মা'আরিফুল হাদীস
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৯
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
আল্লাহর পথে জিহাদ, হত্যা ও শাহাদত
যেরূপ জানা আছে, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে সব নবী ও রাসূল এজন্যই প্রেরিত হয়েছিলেন যে, তাঁর বান্দাদের 'সত্য-দীন' অথার্ৎ জীবনের সেই ইবাদত ও উত্তম পথের দাওআত ও শিক্ষা দেবেন এবং এ পথে পরিচালনার চেষ্টা করবেন যা তাঁদের সৃষ্টিকর্তা প্রভু তাঁদের জন্য স্থির করেছেন। এতেই রয়েছে তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ও সফলতা। এর ওপর যারা চলে তাদের প্রতি রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি, রহমত ও জান্নাতের জিম্মাদারী।
কুরআন মজীদের বর্ণনা এবং আমাদের বিশ্বাস যে, সব নবী ও রাসূল (আ)ই স্ব-স্ব যুগে ও গণ্ডীতে এ পথেই আহ্বান করেছেন এবং এ জন্যই চেষ্টা-প্রচেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রায় সবার সাথেই এরূপ ব্যবহার করা হয়েছে যে, তাঁদের যুগে তাঁদের জাতির মন্দ ও দুরাত্মা ব্যক্তিরা তাঁদের সত্য আহ্বানকে কেবল কবুল করেনি নয় বরং প্রচণ্ড বিরোধিতা ও বাধা দান করেছে। অন্যদের পথেও বাধা দিয়েছে। যখন তারা শক্তির অধিকারী হয় তখন তারা আল্লাহর নবীগণ ও তাঁদের প্রতি ঈমান গ্রহণকারীদের অত্যাচার ও আক্রমণের লক্ষ্যস্থলে পরিণত করে। নিঃসন্দেহে নবী (আ) গণের সত্য আহ্বানের এসব দুশমন, মানব ও মানবতার অধিকারে সাপ থেকে অধিক বিষাক্ত ও বিপদজনক ছিল। এজন্য প্রায়ই এরূপ হয়েছে যে, এ জাতীয় ব্যক্তিবর্গ ও এরূপ জাতিগুলোর প্রতি আল্লাহর আযাব নাযিল হয়েছে। ফলে ধরার বুক থেকে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। তারা ছিল وَمَا ظَلَمَهُمُ اللَّهُ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ আয়াতের যোগ্য। নবী (আ) গণ ও তাঁদের মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের এ অবস্থাদি কুরআন মজীদে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সর্বশেষে শেষ নবী সায়্যিদিনা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হলেন। পূর্ববর্তী নবীগণের ন্যায় তিনিও দীনে হকের দাওআত দিলেন। কতক উত্তমস্বভাব বান্দা তাঁর দাওআত গ্রহণ করেন। কুফুর, শিরক; ফিস্ক, পাপাচার ও সীমা লংঘনের জাহিলী জীবন ছেড়ে তারা আল্লাহর ইবাদত সম্পর্কীয় পবিত্র জীবন গ্রহণ করেন, যে জীবনের প্রতি তিনি আহ্বান করতেন। কিন্তু জাতির অধিকাংশ প্রধান ও নেতাগণ প্রচণ্ড বিরোধিতা ও বাধার নীতি অবলম্বন করে। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উত্যুক্ত করে। তাঁর প্রতি ঈমান গ্রহণকারীদেরকেও উত্যুক্ত করে। বিশেষ করে দুর্বল ও দরিদ্র ব্যক্তিবগের প্রতি অত্যাচার ও বিপদের পাহাড় পতিত হয়।
মক্কার হতভাগা আবু জাহল, আবু লাহাব প্রমুখ নিঃসন্দেহে এরূপই ছিল যে, পূর্ববর্তী শাস্তিপ্রাপ্ত লোকদের ন্যায় তাদের প্রতিও আসমানী আযাব আসত, আর তাদের অস্তিত্ব থেকে ধরা পৃষ্ঠকে পবিত্র করা হত। