কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
১১. জবাইয়ের বিধান
হাদীস নং: ২৮২৯
আন্তর্জাতিক নং: ২৮৩৮
জবাইয়ের বিধান
৯৮. আকিকা সম্পর্কে।
২৮২৯. ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ...... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক শিশু তার আকীকার বিনিময়ে (আল্লাহর নিকট) বন্ধকস্বরূপ থাকে। কাজেই সপ্তম দিনে তার পক্ষ হতে কুরবানী করবে এবং তার মাথা মুণ্ডন করে নাম রাখবে।
أول كتاب الذبائح
باب فِي الْعَقِيقَةِ
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ غُلاَمٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُحْلَقُ وَيُسَمَّى " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَيُسَمَّى أَصَحُّ كَذَا قَالَ سَلاَّمُ بْنُ أَبِي مُطِيعٍ عَنْ قَتَادَةَ وَإِيَاسُ بْنُ دَغْفَلٍ وَأَشْعَثُ عَنِ الْحَسَنِ . قَالَ: «وَيُسَمَّى» . وَرَوَاهُ أَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَيُسَمَّى»
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
আবু দাঊদ (রাহঃ) বলেনঃ يُسَمَّى শব্দটি অধিক সঠিক। এভাবেই সালাম ইবনে আবু মূতী’ কাতাদা (রাহঃ) এর মাধ্যমে এবং আয়াস ইবনে যাগফাল ও আশআছ (রাহঃ) হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আকীকার পশুর বিনিময়ে সন্তান বন্ধক থাকে, হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এ কথাটির কয়েকটি মর্ম বর্ণনা করেছেন। এ অধমের নিকট সবচেয়ে মনঃপূত কথা এই যে, সন্তান আল্লাহ্ তা'আলার দেওয়া এক বিরাট নেয়ামত, আর সামর্থ্যবান ব্যক্তির পক্ষ থেকে আকীকার পশু যবেহ করা হচ্ছে এর শোকরানা, যেন এটা শিশুর ফিদয়া বা দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি। যে পর্যন্ত এ শোকরানা পেশ করা না হবে এবং ফিদয়া আদায় না করা হবে, সে পর্যন্ত এ দায়বদ্ধতা অবশিষ্ট থাকবে, আর শিশু যেন এর বিনিময়ে বন্ধক থাকবে।
জন্মের দিনই আকীকা করার হুকুম সম্ভবত এ কারণে দেওয়া হয়নি যে, এ সময় পরিবারের লোকেরা মা ও শিশুর দেখাশুনা ও তাদের সেবা যত্নের চিন্তায়ই ব্যস্ত থাকে। তাছাড়া ঐ দিনই শিশুর মাথা মুণ্ডানোতে চিকিৎসা বিধির দৃষ্টিতে ক্ষতির আশংকা থাকে। এক সপ্তাহ সময়কাল এমন যে, এর মধ্যে প্রসূতিও সাধারণত স্বাভাবিক হয়ে যায়, আর শিশুও সাত দিন পর্যন্ত এ জগতের আলো-বাতাসে এমন হয়ে যায় যে, এখন তার মাথা পরিষ্কার করে দিলে আর কোন ক্ষতির আশংকা থাকে না।
এ হাদীস থেকে এবং অন্যান্য হাদীস থেকেও জানা যায় যে, আকীকার সাথে সপ্তম দিবসে শিশুর নামও রাখা হবে। কিন্তু কোন কোন হাদীসে দেখা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কোন শিশুর নাম জন্মের দিনই রেখে দিয়েছিলেন। এ জন্য সপ্তম দিবসের আগে নাম রেখে দেওয়াতে কোন ক্ষতি নেই। হ্যাঁ, যদি আগে নাম না রাখা হয়ে থাকে, তাহলে সপ্তম দিবসে আকীকার সাথে নাম রেখে নেওয়া হবে। যেসব হাদীসে সপ্তম দিবসে আকীকার সাথে নাম রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এর অর্থ এটাই বুঝতে হবে।
জন্মের দিনই আকীকা করার হুকুম সম্ভবত এ কারণে দেওয়া হয়নি যে, এ সময় পরিবারের লোকেরা মা ও শিশুর দেখাশুনা ও তাদের সেবা যত্নের চিন্তায়ই ব্যস্ত থাকে। তাছাড়া ঐ দিনই শিশুর মাথা মুণ্ডানোতে চিকিৎসা বিধির দৃষ্টিতে ক্ষতির আশংকা থাকে। এক সপ্তাহ সময়কাল এমন যে, এর মধ্যে প্রসূতিও সাধারণত স্বাভাবিক হয়ে যায়, আর শিশুও সাত দিন পর্যন্ত এ জগতের আলো-বাতাসে এমন হয়ে যায় যে, এখন তার মাথা পরিষ্কার করে দিলে আর কোন ক্ষতির আশংকা থাকে না।
এ হাদীস থেকে এবং অন্যান্য হাদীস থেকেও জানা যায় যে, আকীকার সাথে সপ্তম দিবসে শিশুর নামও রাখা হবে। কিন্তু কোন কোন হাদীসে দেখা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কোন শিশুর নাম জন্মের দিনই রেখে দিয়েছিলেন। এ জন্য সপ্তম দিবসের আগে নাম রেখে দেওয়াতে কোন ক্ষতি নেই। হ্যাঁ, যদি আগে নাম না রাখা হয়ে থাকে, তাহলে সপ্তম দিবসে আকীকার সাথে নাম রেখে নেওয়া হবে। যেসব হাদীসে সপ্তম দিবসে আকীকার সাথে নাম রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এর অর্থ এটাই বুঝতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)