ধে বিলকুল অজ্ঞ)।
এসব কথা আশ'আরীদের কানে এলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম-এর সমীপে হাযির হয়ে নিবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! (জানতে পারলাম) আপনি প্রশংসার সাথে কতক গোত্রের উল্লেখ করেছেন। আর আমাদের মন্দ বলা হয়েছে। আমাদের বিষয় কী? (এবং ত্রুটি কি?) তিনি বললেন, (আমার বলা কেবল এই-দীনের ইলম ও জ্ঞানী) লোকদের দায়িত্ব হচ্ছে, তারা (দীন না জানা) স্বীয় প্রতিবেশীদেরকে দীন শিক্ষা দেবে, তাদের মধ্যে দীনের জ্ঞান সৃষ্টি করবে, তাদের ওয়াজ নসীহত, এবং ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বারণ করবে। আর যারা দীন জানে না, তাদের অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে, তারা (দীনের জ্ঞানী) নিজেদের প্রতিবেশী থেকে দীনী শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং তাদের ওয়াজ ও নসীহত দ্বারা নিজেরা উপকৃত হতে থাকবে, এবং তাদের থেকে দীনের জ্ঞান লাভ করবে। কিম্বা এরপর আমি দুনিয়াতেই তাদেরকে শাস্তি দেওয়াব। আশ'আরীগণ নিবেদন করলেন, অন্য লোকদের অপরাধ ও ত্রুটির শাস্তিও কি আমাদের ভোগ করতে হবে? উত্তরে তিনি সেই কথাই পুনরোক্ত করলেন যা পূর্বে বলেছিলেন। আশ'আরীগণ আবার সেই নিবেদন করেন, যা প্রথমে নিবেদন করেছিলেন যে, অন্যদের গাফলত ও ত্রুটির শাস্তিও কি আমরা পাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ তা-ও। (অর্থাৎ দীন জানা ব্যক্তিগণ যদি নিজেদের অজ্ঞ প্রতিবেশীদের দীন শিক্ষা দিতে ত্রুটি করে, তবে তারাও এর শাস্তি পাবে।
আশ'আরীগণ নিবেদন করলেন, এরপর আমাদেরকে এক বছরের অবকাশ দেওয়া হোক। তিনি তাদেরকে এক বছরের অবকাশ দান করেন, যেন নিজেদের প্রতিবেশীদেরকে দীন শিক্ষা দেয়, তাদের মধ্যে জ্ঞান সৃষ্টি করে ও ওয়াজ নসীহত দ্বারা তাদের সংশোধনের চেষ্টা করে। এরপর তিনি (সূরা মায়িদার) এ আয়াত তিলাওয়াত করেন-
{لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ (78) كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ} [المائدة: 78، 79]
'বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল তারা দাউদ ও মারয়াম (আ)-এর পুত্র কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল। এটা এ জন্য যে, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারী। তারা যে সব মন্দ কাজ করত তা থেকে তারা একে অন্যকে বারণ করত না, তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট'! (সূরা মায়িদা ৭৮-৭৯)
(মুসনাদে ইবনে রাহবীয়া, বুখারীর ওয়াহ্দান, মান্দা ইবনে মানদাহ্, তাবারানীর মু'জামে কাবীর)
کتاب العلم
عن أبزى الخزاعي والد عبد الرحمن1 قال: خطب رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم، فأثنى على طوائف من المسلمين خيرا، ثم قال: ما بال أقوام لا يفقهون جيرانهم، ولا يعلمونهم ولا يعظونهم ولا يأمرونهم ولا ينهونهم؟ وما بال أقوام لا يتعلمون من جيرانهم ولا يتفقهون ولا يتفطنون، والله ليعلمن أقوام جيرانهم، ويفطنونهم ويفقهونهم، ويأمرونهم وينهونهم وليتعلمن قوم من جيرانهم، ويتفطنون ويتفقهون أو لأعاجلنهم بالعقوبة في دار الدنيا، ثم نزل فدخل بيته، فقال قوم: من تراه عنى بهؤلاء؟ فقالوا: نراه عنى الأشعريين هم قوم فقهاء، ولهم جيران جفاة من أهل المياه والأعراب، فبلغ ذلك الأشعريين، فأتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا: يا رسول الله ذكرت قوما بخير، وذكرتنا بشر، فما بالنا؟ فقال: ليعلمن قوم جيرانهم وليفقهنهم وليفطننهم وليأمرنهم، وليهينهم وليتعلمن قوم من جيرانهم، ويتفطنون ويتفقهون، أو لأعاجلنهم بالعقوبة في دار الدنيا، فقالوا: يا رسول الله أبطير غيرنا؟ فأعاد قوله عليهم، وأعادوا قولهم أبطير غيرنا؟ فقال: ذلك أيضا، قالوا فأمهلنا سنة فأمهلهم سنة ليفقهوهم ويعلموهم ويفطنوهم، ثم قرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم: {لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرائيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ كَانُوا لا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ} (رواه ابن راهويه والبخارى فى الوحدان وابن السكن وابن منذة والطبرانى فى الكبير)