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ্ তা'আলা 'সায়্যিদুল মুরসালীন' ও 'খাতিমুন্নাবিয়্যীন' ছাড়াও 'রাহমাতুল্লিল আলামীন' করে পাঠিয়ে ছিলেন। এর ভিত্তিতে তাঁর জন্য ফায়সালা করা হয় যে, তাঁর বিরোধী ও তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী এবং উত্যক্তকারী নিকৃষ্ঠতম শত্রুদের প্রতিও আসমানী শাস্তি অবতীর্ণ করা হবে না। এর পরিবর্তে তাঁর প্রতি ঈমান গ্রহণকারীদের মাধ্যমেই তাদের শক্তি খর্ব করে দেওয়া হবে এবং 'দীনে হক'-এর দাওআতের পথ নিষ্কষ্ঠক করা হবে। আর তাঁদের হাতেই এ সব অপরাধীদেরকে শাস্তি প্রদান করা হবে। এ কাজে তাঁদের ভূমিকা হবে আল্লাহর সৈন্য ও কর্মী বাহিনীরূপে। সুতরাং এজন্য যখন আল্লাহর নির্ধারিত সময় এসে গেল তখন নবুওতের এয়োদশ সালে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রতি ঈমান গ্রহণকারীদের মক্কা মুয়ায্যমা থেকে হিজরতের নির্দেশ দেওয়া হল।
এই হিজরত প্রকৃতপক্ষে 'দীনে হক'-এর দাওআতের সেই দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা ছিল, যে জন্য ঈমান গ্রহণকারী দাওআত বহনকারীদের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশ ছিল যে, মু'মিনদের বাধাদানকারী, অত্যাচার ও উত্যক্তকারী দুষ্ট নিচাশয়দের প্রতিপত্তি খর্ব ও দাওআতে হকের পথ নিষ্কষ্ঠক করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের জান ও নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামবে। এরই শিরোনাম 'আল্লাহর পথে জিহাদ ও কিতাল'। আর এই পথে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করার নাম শাহাদত। সম্মানিত পাঠক! এ ভূমিকা দ্বারা হয় তো বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, কুফুর ও কাফিরের বিরুদ্ধে মু'মিনদের সশস্ত্র চেষ্টা-প্রচেষ্টা (আক্রমণাত্মক হোক অথবা প্রতিরক্ষামূলক, আল্লাহ্ ও রাসূলের নিকট এবং শরী'আতের পরিভাষায় যখনই 'জিহাদ ও কিতাল ফী সাবিলিল্লাহ্' বলা হয়, তখন এর উদ্দেশ্য সত্য দীনের হিফাযত ও সাহায্য) কিংবা দীনের পথ নিষ্কণ্ঠক করা ও আল্লাহর বান্দাদের তাঁর রহমতের যোগ্য ও জান্নাতী করা। কিন্তু শক্তি পরীক্ষার উদ্দেশ্য যদি রাষ্ট্র ও সম্পদ লাভ হয় অথবা নিজের ব্যক্তিগত কিংবা দেশের পতাকা সমুন্বত রাখা হয়, তবে তা কখনো জিহাদ ও কিতাল ফী সাবিলিল্লাহ্ হয় না।
উপরোক্ত লাইনগুলোতে যা নিবেদন করা হয়েছে, তা থেকে পাঠকবর্গ হয় তো এটাও অবগত হয়ে থাকবেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শরী'আতে জিহাদের নির্দেশ ও নীতি এ দৃষ্টিকোণ থেকে 'বিরাট রহমত'। নবী (আ) গণের সত্য দাওআতের মিথ্যা প্রতিপন্নকারী ও বাধাদানকারীদের প্রতি যেরূপ আসমানী শাস্তি পূর্বে এসে থাকত, এখন কিয়ামত পর্যন্ত কখনো তা আসবে না। যেন জিহাদ এক পর্যায়ে সেই শাস্তির স্থলবর্তী।
والله اعلَمُ
এ ভূমিকার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিম্ন বর্ণিত বাণী সমূহ পাঠ করা যেতে পারে, যে গুলোতে বিভিন্ন শিরোনামে আল্লাহর পথে জিহাদ ও শাহাদতের ফযীলতসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে।
যেরূপ জানা আছে, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে সব নবী ও রাসূল এজন্যই প্রেরিত হয়েছিলেন যে, তাঁর বান্দাদের 'সত্য-দীন' অথার্ৎ জীবনের সেই ইবাদত ও উত্তম পথের দাওআত ও শিক্ষা দেবেন এবং এ পথে পরিচালনার চেষ্টা করবেন যা তাঁদের সৃষ্টিকর্তা প্রভু তাঁদের জন্য স্থির করেছেন। এতেই রয়েছে তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ও সফলতা। এর ওপর যারা চলে তাদের প্রতি রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি, রহমত ও জান্নাতের জিম্মাদারী।
কুরআন মজীদের বর্ণনা এবং আমাদের বিশ্বাস যে, সব নবী ও রাসূল (আ)ই স্ব-স্ব যুগে ও গণ্ডীতে এ পথেই আহ্বান করেছেন এবং এ জন্যই চেষ্টা-প্রচেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রায় সবার সাথেই এরূপ ব্যবহার করা হয়েছে যে, তাঁদের যুগে তাঁদের জাতির মন্দ ও দুরাত্মা ব্যক্তিরা তাঁদের সত্য আহ্বানকে কেবল কবুল করেনি নয় বরং প্রচণ্ড বিরোধিতা ও বাধা দান করেছে। অন্যদের পথেও বাধা দিয়েছে। যখন তারা শক্তির অধিকারী হয় তখন তারা আল্লাহর নবীগণ ও তাঁদের প্রতি ঈমান গ্রহণকারীদের অত্যাচার ও আক্রমণের লক্ষ্যস্থলে পরিণত করে। নিঃসন্দেহে নবী (আ) গণের সত্য আহ্বানের এসব দুশমন, মানব ও মানবতার অধিকারে সাপ থেকে অধিক বিষাক্ত ও বিপদজনক ছিল। এজন্য প্রায়ই এরূপ হয়েছে যে, এ জাতীয় ব্যক্তিবর্গ ও এরূপ জাতিগুলোর প্রতি আল্লাহর আযাব নাযিল হয়েছে। ফলে ধরার বুক থেকে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। তারা ছিল وَمَا ظَلَمَهُمُ اللَّهُ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ আয়াতের যোগ্য। নবী (আ) গণ ও তাঁদের মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের এ অবস্থাদি কুরআন মজীদে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সর্বশেষে শেষ নবী সায়্যিদিনা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হলেন। পূর্ববর্তী নবীগণের ন্যায় তিনিও দীনে হকের দাওআত দিলেন। কতক উত্তমস্বভাব বান্দা তাঁর দাওআত গ্রহণ করেন। কুফুর, শিরক; ফিস্ক, পাপাচার ও সীমা লংঘনের জাহিলী জীবন ছেড়ে তারা আল্লাহর ইবাদত সম্পর্কীয় পবিত্র জীবন গ্রহণ করেন, যে জীবনের প্রতি তিনি আহ্বান করতেন। কিন্তু জাতির অধিকাংশ প্রধান ও নেতাগণ প্রচণ্ড বিরোধিতা ও বাধার নীতি অবলম্বন করে। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উত্যুক্ত করে। তাঁর প্রতি ঈমান গ্রহণকারীদেরকেও উত্যুক্ত করে। বিশেষ করে দুর্বল ও দরিদ্র ব্যক্তিবগের প্রতি অত্যাচার ও বিপদের পাহাড় পতিত হয়।
মক্কার হতভাগা আবু জাহল, আবু লাহাব প্রমুখ নিঃসন্দেহে এরূপই ছিল যে, পূর্ববর্তী শাস্তিপ্রাপ্ত লোকদের ন্যায় তাদের প্রতিও আসমানী আযাব আসত, আর তাদের অস্তিত্ব থেকে ধরা পৃষ্ঠকে পবিত্র করা হত। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ্ তা'আলা 'সায়্যিদুল মুরসালীন' ও 'খাতিমুন্নাবিয়্যীন' ছাড়াও 'রাহমাতুল্লিল আলামীন' করে পাঠিয়ে ছিলেন। এর ভিত্তিতে তাঁর জন্য ফায়সালা করা হয় যে, তাঁর বিরোধী ও তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী এবং উত্যক্তকারী নিকৃষ্ঠতম শত্রুদের প্রতিও আসমানী শাস্তি অবতীর্ণ করা হবে না। এর পরিবর্তে তাঁর প্রতি ঈমান গ্রহণকারীদের মাধ্যমেই তাদের শক্তি খর্ব করে দেওয়া হবে এবং 'দীনে হক'-এর দাওআতের পথ নিষ্কষ্ঠক করা হবে। আর তাঁদের হাতেই এ সব অপরাধীদেরকে শাস্তি প্রদান করা হবে। এ কাজে তাঁদের ভূমিকা হবে আল্লাহর সৈন্য ও কর্মী বাহিনীরূপে। সুতরাং এজন্য যখন আল্লাহর নির্ধারিত সময় এসে গেল তখন নবুওতের এয়োদশ সালে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রতি ঈমান গ্রহণকারীদের মক্কা মুয়ায্যমা থেকে হিজরতের নির্দেশ দেওয়া হল।
এই হিজরত প্রকৃতপক্ষে 'দীনে হক'-এর দাওআতের সেই দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা ছিল, যে জন্য ঈমান গ্রহণকারী দাওআত বহনকারীদের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশ ছিল যে, মু'মিনদের বাধাদানকারী, অত্যাচার ও উত্যক্তকারী দুষ্ট নিচাশয়দের প্রতিপত্তি খর্ব ও দাওআতে হকের পথ নিষ্কষ্ঠক করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের জান ও নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামবে। এরই শিরোনাম 'আল্লাহর পথে জিহাদ ও কিতাল'। আর এই পথে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করার নাম শাহাদত। সম্মানিত পাঠক! এ ভূমিকা দ্বারা হয় তো বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, কুফুর ও কাফিরের বিরুদ্ধে মু'মিনদের সশস্ত্র চেষ্টা-প্রচেষ্টা (আক্রমণাত্মক হোক অথবা প্রতিরক্ষামূলক, আল্লাহ্ ও রাসূলের নিকট এবং শরী'আতের পরিভাষায় যখনই 'জিহাদ ও কিতাল ফী সাবিলিল্লাহ্' বলা হয়, তখন এর উদ্দেশ্য সত্য দীনের হিফাযত ও সাহায্য) কিংবা দীনের পথ নিষ্কণ্ঠক করা ও আল্লাহর বান্দাদের তাঁর রহমতের যোগ্য ও জান্নাতী করা। কিন্তু শক্তি পরীক্ষার উদ্দেশ্য যদি রাষ্ট্র ও সম্পদ লাভ হয় অথবা নিজের ব্যক্তিগত কিংবা দেশের পতাকা সমুন্বত রাখা হয়, তবে তা কখনো জিহাদ ও কিতাল ফী সাবিলিল্লাহ্ হয় না।
উপরোক্ত লাইনগুলোতে যা নিবেদন করা হয়েছে, তা থেকে পাঠকবর্গ হয় তো এটাও অবগত হয়ে থাকবেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শরী'আতে জিহাদের নির্দেশ ও নীতি এ দৃষ্টিকোণ থেকে 'বিরাট রহমত'। নবী (আ) গণের সত্য দাওআতের মিথ্যা প্রতিপন্নকারী ও বাধাদানকারীদের প্রতি যেরূপ আসমানী শাস্তি পূর্বে এসে থাকত, এখন কিয়ামত পর্যন্ত কখনো তা আসবে না। যেন জিহাদ এক পর্যায়ে সেই শাস্তির স্থলবর্তী।
والله اعلَمُ
এ ভূমিকার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিম্ন বর্ণিত বাণী সমূহ পাঠ করা যেতে পারে, যে গুলোতে বিভিন্ন শিরোনামে আল্লাহর পথে জিহাদ ও শাহাদতের ফযীলতসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে।
৩৯. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (একদিন) বলেন, যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহকে নিজের রব, ইসলামকে নিজের দীন ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহর রাসূল ও পথ প্রদর্শক জেনেছে তাঁর জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যবান মুবারক থেকে এ সু-সংবাদ শুনে হাদীসের বর্ণনাকারী) আবূ সাঈদ খুদরী (রা) অতিশয় আনন্দিত হলেন (তিনি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে) নিবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ কথা পুনরায় বলুন। সুতরাং তিনি পুনরায় বললেন। (এর সাথে অতিরিক্ত এটাও) তিনি বললেন যে, আরেকটি দীনী কাজ (যা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট বিরাট) সেই কাজ সম্পাদনকারীকে আল্লাহ্ তা'আলা জান্নাতের শত উঁচু দরজা দান করবেন, যেগুলোর পরস্পরের মধ্যে আসমান যমীনের দূরত্ব হবে। (এ কথা শুনে আবূ সাঈদ খুদরী (রা) নিবেদন করলেন) হুযূর! সেটা কোন্ কাজ? তিনি বললেন, সেটা আল্লাহর পথে জিহাদ, আল্লাহরপথে জিহাদ, আল্লাহর পথে জিহাদ। (সহীহ্ মুসলিম)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَا أَبَا سَعِيدٍ مَنْ رَضِيَ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ. فَعَجِبَ لَهَا أَبُو سَعِيدٍ فَقَالَ أَعِدْهَا عَلَيَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَفَعَلَ ثُمَّ قَالَ: وَأُخْرَى يُرْفَعُ بِهَا الْعَبْدُ مِائَةَ دَرَجَةٍ فِي الْجَنَّةِ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ. قَالَ وَمَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ. (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
প্রকাশ থাকে, যে ব্যক্তি মনে প্রাণে আল্লাহু তা'আলাকে নিজের রব এবং সায়্যিদিনা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজের রাসূল ও ইসলামকে নিজের দীন বানাবে, তাঁর জীবনও ইসলামী হবে। সে স্বীয় প্রভুর নির্দেশ পালনকারী এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুগত হবে। এ রূপ বান্দাদেরকে তিনি সুসংবাদ প্রদান করেছেন যে, তাঁদের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার নিকট জান্নাতের ফায়সালা হয়ে গেছে, জান্নাত তাঁদের জন্য ওয়াজিব হয়ে গেছে। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যবান মুবারক থেকে এ সুসংবাদ শুনে সীমাহীন খুশী হন। (সম্ভবত এজন্য যে, আল্লাহ্ তা'আলার দয়া ও করুণায় এ সম্পদ তাঁর অর্জিত হয়েছিল)। তিনি (আনন্দে ও আবেগের অবস্থায়) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট নিবেদন করলেন, হুযূর! পুনরায় বলুন। তিনি পুনরায় বলেছিলেন এবং এতদসঙ্গে অতিরিক্ত বললেন, আরেকটি কাজ এরূপ যার সম্পাদনকারীকে শত উঁচু দরজা দান করবেন। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এটা আল্লাহর পথে জিহাদ, আল্লাহর পথে জিহাদ, আল্লাহর পথে জিহাদ।
উত্তরে তিনি তিনবার বললেন, الجهاد في سبيل الله এতে প্রত্যেক আগ্রহান্বিত ব্যক্তি বুঝতে সক্ষম হবেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হৃদয় মুবারকে জিহাদের কীরূপ মর্যাদা, ভালবাসা ও আগ্রহ ছিল। প্রকাশ থাকে যে, আখিরাত, জান্নাত ও জাহান্নাম সম্বন্ধে কুরআন ও হাদীসে যা কিছু বলা হয়েছে, তাঁর পূর্ণ রহস্য সেখানে পৌঁছেই জানা যাবে। আমাদের এ জগতে এর কোন উপমা ও দৃষ্টান্ত বিদ্যমান নেই। কেবল অন্তর দিয়ে আমাদের মেনে নেওয়া ও বিশ্বাস করে নেওয়া উচিত যে, আল্লাহ্ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন তা সত্য ও সঠিক। যথা সময়ে তা প্রকাশ পাবে। ইন্শাআল্লাহ্ এটা আমরাও দেখব।
উত্তরে তিনি তিনবার বললেন, الجهاد في سبيل الله এতে প্রত্যেক আগ্রহান্বিত ব্যক্তি বুঝতে সক্ষম হবেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হৃদয় মুবারকে জিহাদের কীরূপ মর্যাদা, ভালবাসা ও আগ্রহ ছিল। প্রকাশ থাকে যে, আখিরাত, জান্নাত ও জাহান্নাম সম্বন্ধে কুরআন ও হাদীসে যা কিছু বলা হয়েছে, তাঁর পূর্ণ রহস্য সেখানে পৌঁছেই জানা যাবে। আমাদের এ জগতে এর কোন উপমা ও দৃষ্টান্ত বিদ্যমান নেই। কেবল অন্তর দিয়ে আমাদের মেনে নেওয়া ও বিশ্বাস করে নেওয়া উচিত যে, আল্লাহ্ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন তা সত্য ও সঠিক। যথা সময়ে তা প্রকাশ পাবে। ইন্শাআল্লাহ্ এটা আমরাও দেখব।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)