কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
১৩. ওছিয়াতের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৮৬৪
আন্তর্জাতিক নং: ২৮৭৪
ওছিয়াতের অধ্যায়
১১৩. ইয়াতীমের মাল ভক্ষণের শাস্তি সম্পর্কে।
২৮৬৪. আহমদ ইবনে সাঈদ হামদানী (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা (ঈমান) ধ্বংসকারী সাতটি বিষয় হতে দূরে থাকবে। জিজ্ঞাসা করা হয়, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ গুনাহগুলো কি কি? তিনি বলেনঃ
(১) আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা,
(২) জাদু করা,
(৩) কোন ব্যক্তিকে হত্যা করা, যার হত্যা আল্লাহ্ হারাম করেছেন, তবে হকভাবে হত্যা করা যাবে,
(৪) সুদ খাওয়া,
(৫) ইয়াতীমের মাল ভক্ষণ করা,
(৬) যুদ্ধের দিন যুদ্ধের ময়দান হতে পিঠ ফিরিয়ে পলায়ন করা এবং
(৭) সতী- সাধ্বী স্ত্রীলোকদের উপর (যিনার) মিথ্যা অপবাদ দেওয়া যে সম্পর্কে তারা অনবহিত।
(১) আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা,
(২) জাদু করা,
(৩) কোন ব্যক্তিকে হত্যা করা, যার হত্যা আল্লাহ্ হারাম করেছেন, তবে হকভাবে হত্যা করা যাবে,
(৪) সুদ খাওয়া,
(৫) ইয়াতীমের মাল ভক্ষণ করা,
(৬) যুদ্ধের দিন যুদ্ধের ময়দান হতে পিঠ ফিরিয়ে পলায়ন করা এবং
(৭) সতী- সাধ্বী স্ত্রীলোকদের উপর (যিনার) মিথ্যা অপবাদ দেওয়া যে সম্পর্কে তারা অনবহিত।
كتاب الوصايا
باب مَا جَاءَ فِي التَّشْدِيدِ فِي أَكْلِ مَالِ الْيَتِيمِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ " . قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا هُنَّ قَالَ " الشِّرْكُ بِاللَّهِ وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَأَكْلُ الرِّبَا وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلاَتِ الْمُؤْمِنَاتِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «أَبُو الْغَيْثِ سَالِمٌ مَوْلَى ابْنِ مُطِيعٍ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসে যে সব গুনাহ থেকে বাঁচার তাগিদ করেছেন সেগুলো অত্যন্ত মন্দ ও অশ্লীলতম কবীরা গুনাহ। এগুলোকে রাসূলুল্লাহ ﷺ ধ্বংসকারী বলেছেন। (অর্থাৎ মানুষ ও তার ঈমানের প্রাণ সত্তা ধ্বংসকারক)। এগুলোর মধ্যে তিনি শিরক, জাদু ও অন্যায় হত্যার পর সুদ খাওয়া (সুদ-গ্রহণ ও খাওয়া)-এর উল্লেখ করেছেন। আর এগুলোকে ঈমানের সজীবতা হত্যাকারী ও ধ্বংসকারী বলেছেন। যেভাবে ডাক্তার ও কবিরাজ নিজেদের বিদ্যার আলোকে ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জগতে যমিন হতে উৎপন্ন দ্রব্যাদি, ঔষধ ও খাদ্য ইত্যাদির বিশেষণ বর্ণনা করেন যে, অমুক জিনিসে অমুক গুণ ও প্রভাব রয়েছে আর এটা মানুষের অমুক রোগের জন্য উপকারী কিংবা ক্ষতিকর, অনুরূপভাবে নবীগণ আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক প্রদত্ত জ্ঞানের ভিত্তিতে মানুষের আকীদা ও চিন্তা, আমল ও চরিত্রের বিশেষত্ব ও পরিণাম বর্ণনা করেন যে, অমুক ঈমানী আকীদা, অমুক নেক কর্ম ও অমুক উত্তম স্বভাব-এর পরিণতি হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি, আখিরাতে জান্নাতের নিয়ামত এবং আত্মা ও প্রাণের শান্তিদায়ক। আর অমুক কুফরী ও শিরকী আকীদা, অমুক যুলুম ও অবাধ্যতার পরিনতি হচ্ছে- আল্লাহর লা'নত, দোযখের আযাব ও দুনিয়ায় রকমারী পেরেশানী ও অশান্তি। পার্থক্য এতটুকু যে, কবিরাজ ও ডাক্তারদের গবেষণা ও নিশ্চয়তার মধ্যে ভুলের সম্ভাবনা এবং কখনো কখনো ভুলের শিকার হয়ে যান। কিন্তু আম্বিয়া কিরামের ইলমের ভিত্তি জগত স্রষ্টা, সর্বজ্ঞ আল্লাহ তা'আলার ওহীর প্রেক্ষিতে হয়ে থাকে। এতে কোন প্রকার ভুল-ভ্রান্তি অথবা ভুলের সম্ভাবনা এবং কোন সন্দেহের অবকাশই নেই। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- কবিরাজ ও ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনকৃত ঔষধগুলোকে সবাই বিনা বাক্যব্যয়ে তাদের প্রতি আস্থার কারণে ব্যবহার করে। নিষেধের ব্যাপারে তারা যে নির্দেশ দেন তাও যথানিয়মে পালন করা অবশ্য কর্তব্য মনে করা হয়। আর এটাকেই বুদ্ধির দাবী মনে করা হয়। কোন রোগীর এ অধিকার সমর্থন করা হয় না যে, সে বলবে, আমি এ ঔষধ তখনই ব্যবহার করব যখন এর প্রভাবের দর্শন আমাকে বুঝান হবে। অথচ আল্লাহ তা'আলার কিতাব কুরআন মজীদ আর তাঁর সত্য রাসূল খাতিমুন্নাবিয়িন ﷺ যেমন সুদের ব্যাপারে বলেছেন, এটা শক্ত গর্হিত কবীরা গুনাহ ও ধ্বংসকারকদের মধ্যে একটি, আল্লাহর অভিশাপ ও ক্রোধের কারণ এবং ঈমানের প্রাণ সংহারক, সুদখোরদের জন্য আখিরাতে ভয়ঙ্কর শাস্তি রয়েছে। তখন বহু বুদ্ধিমান ও ঈমানের দাবিদারদের জন্য এটা যথেষ্ট হয়নি, তারা এ নিষেধের দর্শন জানা আবশ্যক মনে করে বসে। আল্লাহ তা'আলা অন্তরসমূহকে ঈমান ও ইয়াকীন দান করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)