মা'আরিফুল হাদীস
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
হাদীস নং: ২৯
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
আল্লাহ্ তা'আলার নিকট থেকে নবী (আ) গণ এজন্য প্রেরিত হতেন যে, তাঁর বান্দাদেরকে নেকী ও উত্তম কাজের দাওআত দেবেন, পছন্দনীয় কাজ ও চরিত্র এবং সর্ব প্রকার উত্তম কাজের প্রতি তাদের পথ প্রদর্শন করবেন, আর সর্ব প্রকার মন্দ হতে তাদের বারণ ও বাঁচাবার চেষ্টা করবেন। যাতে দুনিয়া ও আখিরাতে তারা আল্লার রহমত ও সন্তুষ্টির যোগ্য হয়। আর তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি হতে নিরাপদ থাকে। এর সামষ্টিক শিরোনাম- دعوت الى الخير أمر بالمعروف اور نہی عن المنكر - যখন শেষ নবী সায়্যিদিনা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর নবুওতের ধারাবাহিকতা শেষ করা হয় তখন কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য এই নবীসুলভ কাজের পূর্ণ দায়িত্ব তাঁর উম্মতের প্রতি অর্পিত হয়। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে-
{وَلۡتَکُنۡ مِّنۡکُمۡ اُمَّۃٌ یَّدۡعُوۡنَ اِلَی الۡخَیۡرِ وَیَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَیَنۡہَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ ؕ وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ} [آل عمران: 104]
'তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা চাই, যারা (মানুষকে) কল্যাণের দিকে ডাকবে, সৎকাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজে বাধা দেবে। এরূপ লোকই সফলতা লাভকারী।' (সূরা আল ইমরান-১০৪)
এর কয়েক আয়াত পর এ সূরায়ই বলা হয়েছে-
{کُنۡتُمۡ خَیۡرَ اُمَّۃٍ اُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَتَنۡہَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَتُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ} [آل عمران: 110]
(হে মুসলিমগণ!) তোমরা সেই শ্রেষ্ঠতম দল, মানুষের কল্যাণের জন্য যাদের অস্তিত্ব দান করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ করে থাক ও অন্যায় কাজে বাধা দিয়ে থাক এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ। (সূরা আল ইমরান-১১০)
বস্তুত নবুওতের ধারাবাহিকতা শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই নবীসুলভ কাজের পূর্ণ দায়িত্ব সর্বদার জন্য মুহাম্মদী উম্মতের প্রতি অর্পিত হয়েছে। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় বাণীসমূহে স্পষ্ট বলেছেন যে, তাঁর যে উম্মত এই দায়িত্ব যথাযত পূর্ণ করবে সে আল্লাহ্ তা'আলার কী রূপ মহান পুরস্কারসমূহের যোগ্য হবে। পক্ষান্তরে যারা এতে ত্রুটি করবে তারা নিজেদের আত্মার প্রতি কত বড় যুলম করবে আর তাদের পরিণাম ও পরিণতি কী রূপ হবে। এ ভূমিকার পর এ সম্বন্ধে নিম্ন বর্ণিত হাদীসসমূহ পড়া যেতে পারে।
হিদায়াত ও ইরশাদ এবং উত্তম কাজের প্রতি আহ্বানের পুরস্কার ও সাওয়াব
আল্লাহ্ তা'আলার নিকট থেকে নবী (আ) গণ এজন্য প্রেরিত হতেন যে, তাঁর বান্দাদেরকে নেকী ও উত্তম কাজের দাওআত দেবেন, পছন্দনীয় কাজ ও চরিত্র এবং সর্ব প্রকার উত্তম কাজের প্রতি তাদের পথ প্রদর্শন করবেন, আর সর্ব প্রকার মন্দ হতে তাদের বারণ ও বাঁচাবার চেষ্টা করবেন। যাতে দুনিয়া ও আখিরাতে তারা আল্লার রহমত ও সন্তুষ্টির যোগ্য হয়। আর তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি হতে নিরাপদ থাকে। এর সামষ্টিক শিরোনাম- دعوت الى الخير أمر بالمعروف اور نہی عن المنكر - যখন শেষ নবী সায়্যিদিনা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর নবুওতের ধারাবাহিকতা শেষ করা হয় তখন কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য এই নবীসুলভ কাজের পূর্ণ দায়িত্ব তাঁর উম্মতের প্রতি অর্পিত হয়। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে-
