কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

১৩. ওছিয়াতের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৮৭৩
আন্তর্জাতিক নং: ২৮৮৩
ওছিয়াতের অধ্যায়
১১৯. কোন কাফিরের ওসীয়ত, তার মুসলিম ওয়ালীর জন্য পালন করা প্রসঙ্গে।
২৮৭৩. আব্বাস ইবনে ওয়ালীদ ইবনে মাযীদ (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআইব (রাযিঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেনঃ আস ইবনে ওয়াইল তাঁর পক্ষে একশত গোলাম আযাদ করার জন্য ওসীয়্যাত করেন। তখন তার হিকশাম পঞ্চাশটি গোলাম আযাদ করে দেন। অতঃপর তার অপর পুত্র আমরও পঞ্চাশটি গোলাম আযাদ করার ইচ্ছা করেন। তিনি ঐ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করতে মনস্থির করেন। অতঃপর তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার পিতা একশত গোলাম আযাদ করার জন্য ওসীয়্যাত করে যান, যা থেকে হিশাম পঞ্চাশটি গোলাম তার পক্ষ হতে আযাদ করে দিয়েছে এবং আরো পঞ্চাশটি গোলাম তার পক্ষ হতে আযাদ করতে বাকী আছে। আমি কি তার পক্ষ হতে তা আদায় করে দেব? তখন রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যদি সে মুসলমান হতো, আর তুমি তার পক্ষ হতে গোলাম আযাদ করতে, সাদ্‌কা প্রদান করতে এবং হজ্জ আদায় করতে, তবে সে সাওয়াব পেত। (কিন্তু সে মুসলমান না হয়ে মারা যাওয়ার কারণে এ সব করলে তার কোন উপকার হবে না)।
كتاب الوصايا
باب مَا جَاءَ فِي وَصِيَّةِ الْحَرْبِيِّ يُسْلِمُ وَلِيُّهُ أَيَلْزَمُهُ أَنْ يُنْفِذَهَا
حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ الْعَاصَ بْنَ وَائِلٍ، أَوْصَى أَنْ يُعْتَقَ، عَنْهُ مِائَةُ رَقَبَةٍ فَأَعْتَقَ ابْنُهُ هِشَامٌ خَمْسِينَ رَقَبَةً فَأَرَادَ ابْنُهُ عَمْرٌو أَنْ يَعْتِقَ عَنْهُ الْخَمْسِينَ الْبَاقِيَةَ فَقَالَ حَتَّى أَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبِي أَوْصَى بِعِتْقِ مِائَةِ رَقَبَةٍ وَإِنَّ هِشَامًا أَعْتَقَ عَنْهُ خَمْسِينَ وَبَقِيَتْ عَلَيْهِ خَمْسُونَ رَقَبَةً أَفَأُعْتِقُ عَنْهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ لَوْ كَانَ مُسْلِمًا فَأَعْتَقْتُمْ عَنْهُ أَوْ تَصَدَّقْتُمْ عَنْهُ أَوْ حَجَجْتُمْ عَنْهُ بَلَغَهُ ذَلِكَ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ হাদীসে একথাটি স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, দান-সদাকা ইত্যাদি যেসব নেক আমল কোন মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে করা হয় অর্থাৎ, এর সওয়াব তাকে পৌঁছানো হয়, এগুলো তার জন্য উপকারী হয়ে থাকে এবং এর সওয়াব তার কাছে পৌছে। বিষয়টি যেন এমন, যেভাবে এ দুনিয়াতে এক ব্যক্তি তার উপার্জিত টাকা-পয়সা আল্লাহর অন্য কোন বান্দাকে দান করে তার সেবা ও সাহায্য করতে পারে এবং সেই বান্দা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে, তেমনিভাবে যদি কোন ঈমানদার বান্দা তার পিতা-মাতা অথবা অন্য কোন মু'মিন বান্দার পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করে তাকে আখেরাতে উপকৃত করতে এবং তার খেদমত করতে চায়, তাহলে এসব হাদীস দৃষ্টে বুঝা যায় যে, এটা হতে পারে এবং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এর দরজা খোলা রয়েছে।

সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ্ তা'আলার কি বিরাট দয়া ও অনুগ্রহ যে, এ পথে আমরা আমাদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও অন্যান্য হিতাকাঙ্ক্ষীদের খেদমত তাদের মৃত্যুর পরেও করে যেতে পারি এবং নিজেদের হাদিয়া-উপঢৌকন সর্বদা তাদের কাছে পাঠাতে পারি।

এ মাসআলাটি হাদীস দ্বারা সুপ্রমাণিত এবং এর উপর উম্মতের ইমামদের ইজমা ও ঐকমত্যও রয়েছে। আমাদের যুগের এমন কিছু লোক- যারা হাদীসকে কুরআনের পর শরী‘আতের দ্বিতীয় ভিত্তিমূল হিসাবেও স্বীকার করে না এবং এটাকে দ্বীনের দলীল হিসাবে মানতেও নারায, তারা এ মাসআলাটি অস্বীকার করে। এ অধম সংকলক এখন থেকে প্রায় বিশ বছর আগে এ বিষয়ের উপর একটি পৃথক পুস্তিকা লিখেছিল। এতে এ মাসআলার প্রতিটি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে এবং সংশয়বাদীদের প্রতিটি সন্দেহের উত্তর দেওয়া হয়েছে। আলহামদু লিল্লাহ। পুস্তিকাটি এ বিষয়ের জ্ঞানার্জনের জন্য যথেষ্ট।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)