আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

২৬- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৯৫৩
আন্তর্জাতিক নং: ২০৮৩
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
১২৯৯.আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ হে মু’মিনগণ, তোমরা চক্র বৃদ্ধি হারে সুদ খেয়োনা এবং আল্লাহকে ভয় কর,যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (৩:১৩০)
১৯৫৩. আদম ইবনে আবু ইয়াস (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মানুষের উপর এমন এক যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে কিভাবে সে মাল অর্জন করল, হালাল থেকে নাকি হারাম থেকে।
كتاب البيوع
بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ}
حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لاَ يُبَالِي الْمَرْءُ بِمَا أَخَذَ الْمَالَ، أَمِنْ حَلاَلٍ أَمْ مِنْ حَرَامٍ ".

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসের মর্ম খুবই সুস্পষ্ট। রাসূলুল্লাহ ﷺ যে সময়ের কথা এ হাদীসে উল্লেখ করেছেন, নিঃসন্দেহে তা এসে গেছে। বর্তমানে উম্মতের যে সব লোককে দীনদার বলে মনে করা হয়, তাদের মধ্যে কত জন আছেন যারা নিজেদের নিকট আগত টাকা পয়সা কিংবা পানাহার জাতীয় দ্রব্যের বিষয়ে একথা চিন্তা ও অনুসন্ধান করা আবশ্যক মনে করে না যে, এটা বৈধ না অবৈধ? হয়ত বা ভবিষ্যতে এ থেকেও অধিক সেই মন্দ সময় আসবে। (মুসনাদে রাযীনে আলোচ্য হাদীসের বর্ণনায় অতিরিক্ত একথাও রয়েছে যে, তখন সেই লোকদের দু'আ সমূহ কবুল করা হবে না)।

হালাল, হারাম, বৈধ ও অবৈধের পার্থক্য না করা হচ্ছে ঈমানী আত্মার মৃত্যু। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ জাতীয় শিক্ষা ও উপদেশাবলী সাহাবা কিরামের জীবনে ও তাঁদের হৃদয়ে কী প্রভাব বিস্তার করে ছিল, তা দু'টি ঘটনা থেকে অনুমান করা যেতে পারে।

সহীহ বুখারীতে হযরত সিদ্দীকে আকবর (রা)-এর এ ঘটনা বর্ণিত আছে যে, তাঁর এক দাস কিছু খাবার তাঁর সামনে পেশ করে, এ থেকে তিনি সামান্য খেয়ে নেন। এরপর সেই দাস বলল, এসব দ্রব্য আমি এভাবে অর্জন করি যে, ইসলামের পূর্বে জাহিলী যুগে নিজেকে গণক প্রকাশ করে এক ব্যক্তিকে ধোঁকা দিয়েছিলাম। তাকে কিছু বলে দিয়েছিলাম যেভাবে গণকেরা বলে থাকে। আজ সেই লোকের সাথে আমার সাক্ষাত ঘটেছে, সে আমাকে তার অংশের খাদ্যের এ সব দিয়েছে। একথা অবগত হয়ে হযরত আবু বকর (রা) স্বীয় গলায় আঙ্গুল প্রবেশ করিয়ে বমি করেন। পেটে যা কিছু ছিল সব নির্গত করেন।

অনুরূপভাবে বায়হাকী হযরত উমর (রা)-এর এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে, একবার জনৈক ব্যক্তি হযরত উমর (রা)-এর খিদমতে দুধ পেশ করেন। তিনি তা গ্রহণ করে পান করেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন, কোথা থেকে তুমি দুধ এনেছ? লোকটি বললেন, অমুক ঘাটের নিকট দিয়ে আমি যাচ্ছিলাম। সেখানে যাকাতের পশু-উটনী, ছাগী ইত্যাদি ছিল। লোকজন এগুলোর দুধ দোহন করছিল। তারা আমাকেও কিছু দিল। আমি গ্রহণ করি। এটা সেই দুধই। হযরত উমর (রা) যখন একথা জানতে পারলেন, তখন হযরত আবু বকর (রা)-এর ন্যায় গলায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে তিনিও বমি করলেন। এভাবে সেই দুধ বের করে আনেন। (মিশকাত)

এ উভয় ঘটনার মধ্যে দুই মহান ব্যক্তি যা খেয়ে ছিলেন কিংবা পান করেছিলেন, যেহেতু অজানা ও অজ্ঞাতে পান অথবা আহার করেছিলেন এজন্য এটা কখনো গুনাহ ছিল না, তবে হারাম খাদ্য সম্বন্ধে হজুর ﷺ থেকে এসব সাহাবা যা শুনেছিলেন তাতে তারা এতই আতঙ্কিত ছিলেন যে, তা পেট থেকে বের না করা পর্যন্ত স্বস্তি পাননি। নিঃসন্দেহে প্রকৃত পরহেজগারী এটাই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)