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
কানযুল উম্মাল খণ্ড-৩ পৃঃ-৩৮৮, জাম'উল ফাওয়াইদ খণ্ড-১ পৃঃ-৫২ (আব্দুর রহমান ইবনে আবযা থেকে তাবারানীর মু'জামুল কবীরের বরাতে)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসের অর্থ বুঝার জন্য যতটুকু ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল তা তরজমার সাথে করা হয়েছে। আলোচ্য হাদীস থেকে জানা গেল, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীনের সাধারণ শিক্ষা-দীক্ষায় এ নীতি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যে, কোন বস্তী বা এলাকার যে ব্যক্তি দীনের ইলম ও জ্ঞান রাখে, তার দায়িত্ব ও ডিউটি হচ্ছে-সে দীনের ব্যাপারে আশে-পাশের অজ্ঞদেরকে আল্লাহর জন্য দীন শিক্ষা দেবে, এবং ওয়াজ নসীহতের মাধ্যমে তাদের দীনী লালন-পালন ও সংশোধনের চেষ্টা করে যাবে। আর এই শিক্ষাসেবাকে স্বীয় জীবনের পরিকল্পনার বিশেষ অংশ বানিয়ে নেবে।
আর দীনে অজ্ঞ মুসলমানগণ এ বিষয় নিজেদের কর্তব্য ও জীবনের প্রয়োজন মনে করবে যে, দীনের জ্ঞানীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে দীন শিখবে এবং তাদের ওয়াজ নসীহত দ্বারা ফায়দা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে গাফলত ও ত্রুটিকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাস্তিযোগ্য অপরাধ নির্ধারণ করেছেন।
দীনী শিক্ষা-দীক্ষার এটা এরূপ সাধারণ পদ্ধতি ছিল যে, এর মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তি মক্তব-মাদ্রাসা ছাড়া এবং কিতাব ও কাগজ কলম ছাড়া, অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক লেখা-পড়া ছাড়াই দীনের আবশ্যকীয় ইলম অর্জন করতে সক্ষম হত। বরং পরিশ্রম ও যোগ্যতা অনুযায়ী দীনী ইলমে পূর্ণতাও অর্জন করতে সক্ষম হত। সাহাবা কিরাম (রা) এবং তাবিঈন-এর গরিষ্ঠ সংখ্যকও এভাবেই দীনী ইলম অজর্ন করেছিলেন। নিঃসন্দেহে তাঁদের ইলম আমাদের কিতাবী ইলম থেকে অধিক পরিপক্ক ও নির্ভরযোগ্য ছিল। তাঁদের পর উম্মতের মধ্যে দীনী ইলম যা ছিল এবং আছে তা সবই তাঁদের ত্যাজ্য।
আক্ষেপ! পরবর্তীকালে উম্মতের মধ্যে। এ পদ্ধতি চালু থাকে নি। যদি চালু থাকত তবে উম্মতের কোন শ্রেণী, কোন দল বরং কোন সদস্য দীন সম্বন্ধে অজ্ঞ ও বেখবর থাকত না। এই শিক্ষা নীতির এটাও বিশেষ কল্যাণ ছিল যে, তখন ইলমের ছাঁচে জীবন অতিবাহিত হত।
হাদীসের শেষে বর্ণিত হয়েছে, আশ'আরী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিবেদন করেন, আমাদেরকে এক বছরের অবকাশ দেওয়া হোক। এ সময়ে ইন্শা আল্লাহ্ আমরা এ শিক্ষা অভিযান পূর্ণ করব। তাঁদের এই আবেদন তিনি মঞ্জুর করেন। এটা যেন সেই অঞ্চলের গোটা আবাদীর জন্য এক সালা শিক্ষা পরিকল্পনা ছিল। এতে কোন সন্দেহ নেই, যদি আজও প্রতিটি দেশ ও প্রতিটি অঞ্চলের সাধারণ অসাধারণ নির্বিশেষে সব মুসলমান এ কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করে, পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্যে পৌছার প্রচেষ্টা চালায়, তবে উম্মতের সব শ্রেণীর মধ্যে ঈমানী জীবন এবং দীনের প্রয়োজনীয় স্তরের জ্ঞান ব্যাপক হতে পারে।
এ কথার ধারাবাহিকতা শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূরা মায়িদার যে দুই আয়াত তিলাওয়াত করেন তাতে বলা হয়েছে, বনী ইসরাঈলের মধ্যে যাদের প্রতি আল্লাহর মর্যাদাবান নবী দাউদ ও ঈসা (আ)-এর ভাষায় লা'নত করা হয়েছে এবং তাদের অভিশপ্ত হওয়ার ঘোষণা হয়েছে, তাদের অভিশপ্ত হওয়ার বিশেষ অপরাধ এই ছিল যে, একে অন্যকে গোনাহ্ ও মন্দকর্ম হতে বিরত রাখতে এবং দীনী ও চারিত্রিক সংশোধনের কোন চিন্তা ও চেষ্টা তাদের ছিল না। জানা গেল, এ অপরাধ এমন শক্ত যে, এ কারণে মানুষ আল্লাহ্ ও তাঁর নবীগণের লা'নতযোগ্য হয়ে পড়ে।