{وَلۡتَکُنۡ مِّنۡکُمۡ اُمَّۃٌ یَّدۡعُوۡنَ اِلَی الۡخَیۡرِ وَیَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَیَنۡہَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ ؕ وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ} [آل عمران: 104]
'তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা চাই, যারা (মানুষকে) কল্যাণের দিকে ডাকবে, সৎকাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজে বাধা দেবে। এরূপ লোকই সফলতা লাভকারী।' (সূরা আল ইমরান-১০৪)
এর কয়েক আয়াত পর এ সূরায়ই বলা হয়েছে-
{کُنۡتُمۡ خَیۡرَ اُمَّۃٍ اُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَتَنۡہَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَتُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ} [آل عمران: 110]
(হে মুসলিমগণ!) তোমরা সেই শ্রেষ্ঠতম দল, মানুষের কল্যাণের জন্য যাদের অস্তিত্ব দান করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ করে থাক ও অন্যায় কাজে বাধা দিয়ে থাক এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ। (সূরা আল ইমরান-১১০)
বস্তুত নবুওতের ধারাবাহিকতা শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই নবীসুলভ কাজের পূর্ণ দায়িত্ব সর্বদার জন্য মুহাম্মদী উম্মতের প্রতি অর্পিত হয়েছে। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় বাণীসমূহে স্পষ্ট বলেছেন যে, তাঁর যে উম্মত এই দায়িত্ব যথাযত পূর্ণ করবে সে আল্লাহ্ তা'আলার কী রূপ মহান পুরস্কারসমূহের যোগ্য হবে। পক্ষান্তরে যারা এতে ত্রুটি করবে তারা নিজেদের আত্মার প্রতি কত বড় যুলম করবে আর তাদের পরিণাম ও পরিণতি কী রূপ হবে। এ ভূমিকার পর এ সম্বন্ধে নিম্ন বর্ণিত হাদীসসমূহ পড়া যেতে পারে।
হিদায়াত ও ইরশাদ এবং উত্তম কাজের প্রতি আহ্বানের পুরস্কার ও সাওয়াব
২৯. হযরত আবূ মাসউদ আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কোন ভাল কাজের (কোন লোককে) পথ প্রদর্শন করে তবে সে ব্যক্তি সেই ভাল কাজ সম্পাদনকারী ব্যক্তির পুরস্কারের সমানই পুরস্কার পাবে। (সহীহ্ মুসলিম)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ. (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসের উদ্দেশ্য ও দাবি এ দৃষ্টান্ত দ্বারা উত্তমরূপে বুঝা যেতে পারে যে, এক ব্যক্তি নামাযে অভ্যস্ত ছিল না। আপনার দাওআত, উৎসাহ ও মেহনতের ফলস্বরূপ সে নিয়মিত নামায পড়তে থাকে। সে কুরআন মজীদের তিলাওয়াত ও আল্লাহর যিকির থেকে গাফিল ছিল, আপনার দাওআত ও চেষ্টার ফল স্বরূপ সে কুরআন মজীদ দৈনন্দিন তিলাওয়াত করতে থাকে, যিকির ও তাসবীহেও অভ্যস্ত হয়ে গেছে। সে যাকাতও প্রদান করত না, আপনার আন্তরিক দাওআত ও তাবলীগের প্রভাবে সে যাকাতও প্রদান করতে থাকে, এভাবে অন্যান্য সৎকাজে অভ্যস্ত হয়ে যায় তখন সে সারা জীবনের নামায, যিকির, তিলাওয়াত, যাকাত ও সাদকাহ এবং অন্যান্য ভাল কাজের যত পুরস্কার ও সাওয়াব আখিরাতে পাবে, (আলোচ্য হাদীসের সুসংবাদ মুতাবিক) পুরস্কার হিসাবে আল্লাহ্ তা'আলা নিজের অফুরন্ত করুণার ভাণ্ডার থেকে ততটুকু সাওয়াব সেই আহ্বানকারী বান্দাকে দান করবেন যার দাওআত ও তাবলীগে সে এই উত্তম কাজের প্রতি আগ্রাহান্বিত ও অভ্যস্ত হয়েছে।
ঘটনা এই যে, এ পথে যত পুরস্কার ও সাওয়াব এবং আখিরাতে যে মর্যাদা অর্জন করা যায় তা অন্য কোন পথে অর্জন করা যায় না। বুযুর্গানে দীনের পরিভাষায় এটা নবুওতের পথের রীতিনীতি। তবে শর্ত হচ্ছে, একমাত্র আল্লাহর জন্য ও কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণের জন্য হতে হবে।
ঘটনা এই যে, এ পথে যত পুরস্কার ও সাওয়াব এবং আখিরাতে যে মর্যাদা অর্জন করা যায় তা অন্য কোন পথে অর্জন করা যায় না। বুযুর্গানে দীনের পরিভাষায় এটা নবুওতের পথের রীতিনীতি। তবে শর্ত হচ্ছে, একমাত্র আল্লাহর জন্য ও কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণের জন্য হতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)