কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
৮. রোযার অধ্যায়
হাদীস নং: ২৩৩৫
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৪২
রোযার অধ্যায়
২০৭. রমযানের চাঁদ দেখার ব্যাপারে এক ব্যক্তির সাক্ষ্য।
২৩৩৫. মুহামূদ ইবনে খালিদ ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্দুর রহমান সমরকান্দী .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা লোকেরা রমযানের চাঁদ অন্বেষণ করে, কিন্তু দেখতে পায়নি। পরে এক ব্যক্তি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)কে এরূপ খবর দেয় যে, সে চাঁদ দেখেছে। এরপর তিনি রোযা রাখেন এবং লোকদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দেন।
كتاب الصوم
باب فِي شَهَادَةِ الْوَاحِدِ عَلَى رُؤْيَةِ هِلاَلِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّمَرْقَنْدِيُّ، - وَأَنَا لِحَدِيثِهِ، أَتْقَنُ - قَالاَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - هُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ تَرَاءَى النَّاسُ الْهِلاَلَ فَأَخْبَرْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِّي رَأَيْتُهُ فَصَامَهُ وَأَمَرَ النَّاسَ بِصِيَامِهِ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস দ্বারা একথা জানা গেল যে, রমযানের চাঁদ প্রমাণিত হওয়ার জন্য কেবল একজন মুসলমানের সাক্ষ্য এবং সংবাদও যথেষ্ট হতে পারে। ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর প্রসিদ্ধ বক্তব্য অনুযায়ী একজন মানুষের সাক্ষ্য ঐ অবস্থায় যথেষ্ট হয়, যখন আকাশ পরিষ্কার না থাকে; বরং মেঘ অথবা ধূলিকণায় আচ্ছন্ন থাকে অথবা সে বাইরের কোন উঁচু অঞ্চল থেকে এসে থাকে। কিন্তু আকাশ যদি সম্পূর্ণ পরিষ্কার থাকে এবং যে চাঁদ দেখেছে, সে যদি বাইরের কোন উঁচু স্থান থেকেও না এসে থাকে; বরং এ জনপদেই চাঁদ দেখার দাবী করে-যেখানে চেষ্টা সত্ত্বেও অন্য কেউ চাঁদ দেখে নাই, এমতাবস্থায় এ ব্যক্তির সাক্ষ্য দ্বারা চাঁদ দেখা প্রমাণিত হওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না; বরং এ অবস্থায় চাঁদ দর্শনকারী লোকের সংখ্যা এ পরিমাণ হওয়া চাই, যাদের সাক্ষ্যের উপর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়। ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর প্রসিদ্ধ মত এটাই। তবে ইমাম সাহেব (রহঃ)-এর একটি বক্তব্য এও রয়েছে যে, রমযানের চাঁদ প্রমাণিত হওয়ার জন্য একজন দ্বীনদার ও নির্ভরযোগ্য মুসলমানের সাক্ষ্য যে কোন অবস্থায়ই যথেষ্ট। আর অধিকাংশ অন্য ইমামদের মতও এটাই।
এখানে যাকিছু আলোচনা করা হয়েছে, এর সম্পর্ক রমযানের চাঁদ দেখার সাথে। কিন্তু ঈদের চাঁদ প্রমাণিত হওয়ার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ইমামদের নিকট কমপক্ষে দু'জন দ্বীনদার ও নির্ভরযোগ্য মুসলমানের সাক্ষ্য অপরিহার্য। ইমাম দারাকুতনী ও তাবারানী নিজ নিজ সনদে তাবেয়ী ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একবার মদীনার শাসকের সামনে এক ব্যক্তি এসে রমযানের চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দিল। এ সময় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস উভয়ই মদীনায় অবস্থানরত ছিলেন। মদীনার শাসক তখন তাদের কাছে মাসআলা জিজ্ঞাসা করলে তারা উভয়েই বললেন যে, এ এক ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করে নেওয়া হোক এবং রমযানের ঘোষণা দিয়ে দেওয়া হোক। এর সাথে তারা একথাও বললেন:
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجَازَ شَهَادَةَ وَاحِدٍ عَلَى رُؤْيَةِ هِلَالِ رَمَضَانَ، وَكَانَ لَا يُجِيزُ شَهَادَةً فِي الْإِفْطَارِ إِلَّا بِشَهَادَةِ رَجُلَيْنِ
অর্থাৎ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযানের চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির সাক্ষ্যকে অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু ঈদের চাঁদের ক্ষেত্রে দু'ব্যক্তির কম সাক্ষী হলে তিনি তা অনুমোদন করতেন না।
এখানে যাকিছু আলোচনা করা হয়েছে, এর সম্পর্ক রমযানের চাঁদ দেখার সাথে। কিন্তু ঈদের চাঁদ প্রমাণিত হওয়ার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ইমামদের নিকট কমপক্ষে দু'জন দ্বীনদার ও নির্ভরযোগ্য মুসলমানের সাক্ষ্য অপরিহার্য। ইমাম দারাকুতনী ও তাবারানী নিজ নিজ সনদে তাবেয়ী ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একবার মদীনার শাসকের সামনে এক ব্যক্তি এসে রমযানের চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দিল। এ সময় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস উভয়ই মদীনায় অবস্থানরত ছিলেন। মদীনার শাসক তখন তাদের কাছে মাসআলা জিজ্ঞাসা করলে তারা উভয়েই বললেন যে, এ এক ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করে নেওয়া হোক এবং রমযানের ঘোষণা দিয়ে দেওয়া হোক। এর সাথে তারা একথাও বললেন:
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجَازَ شَهَادَةَ وَاحِدٍ عَلَى رُؤْيَةِ هِلَالِ رَمَضَانَ، وَكَانَ لَا يُجِيزُ شَهَادَةً فِي الْإِفْطَارِ إِلَّا بِشَهَادَةِ رَجُلَيْنِ
অর্থাৎ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযানের চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির সাক্ষ্যকে অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু ঈদের চাঁদের ক্ষেত্রে দু'ব্যক্তির কম সাক্ষী হলে তিনি তা অনুমোদন করতেন না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)