কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

৩৫. সুন্নাহের গুরুত্ব ও আকাঈদ অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৫৭৫
আন্তর্জাতিক নং: ৪৬৪৬ - ৪৬৪৭
সুন্নাহের গুরুত্ব ও আকাঈদ অধ্যায়
৯. খিলাফাত সম্পর্কে।
৪৫৭৫. সওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... সাফীনা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নবুওয়াতের খিলাফত এর সময়কাল হলো ত্রিশ বছর। এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা রাজত্ব বা বাদশাহী দান করবেন।

রাবী সাঈদ (রাহঃ) বলেনঃ সাফীনা (রাযিঃ) আমাকে বলেনঃ তুমি হিসাব কর। আবু বকর (রাযিঃ)-এর শাসনকাল হবে দু’ বছর, উমর (রাযিঃ)-এর দশ বছর, উছমান (রাযিঃ)-এর বার বছর এবং আলী (রাযিঃ)-এর অর্থাৎ ছ’বছর।

রাবী সাঈদ বলেনঃ তখন আমি সাফীনা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, বনু-মারওয়ান এরূপ ধারণা করে যে, আলী (রাযিঃ) খলীফাদের অন্তর্ভুক্ত নন। তিনি বলেনঃ বনু-মারওয়ানরা মিথ্যা বলেছে।
كتاب السنة
باب فِي الْخُلَفَاءِ
حَدَّثَنَا سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ، عَنْ سَفِينَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خِلاَفَةُ النُّبُوَّةِ ثَلاَثُونَ سَنَةً ثُمَّ يُؤْتِي اللَّهُ الْمُلْكَ - أَوْ مُلْكَهُ - مَنْ يَشَاءُ " . قَالَ سَعِيدٌ قَالَ لِي سَفِينَةُ أَمْسِكْ عَلَيْكَ أَبَا بَكْرٍ سَنَتَيْنِ وَعُمَرَ عَشْرًا وَعُثْمَانَ اثْنَتَىْ عَشْرَةَ وَعَلِيٌّ كَذَا . قَالَ سَعِيدٌ قُلْتُ لِسَفِينَةَ إِنَّ هَؤُلاَءِ يَزْعُمُونَ أَنَّ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلاَمُ لَمْ يَكُنْ بِخَلِيفَةٍ . قَالَ كَذَبَتْ أَسْتَاهُ بَنِي الزَّرْقَاءِ يَعْنِي بَنِي مَرْوَانَ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত সাফীনা (রা) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুক্তদাস। তিনি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে বাণী উদ্ধৃত করেছেন তার অর্থ এই যে, খিলাফত অর্থাৎ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমার পদ্ধতিতে ও আল্লাহ্ তা'আলার পসন্দনীয় পদ্ধতির ওপর আমার প্রতিনিধিরূপে দীনের দাওআত ও খিদমত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কাজ (যার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি শিরোনাম 'খিলাফতে রাশিদা') কেবল তিরিশ বছর চলবে। এরপর রাষ্ট্র বাদশাহীতে পরিবর্তীত হয়ে যাবে। আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি এ সত্য প্রতিভাত করে ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি এটা প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন সাহাবা কিরাম থেকে এ ধারাবাহিকতায় তাঁর বাণীসমূহ বর্ণিত হয়েছে। হযরত সাফীনা (রা) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ বাণী উদ্ধৃত করার সাথে এর হিসাবও বলে দিয়েছেন।

তবে এটাকে মোটামুটি হিসাব বুঝা চাই। প্রকৃত হিসাব হচ্ছে-হযরত সিদ্দীক আকবর (রা)-এর খিলাফতকাল দু'বছর চার মাস। এরপর হযরত উমর ফারুক আযম (রা)-এর খিলাফতকাল দশ বছর ছয় মাস। এরপর হযরত যুন্নুরাইন (রা)-এর খিলাফতকাল কয়েক দিন কম বার বছর। তারপর হযরত আলী মুরতাযা (রা)-এর খিলাফতকাল চার বছর নয় মাস। এর যোগফল ঊনত্রিশ বছর সাত মাস। এর সাথে হযরত হাসান (রা)-এর খিলাফত কাল পাঁচ মাস যোগ করলে পূর্ণ তিরিশ বছর হয়। এই তিরিশ বছরই খিলাফতে রাশিদা। এরপর যেরূপ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, রাষ্ট্রীয় পদ্ধতি বাদশাহীতে পরিবর্তিত হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ জাতীয় ভবিষ্যতবাণীসমূহ তাঁর নবুওতের প্রকাশ্য প্রমাণও বহন করে। আর এতে উম্মতকে জ্ঞাত করাও উদ্দেশ্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
rabi
বর্ণনাকারী: