মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ২০৩
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হযরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রাযি.
২০৩. হযরত কায়েস ইবনে আবী হাযেম রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত তালহা রাযি.-এর হাতটি অবশ অবস্থায় দেখেছি, যে হাত দ্বারা তিনি উহুদ যুদ্ধের দিন নবী করীম (ﷺ)কে (শত্রুদের তীর থেকে) রক্ষা করেছিলেন। (বুখারী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ قَيْسِ ابْنِ حَازِمٍ قَالَ: «رَأَيْتُ يَدَ طَلْحَةَ شَلَّاءَ وَقَى بِهَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ» (رواه البخارى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উহুদ যুদ্ধের দিন একটি সময় এমন আসল যে, শত্রু সৈন্যদের তীরান্দাযগণ বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তাদের তীরের নিশানা বানিয়ে তাঁকে শহীদ করে দিতে চাইল। এ মুহূর্তে যখন হুযুর (ﷺ)-এর উপর মূষলধারায় বৃষ্টির মত তীর নিক্ষেপ করা হচ্ছিল, তখন হযরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রাযি. নিজের ঢাল দ্বারা হুযুর (ﷺ)কে রক্ষা করার চেষ্টা করলেন। এ অবস্থায় তার হাত এমন আহত হল যে, ঢালটি হাত থেকে পড়ে গেল। এবার তিনি নিজের শরীরকে বিশেষভাবে নিজের দু'টি হাতকে ঢাল বানিয়ে নিলেন এবং হুযুর (ﷺ)-এর প্রতি নিক্ষিপ্ত প্রতিটি তীরকে নিজের গায়ে নিয়ে নিলেন, শত্রুর নিক্ষিপ্ত একটি তীরকেও হুযুর (ﷺ)-এর দেহে পড়তে দিলেন না। যার ফলে একটি হাত তো সম্পূর্ণ অবশ হয়ে গেল, আর সারা শরীর চালনির ন্যায় হয়ে গেল। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, তাঁর শরীরে আশিটির চেয়ে বেশী আঘাত লেগেছিল, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি বেঁচে থাকলেন এবং উহুদের পরও প্রায় প্রতিটি যুদ্ধে হুযুর (ﷺ)-এর সাথে অংশ গ্রহণ করেন। তারপর হুযুর (ﷺ)-এর ওফাতের পর হযরত উসমান রাযি.-এর শাহাদত পর্যন্ত দ্বীন ও মুসলিম উম্মাহর খেদমতই তাঁর লক্ষ্য ও জীবনের উদ্দেশ্য ছিল। অবশেষে তিনি জঙ্গে জামালে শহীদ হন। رضى اللهُ عَنْهُ وأرضاه
এ রেওয়ায়াত সম্পর্কে এ কথাটিও উল্লেখ করার মত যে, এর রাবী কায়েস ইবনে আবূ হাযেম প্রচলিত পরিভাষা অনুযায়ী সাহাবী নন। তিনি হুযুর (ﷺ)-এর জীবদ্দশায়ই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর মুবারক হাতে বায়আত গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে মদীনা মুনাওয়ারার দিকে সফর করে ছিলেন। কিন্তু এমন সময় পৌঁছলেন, যখন হুযুর (ﷺ) এ দুনিয়া থেকে মহান প্রভুর সান্নিধ্যে চলে গিয়েছিলেন। এ জন্য তিনি যদিও তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু যেহেতু তিনি হুযুর (ﷺ)-এর খেদমতে উপস্থিত, সাক্ষাত লাভ ও বায়আতের ইচ্ছায় মদীনার দিকে সফর করেছিলেন, এজন্য ঐসব কিতাবে যেগুলো সাহাবায়ে কেরামের অবস্থাই বর্ণনা করার জন্য লিখা হয়েছে, সেখানে তাঁরও আলোচনা করা হয়েছে। এসব কিতাবের সংকলকগণ যেন হুযুর (ﷺ)-এর হাদীস إنما الأعمال بالنية، وإنما لامرئ ما نوى -এর আলোকে তার নিয়্যতকেই কর্মের স্থলাভিষিক্ত ধরে নিয়ে তাঁকে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যেই গণ্য করে নিয়েছেন।
এ রেওয়ায়াত সম্পর্কে এ কথাটিও উল্লেখ করার মত যে, এর রাবী কায়েস ইবনে আবূ হাযেম প্রচলিত পরিভাষা অনুযায়ী সাহাবী নন। তিনি হুযুর (ﷺ)-এর জীবদ্দশায়ই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর মুবারক হাতে বায়আত গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে মদীনা মুনাওয়ারার দিকে সফর করে ছিলেন। কিন্তু এমন সময় পৌঁছলেন, যখন হুযুর (ﷺ) এ দুনিয়া থেকে মহান প্রভুর সান্নিধ্যে চলে গিয়েছিলেন। এ জন্য তিনি যদিও তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু যেহেতু তিনি হুযুর (ﷺ)-এর খেদমতে উপস্থিত, সাক্ষাত লাভ ও বায়আতের ইচ্ছায় মদীনার দিকে সফর করেছিলেন, এজন্য ঐসব কিতাবে যেগুলো সাহাবায়ে কেরামের অবস্থাই বর্ণনা করার জন্য লিখা হয়েছে, সেখানে তাঁরও আলোচনা করা হয়েছে। এসব কিতাবের সংকলকগণ যেন হুযুর (ﷺ)-এর হাদীস إنما الأعمال بالنية، وإنما لامرئ ما نوى -এর আলোকে তার নিয়্যতকেই কর্মের স্থলাভিষিক্ত ধরে নিয়ে তাঁকে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যেই গণ্য করে নিয়েছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)