ভাষণে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সতর্কতা ও তিরষ্কার করেছিলেন আলোচ্য আয়াত তার কুরআনী প্রমাণ। তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করে যেন বললেন- আমি যা কিছু ভাষণে বলেছি এবং যে বিষয়ে আমার অবিচলতা, সেটা এই, যার নির্দেশ আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় কুরআন মজীদে উক্ত আয়াত সমূহে উল্লেখ করেছেন।
আর দীনে অজ্ঞ মুসলমানগণ এ বিষয় নিজেদের কর্তব্য ও জীবনের প্রয়োজন মনে করবে যে, দীনের জ্ঞানীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে দীন শিখবে এবং তাদের ওয়াজ নসীহত দ্বারা ফায়দা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে গাফলত ও ত্রুটিকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাস্তিযোগ্য অপরাধ নির্ধারণ করেছেন।
দীনী শিক্ষা-দীক্ষার এটা এরূপ সাধারণ পদ্ধতি ছিল যে, এর মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তি মক্তব-মাদ্রাসা ছাড়া এবং কিতাব ও কাগজ কলম ছাড়া, অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক লেখা-পড়া ছাড়াই দীনের আবশ্যকীয় ইলম অর্জন করতে সক্ষম হত। বরং পরিশ্রম ও যোগ্যতা অনুযায়ী দীনী ইলমে পূর্ণতাও অর্জন করতে সক্ষম হত। সাহাবা কিরাম (রা) এবং তাবিঈন-এর গরিষ্ঠ সংখ্যকও এভাবেই দীনী ইলম অজর্ন করেছিলেন। নিঃসন্দেহে তাঁদের ইলম আমাদের কিতাবী ইলম থেকে অধিক পরিপক্ক ও নির্ভরযোগ্য ছিল। তাঁদের পর উম্মতের মধ্যে দীনী ইলম যা ছিল এবং আছে তা সবই তাঁদের ত্যাজ্য।
আক্ষেপ! পরবর্তীকালে উম্মতের মধ্যে। এ পদ্ধতি চালু থাকে নি। যদি চালু থাকত তবে উম্মতের কোন শ্রেণী, কোন দল বরং কোন সদস্য দীন সম্বন্ধে অজ্ঞ ও বেখবর থাকত না। এই শিক্ষা নীতির এটাও বিশেষ কল্যাণ ছিল যে, তখন ইলমের ছাঁচে জীবন অতিবাহিত হত।
হাদীসের শেষে বর্ণিত হয়েছে, আশ'আরী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিবেদন করেন, আমাদেরকে এক বছরের অবকাশ দেওয়া হোক। এ সময়ে ইন্শা আল্লাহ্ আমরা এ শিক্ষা অভিযান পূর্ণ করব। তাঁদের এই আবেদন তিনি মঞ্জুর করেন। এটা যেন সেই অঞ্চলের গোটা আবাদীর জন্য এক সালা শিক্ষা পরিকল্পনা ছিল। এতে কোন সন্দেহ নেই, যদি আজও প্রতিটি দেশ ও প্রতিটি অঞ্চলের সাধারণ অসাধারণ নির্বিশেষে সব মুসলমান এ কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করে, পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্যে পৌছার প্রচেষ্টা চালায়, তবে উম্মতের সব শ্রেণীর মধ্যে ঈমানী জীবন এবং দীনের প্রয়োজনীয় স্তরের জ্ঞান ব্যাপক হতে পারে।
এ কথার ধারাবাহিকতা শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূরা মায়িদার যে দুই আয়াত তিলাওয়াত করেন তাতে বলা হয়েছে, বনী ইসরাঈলের মধ্যে যাদের প্রতি আল্লাহর মর্যাদাবান নবী দাউদ ও ঈসা (আ)-এর ভাষায় লা'নত করা হয়েছে এবং তাদের অভিশপ্ত হওয়ার ঘোষণা হয়েছে, তাদের অভিশপ্ত হওয়ার বিশেষ অপরাধ এই ছিল যে, একে অন্যকে গোনাহ্ ও মন্দকর্ম হতে বিরত রাখতে এবং দীনী ও চারিত্রিক সংশোধনের কোন চিন্তা ও চেষ্টা তাদের ছিল না। জানা গেল, এ অপরাধ এমন শক্ত যে, এ কারণে মানুষ আল্লাহ্ ও তাঁর নবীগণের লা'নতযোগ্য হয়ে পড়ে।
ভাষণে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সতর্কতা ও তিরষ্কার করেছিলেন আলোচ্য আয়াত তার কুরআনী প্রমাণ। তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করে যেন বললেন- আমি যা কিছু ভাষণে বলেছি এবং যে বিষয়ে আমার অবিচলতা, সেটা এই, যার নির্দেশ আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় কুরআন মজীদে উক্ত আয়াত সমূহে উল্লেখ করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)