কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

২২. খাদ্যদ্রব্য-পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৭৭১
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮১২
খাদ্যদ্রব্য-পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
৪৮৬. মাছ মরে ভেসে উঠলে তা খাওয়া সম্পর্কে।
৩৭৭১. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আবু ইয়া-ফূর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ইবনে আবী আওফা (রাযিঃ)-কে ফড়িং (টিড্ডি) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গী হয়ে ছয়টি বা সাতটি যুদ্ধে শরীক ছিলাম। এ সময় আমরা তাঁর সঙ্গে ফড়িং খেতাম।
كتاب الأطعمة
باب فِي أَكْلِ الطَّافِي مِنَ السَّمَكِ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي أَوْفَى، وَسَأَلْتُهُ، عَنِ الْجَرَادِ، فَقَالَ غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِتَّ أَوْ سَبْعَ غَزَوَاتٍ فَكُنَّا نَأْكُلُهُ مَعَهُ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আবু দাউদ শরীফে হযরত সালমান ফারসী রাযি. থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে টিড্ডি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: «أكثر جنود الله لا آكله ولا أحرمه» (অর্থাৎ, আল্লাহর অনেক মাখলুক তথা জীবজন্তু এমন রয়েছে যে, আমি নিজে তো এগুলো খাই না, কিন্তু হারামও বলি না।) উদ্দেশ্য এই যে, এটা হালাল এবং মানুষ এটা খেতে পারে।

এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, হুযুর (ﷺ) নিজে টিড্ডি খেতেন না। এর আলোকে হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রাযি.-এর উপরের হাদীসের মর্ম এই বর্ণনা করেছেন যে, সাহাবায়ে কেরাম হুযুর (ﷺ)-এর সাথে যুদ্ধের সময় টিড্ডিও খেতেন এবং তিনি নিষেধ করতেন না। এ অর্থের একটি ইঙ্গিত এটাও যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রাযি.-এর এ হাদীসেরই বিভিন্ন বর্ণনায় معه অর্থাৎ, তাঁর সাথে শব্দটি নেই; বরং সেখানে শেষ শব্দমালা এই: كنا نأكل الجراد অর্থাৎ, আমরা টিড্ডি খেতাম।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)