কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
৯. জিহাদের বিধানাবলী
হাদীস নং: ২৬৩১
আন্তর্জাতিক নং: ২৬৩৯
জিহাদের বিধানাবলী
৩৭১. সৈন্যবেহিনী বা কাফেলার পেছনে অবস্থান গ্রহণ।
২৬৩১. আল্ হাসান ইবনে শাওকার ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সফরে লোকজনের পেছনে অবস্থান করতেন ও অসামর্থ লোকদের নিজ সওয়ারীতে তুলে নিতেন এবং সকল সঙ্গী মুসলমানের কল্যাণের জন্য দুআ করতেন।
كتاب الجهاد
باب فِي لُزُومِ السَّاقَةِ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ شَوْكَرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَهُمْ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَخَلَّفُ فِي الْمَسِيرِ فَيُزْجِي الضَّعِيفَ وَيُرْدِفُ وَيَدْعُو لَهُمْ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীছের শিক্ষা অনুযায়ী সফরসঙ্গীদের উচিত তাদের কোনও একজনকে নিজেদের আমীর বানিয়ে নেওয়া। আমীরের কিছু দায়দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং কিছু রীতিনীতি অনুসরণ করতে হয়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসকল অভিযান পরিচালনা করতেন, তাতে তিনি নিজেই আমীররূপে দায়িত্ব পালন করতেন। সেসব সফরে তাঁর অবলম্বনকৃত রীতিনীতি দ্বারাই আমরা জানতে পারি সফরকালীন আমীরকে কী রীতিনীতি অনুসরণ করতে হয় ও কী দায়দায়িত্ব পালন করতে হয়। আলোচ্য হাদীছটিতে হযরত জাবির রাযি. জানাচ্ছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরের যাতায়াত-পথে নিজে সকলের পেছনে থাকতেন। এটা যেমন তাঁর বিনয়ের পরিচয় বহন করত, তেমনি এর দ্বারা আমীররূপে তাঁর দায়দায়িত্ব পালন করাও সহজ হতো। তিনি কেন পেছনে থাকতেন এবং পেছনে থেকে কী করতেন, সে সম্পর্কে হযরত জাবির রাযি. বলেন-
فيزْجِي الضَّعِيفَ ، ويُرْدِفُ ، ويَدْعُو لهم 'দুর্বলকে হাঁকিয়ে নিতেন, (কাউকে) নিজ বাহনে পেছনে তুলে নিতেন আর তার জন্য দুআ করতেন'। অর্থাৎ যার বাহনজন্তুটি দুর্বল হয়ে পড়ত, ফলে অন্যান্য বাহনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারত না, তিনি সে জন্তুটিকে পেছন থেকে তাড়া দিতেন। অনেক সময় তাঁর তাড়ায় কাজ হতো। ফলে সে বাহনটি তার গতি বাড়িয়ে দিত এবং অন্যান্য বাহনের সঙ্গে মিলে চলতে পারত। আবার কখনও এমনও হতো যে, বাহনটি অত্যধিক দুর্বল হওয়ায় তাড়া দিলেও কাজ হতো না। সেটি অন্যদের সঙ্গে চলতে পারত না। সে ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই উটটির যাত্রীকে নিজের বাহনে তুলে নিতেন। يُرْدِف এর অর্থ কোনও যাত্রী কর্তৃক নিজ বাহনে অন্য কাউকে তুলে নেওয়া এবং তাকে নিজের পেছনে বসতে দেওয়া। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অক্ষম হয়ে পড়া উটটির যাত্রীকে নিজের বাহনে তুলে নিতেন এবং নিজের পেছনে বসতে দিতেন। তিনি ওই যাত্রীর কল্যাণের জন্য দুআও করতেন। তাঁর দুআর বরকতে হয়তো ওই ব্যক্তির উটটি সচল হয়ে যেত কিংবা তার অন্য কোনও কল্যাণ সাধিত হতো।
