কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

১১. জবাইয়ের বিধান

হাদীস নং: ২৮২৮
আন্তর্জাতিক নং: ২৮৩৭
জবাইয়ের বিধান
৯৮. আকিকা সম্পর্কে।
২৮২৮. হাফস ইবনে উমর নামরী (রাহঃ) ..... সামুরা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক শিশু আকীকার বিনিময়ে বন্ধকস্বরূপ থাকে। কাজেই তার পক্ষ হতে (জন্মের) সপ্তম দিনে কুরবানী করতে হবে এবং মাথা মুণ্ডন করতে হবে, আর কুরবানীর রক্ত তার মাথায় লাগাতে হবে।

অতঃপর কাতাদা (রাযিঃ)-কে রক্ত লাগান সম্পর্কে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, রক্ত কিরূপে লাগাতে হবে? তিনি বলেনঃ যখন আকীকার পশু কুরবানী করা হবে, তখন তার কিছু লোম নিয়ে কাটা-শিরার সামনে রাখতে হবে এবং সেগুলো রক্তে প্রবাহিত হয়। পরে তার মাথা ধুয়ে ফেলে মাথা মুণ্ডন করতে হবে।
أول كتاب الذبائح
باب فِي الْعَقِيقَةِ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ غُلاَمٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ السَّابِعِ وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ وَيُدَمَّى " . فَكَانَ قَتَادَةُ إِذَا سُئِلَ عَنِ الدَّمِ كَيْفَ يُصْنَعُ بِهِ قَالَ إِذَا ذَبَحْتَ الْعَقِيقَةَ أَخَذْتَ مِنْهَا صُوفَةً وَاسْتَقْبَلْتَ بِهِ أَوْدَاجَهَا ثُمَّ تُوضَعُ عَلَى يَافُوخِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَسِيلَ عَلَى رَأْسِهِ مِثْلُ الْخَيْطِ ثُمَّ يُغْسَلُ رَأْسُهُ بَعْدُ وَيُحْلَقُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا وَهَمٌ مِنْ هَمَّامٍ " وَيُدَمَّى " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ خُولِفَ هَمَّامٌ فِي هَذَا الْكَلاَمِ وَهُوَ وَهَمٌ مِنْ هَمَّامٍ وَإِنَّمَا قَالُوا " يُسَمَّى " . فَقَالَ هَمَّامٌ " يُدَمَّى " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَلَيْسَ يُؤْخَذُ بِهَذَا .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

আবু দাউদ রহঃ বলেন ″রক্তমাখার″ শব্দটি হাম্মামের ধারণামুলক, অন্যরা তা বর্জন করেছেন। আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ এখন এ হাদিস আমলযোগ্য নয়।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আকীকার পশুর বিনিময়ে সন্তান বন্ধক থাকে, হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এ কথাটির কয়েকটি মর্ম বর্ণনা করেছেন। এ অধমের নিকট সবচেয়ে মনঃপূত কথা এই যে, সন্তান আল্লাহ্ তা'আলার দেওয়া এক বিরাট নেয়ামত, আর সামর্থ্যবান ব্যক্তির পক্ষ থেকে আকীকার পশু যবেহ করা হচ্ছে এর শোকরানা, যেন এটা শিশুর ফিদয়া বা দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি। যে পর্যন্ত এ শোকরানা পেশ করা না হবে এবং ফিদয়া আদায় না করা হবে, সে পর্যন্ত এ দায়বদ্ধতা অবশিষ্ট থাকবে, আর শিশু যেন এর বিনিময়ে বন্ধক থাকবে।

জন্মের দিনই আকীকা করার হুকুম সম্ভবত এ কারণে দেওয়া হয়নি যে, এ সময় পরিবারের লোকেরা মা ও শিশুর দেখাশুনা ও তাদের সেবা যত্নের চিন্তায়ই ব্যস্ত থাকে। তাছাড়া ঐ দিনই শিশুর মাথা মুণ্ডানোতে চিকিৎসা বিধির দৃষ্টিতে ক্ষতির আশংকা থাকে। এক সপ্তাহ সময়কাল এমন যে, এর মধ্যে প্রসূতিও সাধারণত স্বাভাবিক হয়ে যায়, আর শিশুও সাত দিন পর্যন্ত এ জগতের আলো-বাতাসে এমন হয়ে যায় যে, এখন তার মাথা পরিষ্কার করে দিলে আর কোন ক্ষতির আশংকা থাকে না।
এ হাদীস থেকে এবং অন্যান্য হাদীস থেকেও জানা যায় যে, আকীকার সাথে সপ্তম দিবসে শিশুর নামও রাখা হবে। কিন্তু কোন কোন হাদীসে দেখা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কোন শিশুর নাম জন্মের দিনই রেখে দিয়েছিলেন। এ জন্য সপ্তম দিবসের আগে নাম রেখে দেওয়াতে কোন ক্ষতি নেই। হ্যাঁ, যদি আগে নাম না রাখা হয়ে থাকে, তাহলে সপ্তম দিবসে আকীকার সাথে নাম রেখে নেওয়া হবে। যেসব হাদীসে সপ্তম দিবসে আকীকার সাথে নাম রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এর অর্থ এটাই বুঝতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান