কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

৭. তালাক - ডিভোর্স অধ্যায়

হাদীস নং: ২১৭৯
আন্তর্জাতিক নং: ২১৮২
তালাক - ডিভোর্স অধ্যায়
১৪৮. সুন্নত তরীকায় তালাক।
২১৭৯. আহমদ ইবনে সালিহ ..... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দেন। তখন উমর (রাযিঃ) এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি রাগান্বিত হন এবং বলেন, তুমি তাকে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে বলো। অতঃপর যতক্ষণ না সে হায়য হতে পবিত্র হয়, ততক্ষণ নিজের নিকট রাখতে বলো। অতঃপর পুনরায় সে ঋতুবতী হয়ে পাবিত্র হলে, সে ইচ্ছা করলে তাকে সহবাসের পূর্বে পবিত্রাবস্থায় তালাক প্রদান করতে পারে। আর এ তালাক (পবিত্রবস্থায়) ইদ্দতের জন্য, যেরূপ আল্লাহ্ তাআলা নির্দেশ করেছেন।
كتاب الطلاق
باب فِي طَلاَقِ السُّنَّةِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَذَكَرَ ذَلِكَ عُمَرُ لِرَسُولِ صلى الله عليه وسلم فَتَغَيَّظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ فَتَطْهُرَ ثُمَّ إِنْ شَاءَ طَلَّقَهَا طَاهِرًا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ فَذَلِكَ الطَّلاَقُ لِلْعِدَّةِ كَمَا أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীস থেকে জানা গেল যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয়া শক্ত গুনাহের কাজ। যদি কেউ ভুলবশত এরূপ করে তবে তাকে ফিরিয়ে নেয়া চাই। এরপর যদি তালাক দেয়ার ইচ্ছা অটুট থাকে তবে সেই পবিত্রাবস্থায় তালাক দিতে হবে যার মধ্যে সহবাসের সুযোগ হয়নি। এর রহস্য সুস্পষ্ট যে, অপবিত্র অবস্থায় নারী আকর্ষণযোগ্য থাকে না। পবিত্রাবস্থায় এটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে, স্বামীর হৃদয়ে আকর্ষণ সৃষ্টি হবে আর তালাক প্রদানের ইচ্ছাই শেষ হয়ে যাবে। আর আল্লাহ ও রাসুলের এতেই অধিক সন্তুষ্টি।

উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে নির্দেশ দিলেন যে, অন্তর্বর্তী অবস্থায় তিনি যে তালাক দিয়েছিলেন তাতে তিনি তাঁকে পুনঃ গ্রহণ করবেন এবং একটি পবিত্রকাল অতিক্রান্ত হতে দেবেন। এরপর যদি তালাক দিতেই হয় তবে দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় দেবে। এটারও প্রকাশ্য উদ্দেশ্য ইহাই যে, মধ্যবর্তী পবিত্র অবস্থায় যখন উভয়ে একত্রে বাস করবে তবে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, সম্পর্কের মধ্যে পুনরায় প্রফুল্লতা আসবে এবং তালাকের সুযোগই আসবে না। কিন্তু যদি এরূপ হয় বরং তালাক দেওয়ারই সিদ্ধান্ত হয় তবে তিনি অনুমতি প্রদান করেছেন যে, দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় সহবাসের পূর্বে তালাক দেবে। ‘সহবাসের পূর্বে’ বাধ্যবাধকতা সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যও এটাই যে, যখন অপবিত্র অবস্থায় দিনগুলো শেষ হয়ে যায় তখন প্রাকৃতিকভাবে সহবাসের আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এভাবে এই বাধ্যবাধকতাও তালাক প্রদানের প্রতিবন্ধকতার কারণ হতে পারে।

উক্ত ঘটনায় রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে পুনরায় গ্রহণের যে নির্দেশ প্রদান করেন তাতে জানা গেল যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যদিও নাজায়িয এবং শক্ত গুনাহর বিষয় তবুও তালাক অনুষ্ঠিত হয়ে যায়। যদি অনুষ্ঠিত না হত তবে পুনরায় গ্রহণের প্রয়োজনই হত না। আর হুজুর ﷺ পুনরায় গ্রহণের নির্দেশ প্রদানের স্থলে এটা বলতেন যে, তালাক অনুষ্ঠিতই হয়নি।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)