কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

১১. জবাইয়ের বিধান

হাদীস নং: ২৮৩৪
আন্তর্জাতিক নং: ২৮৪৩
জবাইয়ের বিধান
৯৮. আকিকা সম্পর্কে।
২৮৩৪. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ছাবিত (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবু বুরায়দা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, জাহিলীয়াতের যুগে যখন আমাদের কারও পুত্র সন্তান জন্ম নিত, তখন বকরী যবেহ করা হতো এবং ঐ পশুর রক্ত সে সন্তানের মাথায় লাগানো হত। অতঃপর আল্লাহ্ যখন দীন-ইসলাম প্রেরণ করেন, তখন আমরা বকরী যবেহ্ করতাম, সন্তানের মাথা মুণ্ডন করতাম এবং তাতে যাফরান লাগিয়ে দিতাম।
أول كتاب الذبائح
باب فِي الْعَقِيقَةِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي بُرَيْدَةَ، يَقُولُ كُنَّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا وُلِدَ لأَحَدِنَا غُلاَمٌ ذَبَحَ شَاةً وَلَطَخَ رَأْسَهُ بِدَمِهَا فَلَمَّا جَاءَ اللَّهُ بِالإِسْلاَمِ كُنَّا نَذْبَحُ شَاةً وَنَحْلِقُ رَأْسَهُ وَنَلْطَخُهُ بِزَعْفَرَانٍ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

'খালুক' বিভিন্ন উপাদান মিশ্রিত এক প্রকার সুগন্ধির নাম, যা জাফরান ইত্যাদি দিয়ে তৈরী করা হয়। এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, আকীকার প্রচলন আরবদের মধ্যে জাহেলী যুগেও ছিল। যেহেতু এর মধ্যে অনেক কল্যাণকর দিক রয়েছে- যেগুলোর প্রতি উপরে ইঙ্গিত করে আসা হয়েছে, আর এটা মৌলিকভাবে ইসলামী শরী‘আত প্রকৃতির অনুকূল ছিল এবং সম্ভবত হজ অনুষ্ঠানের মত এটা ইবরাহীমী মিল্লাতের অবশিষ্ট নিদর্শনসমূহের একটি ছিল, এজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মূল ভিত্তিটি ঠিক রাখলেন এবং জাহেলী প্রথাগুলোর সংশোধন করে দিলেন।

বায়হাকীর এক বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, আকীকার প্রচলন ইয়াহুদীদের মধ্যেও ছিল। কিন্তু তারা কেবল ছেলে সন্তানের পক্ষ থেকে আকীকা করত, মেয়েদের পক্ষ থেকে করত না। যার কারণ সম্ভবত মেয়েদের প্রতি অবজ্ঞা ও অনাদরই ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটারও সংশোধন করলেন এবং নির্দেশ দিলেন যে, ছেলেদের মত মেয়েদের পক্ষ থেকেও আকীকা করতে হবে। তবে দুই শ্রেণীর মধ্যে প্রকৃতিগত ও স্বভাবগত পার্থক্য রয়েছে, (যার প্রতি উত্তরাধিকার বণ্টন ও সাক্ষ্য দান ইত্যাদি ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা হয়েছে।) এর ভিত্তিতে তিনি বলেছেন যে, কন্যা সন্তানের আকীকায় একটি ছাগল এবং পুত্র সন্তানের আকীকায় (সামর্থ্য থাকলে) দু'টি ছাগল যবেহ করতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)