মা'আরিফুল হাদীস

ইলম অধ্যায়

হাদীস নং:
ইলম অধ্যায়
দীনী ইলম এবং তা শিক্ষার্থী ও শিক্ষাদানকারীর স্থান ও মর্যাদা
৩. হযরত আবুদ দারদা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি (দীনের) ইলম অর্জনের জন্য কোন পথে চলে এর বিনিময়ে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জান্নাতের পথসমূহের একটি পথে পরিচালিত করেন। আর (তিনি বলেন) আল্লাহ তা'আলার ফেরেস্তাগণ ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য সন্তুষ্টি প্রকাশ (এবং সম্মান) হিসাবে নিজেদের পাখা অবনত করে দেন। আর (বলেন) দীনী ইলম বহনকারীর জন্য আসমান যমীনের যাবতীয় সৃষ্টি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে। এমনকি পানিতে বসবাসকারী মাছও। আর (তিনি বলেন) আবিদগণের ওপর আলিমের এরূপ মর্যাদা অর্জিত যেমন পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মর্যাদা অন্যান্য নক্ষত্রের ওপর। তিনি এটাও বলেছেন, আলিমগণ নবীগণের উত্তরাধিকারী। আর নবীগণ দীনার ও দিরহাম ছেড়ে যাননি বরং তাঁরা উত্তাধিকার হিসাবে ইলম ছেড়ে গেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা অর্জন করল, সে বড় সৌভাগ্য অর্জন করল।
(মুসনাদে আহমদ, জামি' তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে ইবনে মাজাহ্, মুসনাদে দারিমী)।
کتاب العلم
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَطْلُبُ فِيهِ عِلْمًا سَلَكَ اللَّهُ بِهِ طَرِيقًا مِنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ وَالْحِيتَانُ فِي جَوْفِ الْمَاءِ وَإِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ وَإِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ وَإِنَّ الأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلاَ دِرْهَمًا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ. (رواه احمد والترمذى وابوداؤد وابن ماجه والدارمى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

প্রকৃতপক্ষে নবী (আ) গণের ত্যাজ্য হচ্ছে, তাঁদের নিয়ে আসা সেই ইলম যা বান্দাদের পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহর নিকট থেকে নিয়ে এসেছিলেন। আর যে রূপে প্রথমে বলা হয়েছে, তা এ জগতের সর্বাধিক মূল্যবান সম্পদ। তাবারানী মু'জামে আওসাতে এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে, একদিন হযরত আবূ হুরাইরা (রা) বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। লোকজন নিজেদের ব্যবসায় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি তাঁদের বললেন, তোমাদের কি হয়েছে? তোমরা এখানে রয়েছ আর মসজিদে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ত্যাজ্যবিত্ত বন্টিত হচ্ছে? লোকজন মসজিদের দিকে দৌড়ালেন। এরপর প্রত্যাবর্তন করে বললেন, সেখানে তো কিছুই বন্টিত হচ্ছে না! কতক ব্যক্তি নামায পড়ছেন, আর কতক কুরআন তিলাওয়াত করছেন, কেউ কেউ হালাল-হারামের অর্থাৎ শরী'আতের আহকাম ও মাসাইলের কথা আলোচনা করছেন। হযরত আবূ হুরাইরা (রা) বললেন, এটাই তো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উত্তরাধিকার ও তাঁর ত্যাজ্যবিত্ত।
(জাম'উল ফাওয়াইদ খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৩৭)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান