কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
৩৬. ইসলামী শিষ্টাচারের অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৯৬৭
আন্তর্জাতিক নং: ৫০৫১
ইসলামী শিষ্টাচারের অধ্যায়
১০৪. ঘুমাবার সময় যে দুআ পড়তে হয় সে সম্পর্কে।
৪৯৬৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) শয়নের উদ্দেশ্যে যখন বিছানায় যেতেন, তখন তিনি নীচের দুআটি পাঠ করতেন হে আল্লাহ! যমীন ও আসমানের রব! সব কিছুর প্রতিপালনকারী, বীজ থেকে অংকুর নির্গতকারী, তাওরাত, ইনযীল ও কুরআনের অবতরণকারী। আমি আপনার সাহায্য চাই অনিষ্টকারী সব কিছুর অনিষ্ট হতে, যারা আপনার নিয়ন্ত্রণে। আপনি-ই আদি, আপনার আগে আর কিছু নেই; আপনি-ই অন্ত, আপনার পরে আর কিছুই নেই। আপনিই প্রকাশ্য, আপনার থেকে প্রকাশ্য আর কিছুই নেই। আর আপনিই অপ্রকাশ্য, আপনার চাইতে গোপন আর কিছুই নেই, আপনি আমার করয বা দেনা আদায় করে দেন এবং আমাকে মুখাপেক্ষীতা থেকে ধনী বানিয়ে দেন।
كتاب الأدب
باب مَا يُقَالُ عِنْدَ النَّوْمِ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، ح وَحَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، نَحْوَهُ عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ " اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبَّ الأَرْضِ وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى مُنَزِّلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي شَرٍّ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَىْءٌ " . زَادَ وَهْبٌ فِي حَدِيثِهِ " اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ وَأَغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসেও শয়নকালে ডান পার্শ্বের উপর শয়নের কথা বলা হয়েছে। স্বয়ং হুযুর ﷺ ও এরূপই আমল করতেন। এভাবে শয়ন করলে কলব যা বাম পার্শ্বে অবস্থিত তা ঝুলন্ত অবস্থায় উপর দিকে থাকে। আল্লাহ ওয়ালা বুযুর্গগণের অভিজ্ঞতা হচ্ছে শয়নকালে এরূপ অবস্থায় দু'আ ও আল্লাহর ধ্যান অধিকতর কার্যকর হয়ে থাকে। এ দু'আটি আল্লাহর ঐসব বান্দাদের জন্যে বেশি উপযোগী, যারা ঋণগ্রস্ত এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে পেরেশানীর শিকার। বান্দা এভাবে দু'আ করে শয়ন করবে এবং মহান দাতা প্রতিপালকের দরবারে আশা পোষণ করবে যে, তিনি তার রিযিকে বরকত দান করে আর্থিক দূরবস্থা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করেই দেবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)