কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
৩৬. ইসলামী শিষ্টাচারের অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৯৭৬
আন্তর্জাতিক নং: ৫০৬০
ইসলামী শিষ্টাচারের অধ্যায়
১০৫. রাতে ঘুম ভেঙে গেলে কি দুআ পড়বে, সে সম্পর্কে।
৪৯৭৬. আব্দুব রহমান ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রাতে যখন কারো ঘুম ভেঙে যায়, তখন সে জাগ্রত হয়ে যেন এ দুআ পাঠ করেঃ আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, বাদশাহী তাঁরই, আর সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, তিনি সব কিছুর উপর শক্তিমান। পবিত্র-মহান আল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান, সমস্ত শক্তিই আল্লাহর। এরপর বলবেঃ হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন।
রাবী ওয়ালীদ (রাহঃ) বলেনঃ নবী (ﷺ) আরো বলেছেনঃ আর দুআ করলে, তা কবুল হবে। এরপর যদি সে ব্যক্তি উঠে উযু করে, তারপর নামায আদায় করে, তবে তার নামায কবুল হবে।
রাবী ওয়ালীদ (রাহঃ) বলেনঃ নবী (ﷺ) আরো বলেছেনঃ আর দুআ করলে, তা কবুল হবে। এরপর যদি সে ব্যক্তি উঠে উযু করে, তারপর নামায আদায় করে, তবে তার নামায কবুল হবে।
كتاب الأدب
باب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا تَعَارَّ مِنَ اللَّيْلِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي عُمَيْرُ بْنُ هَانِئٍ، قَالَ حَدَّثَنِي جُنَادَةُ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَعَارَّ مِنَ اللَّيْلِ فَقَالَ حِينَ يَسْتَيْقِظُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ ثُمَّ دَعَا رَبِّ اغْفِرْ لِي " . قَالَ الْوَلِيدُ أَوْ قَالَ " دَعَا اسْتُجِيبَ لَهُ فَإِنْ قَامَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى قُبِلَتْ صَلاَتُهُ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে যে, যে বান্দা রাতের বেলা চোখ খুললে আল্লাহ তা'আলার তওহীদ, তসবীহ তহমীদ তথা তাঁর একত্ব, মাহাত্ম্য, পবিত্রতা ও প্রশংসামূলক এ কলিমাসমূহ পাঠ করে, তাঁরই দেওয়া শক্তি-সামর্থ্য ব্যতীত পুণ্য কাজ করার বা পাপকর্ম থেকে বেঁচে থাকার শক্তি কারো নেই বলে স্বীকারোক্তি করে এ দু'আটি পাঠ করবে এবং তারপর আল্লাহ তা'আলার নিকট নিজের মাগফিরাতের বা অন্য কোন দু'আ করবে, তা নিশ্চিতভাবেই কবুল হবে। অনুরূপ, ঐ সময় ওযু করে সালাত আদায় করলে তাও কবুল হবে। কোন কোন বুযুর্গ বলেন, যে বান্দার নিকট এ হাদীসটি পৌছলো সে যেন একে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর বিশেষ উপহাররূপে গণ্য করে এবং তাঁর প্রদত্ত এ সুসংবাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে সে মুতাবিক আমল করে ইস্তেগফার ও দু'আ কবুলের এ সুযোগ গ্রহণ করার জন্যে পূর্ণ যত্নবান হয়। নিঃসন্দেহে হুযুর ﷺ-এর এমন মূল্যবান উপহারের কদর না করা দুর্ভাগ্যেরই লক্ষণ। ইমাম বুখারীর যবানীতে সহীহ্ বুখারীর জনৈক রাবী ইমাম আবূ আবদুল্লাহ ফিরাবরী (রা) বলেন, একদা রাতের বেলা নিদ্রা যাওয়ার পর হঠাৎ আমার নিদ্রা ভঙ্গ হয়। আল্লাহ তাওফীক দিলেন আর আমি এ কালিমাগুলো পাঠ করলাম। তারপর আবার আমি ঘুমিয়ে পড়ি। স্বপ্নে দেখলাম, কে একজন আমার নিকট এসে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন:
وَهُدُوْا إِلَى الطَّيِّبِ مِنَ الْقَوْلِ وَهُدُوْ إِلَى صِرَاطِ الْحَمِيدِ
তাঁদের অনেক উত্তম কথার তওফীক নসীব হলো এবং তারা আল্লাহর পথে পরিচালিত হলো।"
(ফৎহুলবারী, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৬১০)
وَهُدُوْا إِلَى الطَّيِّبِ مِنَ الْقَوْلِ وَهُدُوْ إِلَى صِرَاطِ الْحَمِيدِ
তাঁদের অনেক উত্তম কথার তওফীক নসীব হলো এবং তারা আল্লাহর পথে পরিচালিত হলো।"
(ফৎহুলবারী, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৬১০)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)