মোটকথা দলনেতা হিসেবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাত্রীদলের পেছনে থাকতেন এবং গোটা দলের তদারকি করতেন। তিনি কার কী সমস্যা সেদিকে লক্ষ রাখতেন এবং তার সে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। সেইসঙ্গে আল্লাহ তা'আলার কাছে দুআও করতেন যাতে তিনি তার সমস্যা দূর করে দেন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. সফরকালে সফরসঙ্গীদের একজন আমীর থাকা উচিত।
খ. আমীর সফরসঙ্গীদের পেছনে থাকবে।
গ. আমীর তার সফরসঙ্গীদের সুবিধা-অসুবিধার দিকে লক্ষ রাখবে এবং তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে।
ঘ. কোনও সফরসঙ্গীর বাহন অচল হয়ে গেলে আমীর তাকে নিজ বাহনে তুলে নেবে কিংবা তার জন্য অন্য কোনও ব্যবস্থা করবেন।
ঙ. বাহনজন্তুর পিঠে একাধিক আরোহীর সওয়ার হওয়া জায়েয, যদি তাতে সে জন্তর মাত্রাতিরিক্ত কষ্ট না হয়।
চ. আমীরকে অবশ্যই সফরসঙ্গীদের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ করতে হবে।
فيزْجِي الضَّعِيفَ ، ويُرْدِفُ ، ويَدْعُو لهم 'দুর্বলকে হাঁকিয়ে নিতেন, (কাউকে) নিজ বাহনে পেছনে তুলে নিতেন আর তার জন্য দুআ করতেন'। অর্থাৎ যার বাহনজন্তুটি দুর্বল হয়ে পড়ত, ফলে অন্যান্য বাহনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারত না, তিনি সে জন্তুটিকে পেছন থেকে তাড়া দিতেন। অনেক সময় তাঁর তাড়ায় কাজ হতো। ফলে সে বাহনটি তার গতি বাড়িয়ে দিত এবং অন্যান্য বাহনের সঙ্গে মিলে চলতে পারত। আবার কখনও এমনও হতো যে, বাহনটি অত্যধিক দুর্বল হওয়ায় তাড়া দিলেও কাজ হতো না। সেটি অন্যদের সঙ্গে চলতে পারত না। সে ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই উটটির যাত্রীকে নিজের বাহনে তুলে নিতেন। يُرْدِف এর অর্থ কোনও যাত্রী কর্তৃক নিজ বাহনে অন্য কাউকে তুলে নেওয়া এবং তাকে নিজের পেছনে বসতে দেওয়া। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অক্ষম হয়ে পড়া উটটির যাত্রীকে নিজের বাহনে তুলে নিতেন এবং নিজের পেছনে বসতে দিতেন। তিনি ওই যাত্রীর কল্যাণের জন্য দুআও করতেন। তাঁর দুআর বরকতে হয়তো ওই ব্যক্তির উটটি সচল হয়ে যেত কিংবা তার অন্য কোনও কল্যাণ সাধিত হতো।
মোটকথা দলনেতা হিসেবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাত্রীদলের পেছনে থাকতেন এবং গোটা দলের তদারকি করতেন। তিনি কার কী সমস্যা সেদিকে লক্ষ রাখতেন এবং তার সে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। সেইসঙ্গে আল্লাহ তা'আলার কাছে দুআও করতেন যাতে তিনি তার সমস্যা দূর করে দেন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. সফরকালে সফরসঙ্গীদের একজন আমীর থাকা উচিত।
খ. আমীর সফরসঙ্গীদের পেছনে থাকবে।
গ. আমীর তার সফরসঙ্গীদের সুবিধা-অসুবিধার দিকে লক্ষ রাখবে এবং তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে।
ঘ. কোনও সফরসঙ্গীর বাহন অচল হয়ে গেলে আমীর তাকে নিজ বাহনে তুলে নেবে কিংবা তার জন্য অন্য কোনও ব্যবস্থা করবেন।
ঙ. বাহনজন্তুর পিঠে একাধিক আরোহীর সওয়ার হওয়া জায়েয, যদি তাতে সে জন্তর মাত্রাতিরিক্ত কষ্ট না হয়।
চ. আমীরকে অবশ্যই সফরসঙ্গীদের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ করতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)