কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
১৮. ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৪১১
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪৪৭
ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়
৩৪২. মূল্য বৃদ্ধির আশায় খাদ্য-শস্য মওজুদ রাখা নিষিদ্ধ।
৩৪১১. ওয়াহব ইবনে বাকীওয়া (রাহঃ) ...... মুআম্মার ইবনে আবু মুআম্মার (রাযিঃ), যিনি আদী ইবনে কা’বের বংশধর, বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মূল্যবৃদ্ধির আশায় জঘন্য অপরাধী ব্যতীত আর কেউ খাদ্য-শস্য মওজুদ করে না। রাবী বলেন, তখন আমি আমর (রাযিঃ)-কে বলিঃ আপনি তো খাদ্য-শস্য মওজুদ রাখেন। তখন তিনি বলেনঃ মুআম্মার (রাযিঃ)ও খাদ্য-শস্য মওজুদ রাখতেন।
كتاب البيوع
باب فِي النَّهْىِ عَنِ الْحُكْرَةِ
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ أَبِي مَعْمَرٍ، أَحَدِ بَنِي عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَحْتَكِرُ إِلاَّ خَاطِئٌ " . فَقُلْتُ لِسَعِيدٍ فَإِنَّكَ تَحْتَكِرُ قَالَ وَمَعْمَرٌ كَانَ يَحْتَكِرُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَسَأَلْتُ أَحْمَدَ مَا الْحُكْرَةُ قَالَ مَا فِيهِ عَيْشُ النَّاسِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ الْمُحْتَكِرُ مَنْ يَعْتَرِضُ السُّوقَ .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
ইমাম আবু দাঊদ (রাহঃ) বলেন, আমি আহমদ (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলামঃ হুকরা কি? তিনি বলেনঃ মানুষের জীবন ধারণের জন্য নিত্য-নৈমিত্তিক প্রয়োজনীয় জিনিসের মওজুদ করাকে ’হুকরা’ বলে।
ইমাম আবু দাউদ ও আওযায়ী (রাহঃ) বলেনঃ মুহতাকির হলো সে ব্যাক্তি, যার খাদ্য-শস্য মওজুদের কারণে বাজারে কৃত্রিম অভাবের সৃষ্টি হয় এবং জিনিসের দাম বেড়ে যায়।
ইমাম আবু দাউদ ও আওযায়ী (রাহঃ) বলেনঃ মুহতাকির হলো সে ব্যাক্তি, যার খাদ্য-শস্য মওজুদের কারণে বাজারে কৃত্রিম অভাবের সৃষ্টি হয় এবং জিনিসের দাম বেড়ে যায়।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যে ভাবে আমাদের যুগে অনেক ব্যবসায়ী খাদ্যশস্য ইত্যাদি প্রায়োজনীয় দ্রব্যাদি মওজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, ফলে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি ও দুষ্প্রাপ্যতা বেড়ে চলে যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায় ও তাদের জন্য জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়ে, অনুরূপ ভাবে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগেও কতক ব্যবসায়ী এরূপ করত (সম্ভবত এতে কোন দোষ মনে করত না) কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ এটা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আরবী ভাষায় এটাকে احتکار বলে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা ও তার নিয়ে আসা শরীয়তের ঝোঁক প্রবণতা হচ্ছে এই যে, সামাজিক রীতি-নীতি এরূপ হবে, যাতে জনসাধারণ বিশেষ করে দরিদ্র অর্থাৎ স্বল্প আয়ের লোকজনের জীবন যাপন করা কষ্টকর না হয়। ব্যবসায়ী মহল ও ধনিক শ্রেণীর বেশি লাভ ও আপন মাল বৃদ্ধির পরিবর্তে জনসাধারণের সুবিধা দৃষ্টিতে রাখবে। এই মহৎ লক্ষ্যে অল্প লাভে সন্তুষ্ট থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত ও আখিরাতের প্রতিদান গ্রহণ করবে। যদি ঈমানের সৌভাগ্য লাভ হয় তবে নিঃসন্দেহে এ ব্যবসা খুবই লাভজনক।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা ও তার নিয়ে আসা শরীয়তের ঝোঁক প্রবণতা হচ্ছে এই যে, সামাজিক রীতি-নীতি এরূপ হবে, যাতে জনসাধারণ বিশেষ করে দরিদ্র অর্থাৎ স্বল্প আয়ের লোকজনের জীবন যাপন করা কষ্টকর না হয়। ব্যবসায়ী মহল ও ধনিক শ্রেণীর বেশি লাভ ও আপন মাল বৃদ্ধির পরিবর্তে জনসাধারণের সুবিধা দৃষ্টিতে রাখবে। এই মহৎ লক্ষ্যে অল্প লাভে সন্তুষ্ট থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত ও আখিরাতের প্রতিদান গ্রহণ করবে। যদি ঈমানের সৌভাগ্য লাভ হয় তবে নিঃসন্দেহে এ ব্যবসা খুবই লাভজনক।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: