কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ
১. পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
হাদীস নং: ৩১৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৮
পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
আরেক প্রকারের তায়াম্মুম
৩১৯। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জানাবাতগ্রস্ত হলে উমর (রাযিঃ) এর নিকট এসে বলল, আমি জানাবাত অবস্থায় উপনীত হয়েছি কিন্তু পানি পাই না। তিনি বললেন তুমি নামায আদায় করো না। তখন আম্মার (রাযিঃ) বললেন আপনার কি স্মরণ নেই যে, আমরা এক যুদ্ধে ছিলাম। আমরা জানাবার অবস্থায় পতিত হলাম, তখন আমরা পানি পাইনি, এতে আপনি নামায আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং নামায আদায় করলাম।
পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল, এ বলে শু’বা (রাহঃ) একবার মাটিতে হাত মারলেন আর তাতে ফুঁ দিলেন আর তা দিয়ে এক হাত অন্য হাতের সাথে ঘষলেন এবং উভয় হাত দ্বারা মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, আমি জানি না এটা কি। আম্মার (রাযিঃ) বললেন, যদি আপনি চাহ তাহলে আমি এটা বর্ণনা করব না। সালামার বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে যে, উমর (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি যা বর্ণনা করলে, তার দায়দায়িত্ব তোমার।
পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল, এ বলে শু’বা (রাহঃ) একবার মাটিতে হাত মারলেন আর তাতে ফুঁ দিলেন আর তা দিয়ে এক হাত অন্য হাতের সাথে ঘষলেন এবং উভয় হাত দ্বারা মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, আমি জানি না এটা কি। আম্মার (রাযিঃ) বললেন, যদি আপনি চাহ তাহলে আমি এটা বর্ণনা করব না। সালামার বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে যে, উমর (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি যা বর্ণনা করলে, তার দায়দায়িত্ব তোমার।
كتاب الطهارة
نوع آخر من التيمم
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، أَنْبَأَنَا خَالِدٌ، أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، سَمِعْتُ ذَرًّا، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ وَقَدْ سَمِعَهُ الْحَكَمُ، مِنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ أَجْنَبَ رَجُلٌ فَأَتَى عُمَرَ - رضى الله عنه - فَقَالَ إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أَجِدْ مَاءً . قَالَ لاَ تُصَلِّ . قَالَ لَهُ عَمَّارٌ أَمَا تَذْكُرُ أَنَّا كُنَّا فِي سَرِيَّةٍ فَأَجْنَبْنَا فَلَمْ نَجِدْ مَاءً فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ وَأَمَّا أَنَا فَإِنِّي تَمَعَّكْتُ فَصَلَّيْتُ ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ " . وَضَرَبَ شُعْبَةُ بِكَفَّيْهِ ضَرْبَةً وَنَفَخَ فِيهِمَا ثُمَّ دَلَكَ إِحْدَاهُمَا بِالأُخْرَى ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ . فَقَالَ عُمَرُ شَيْئًا لاَ أَدْرِي مَا هُوَ . فَقَالَ إِنْ شِئْتَ لاَ حَدَّثْتُهُ . وَذَكَرَ شَيْئًا فِي هَذَا الإِسْنَادِ عَنْ أَبِي مَالِكٍ وَزَادَ سَلَمَةُ قَالَ بَلْ نُوَلِّيكَ مِنْ ذَلِكَ مَا تَوَلَّيْتَ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরে বর্ণিত হাদীসে যে ঘটনা বিবৃত হয়েছে তাতে হযরত উমর (রা)-এর সালাত আদায় না করার ব্যাপারে ভাষ্যকারগণ বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তম্মধ্যে সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যা হচ্ছে এই যে, সম্ভবত তিনি পানি প্রাপ্তির লক্ষ্যে প্রতীক্ষা করছিলেন এবং এ ব্যাপারে খানিকটা আশাবাদীও ছিলেন। এ জন্যই তিনি ঐ সময় তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করা সমীচীন মনে করেননি। আর হযরত আম্মার (রা) তখনও জানতেন না যে, নাপাকীর গোসলের জন্য যে তায়াম্মুম করতে হয় তাও উযূর মত। এজন্য তিনি নিজ ইজতিহাদের নিরিখে মাটিতে গড়াগড়ি করেন। তারপর যখন তিনি তাঁর অবস্থা রাসূলুল্লাহ ﷺ কে অবহিত করেন, তখন তিনি তার ভুল সংশোধন করে দেন এবং বলেন, উযূর বিপরীতে তায়াম্মুমে যে সকল অঙ্গ মাসেহ করতে হয়, নাপাকীর গোসলের বিপরীতেও ঠিক একইভাবে যে সব মাসেহ করে নিতে হয়। হযরত আম্মার (রা) উযূর বিপরীতে তায়াম্মুম সম্পর্কীয় বিষয় অবহিত ছিলেন। এজন্যই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে সে ব্যাপারে শুধু ইঙ্গিত করলেন।
হযরত আম্মার (রা) বর্ণিত এ হাদীস থেকে এও জানা যায় যে, তায়াম্মুমে ধূলা বিযুক্ত হাত দ্বারা চেহারা মাসেহ করা করা জরুরী নয়। বরং মাটিতে হাত রাখার পর উক্ত ধূলা ফুঁক দিয়ে মাসেহ করাই উত্তম।
হযরত আম্মার (রা) বর্ণিত এ হাদীস থেকে এও জানা যায় যে, তায়াম্মুমে ধূলা বিযুক্ত হাত দ্বারা চেহারা মাসেহ করা করা জরুরী নয়। বরং মাটিতে হাত রাখার পর উক্ত ধূলা ফুঁক দিয়ে মাসেহ করাই উত্তম।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: