কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
২১. (হালাল-হারাম) পানীয়ের অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৬৬১
আন্তর্জাতিক নং: ৩৭০৩
(হালাল-হারাম) পানীয়ের অধ্যায়
৪৩৬. মিশ্রিত বস্তু সম্পর্কে।
৩৬৬১. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আঙ্গুর এবং খেজুর মিশ্রিত করে ’নাবীয’ তৈরী করতে এবং আধ-পাকা ও পাকা খেজুর মিশ্রিত করে ’নাবীয’ বানাতে নিষেধ করেছেন।
كتاب الأشربة
باب فِي الْخَلِيطَيْنِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى أَنْ يُنْتَبَذَ الزَّبِيبُ وَالتَّمْرُ جَمِيعًا وَنَهَى أَنْ يُنْتَبَذَ الْبُسْرُ وَالرُّطَبُ جَمِيعًا .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ লিখেছেন যে, এ হাদীসে যেসব বিভিন্ন জিনিসকে একত্রে মিশিয়ে নবীয তৈরী করতে নিষেধ করা হয়েছে, এগুলো একত্র করে পানিতে ছাড়লে নেশার অবস্থা শীঘ্র পয়দা হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাবধানতার জন্য এ নিষেধ করেছিলেন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, এগুলোর নবীয পৃথক পৃথকভাবেই তৈরী করতে হবে। আর সম্ভবত এ নির্দেশটিও তিনি ঐ সময়েই দিয়েছিলেন, যখন চূড়ান্তভাবে মদ হারাম হওয়ার বিধান নাযিল হয়েছিল এবং তিনি উম্মতের দীক্ষা ও অনুশীলনের জন্য এ ব্যাপারে এমন কঠিন বিধানও জারী করেছিলেন, যেগুলোর উদ্দেশ্য এই ছিল যে, মু'মিনগণ মদ ও নেশার সামান্য সন্দেহকেও যেন ঘৃণা করে। কিন্তু যখন এ উদ্দেশ্য হাছিল হয়ে গেল, তখন আবার ঐ কঠিন বিধানসমূহ প্রত্যাহার করে নেওয়া হল, যা এ উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে দেওয়া হয়েছিল। হযরত আয়েশা রাযি.-এর বর্ণিত এক হাদীস থেকে জানা যায় যে, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য শুকনা আঙ্গুর ও খেজুর একত্রে পানিতে ছেড়ে দিয়ে নবীয তৈরী করা হত এবং তিনি এটা পান করতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)