কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ
৬. নামাযের সময়সূচী
হাদীস নং: ৬১৫
আন্তর্জাতিক নং: ৬১৫
নামাযের সময়সূচী
যে লোক নামায না পড়ে ঘুমিয়ে যায়।
৬১৬। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাহাবায়ে কিরাম (রাযিঃ) নিদ্রাবস্থায় নামাযের সময় তাদের ঘুমে থাকার বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উল্লেখ করলেন। তিনি বললেনঃ ঘুমে থাকার মধ্যে অবহেলা নেই। অবহেলা হয় জাগ্রত অবস্থায় (যথাসময়ে নামায আদায় না করলে)।[১] সুতরাং যদি তোমাদের কেউ নামায ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে পড়ে, তবে যখনই স্মরণ হয় তখনই পড়ে নেবে।
[১] এ হাদীসের অর্থ এ নয় যে, সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকলে কোন অপরাধ হবে না। বরং এর অর্থ এই যে, বিশেষ কারণ ও ওষুরবশত নিদ্রাবস্থায় কোন সময় সালাত চলে গেলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না। কিন্তু কেউ যদি একে অভ্যাসে পরিণত করে, তবে এটা অবশ্যই অপরাধ বলে গণ্য হবে। কেননা হাদীসে যথাসময়ে সালাত আদায় করার ফযীলত এবং এ বিষয়ে অবহেলার পরিণতি উল্লেখ করা হয়েছে।
[১] এ হাদীসের অর্থ এ নয় যে, সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকলে কোন অপরাধ হবে না। বরং এর অর্থ এই যে, বিশেষ কারণ ও ওষুরবশত নিদ্রাবস্থায় কোন সময় সালাত চলে গেলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না। কিন্তু কেউ যদি একে অভ্যাসে পরিণত করে, তবে এটা অবশ্যই অপরাধ বলে গণ্য হবে। কেননা হাদীসে যথাসময়ে সালাত আদায় করার ফযীলত এবং এ বিষয়ে অবহেলার পরিণতি উল্লেখ করা হয়েছে।
كتاب المواقيت
فيمن نام عن الصلاة
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ ذَكَرُوا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَوْمَهُمْ عَنِ الصَّلاَةِ فَقَالَ " إِنَّهُ لَيْسَ فِي النَّوْمِ تَفْرِيطٌ إِنَّمَا التَّفْرِيطُ فِي الْيَقَظَةِ فَإِذَا نَسِيَ أَحَدُكُمْ صَلاَةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কোন ব্যক্তি যদি (ওয়াক্ত যাওয়ার পর) ঘুম থেকে উঠে কিংবা সালাত আদায় করতে ভুলে যায়, স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে সে যেন সালাত আদায় করে নেয়। এমতাবস্থায় তার সালাত আদায় হিসেবে গণ্য হবে-কাযার গুনাহ হবে না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কোন কোন সফরে এমন ঘটনা সংঘটিত হয়। গভীর রাতে তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ পথ চলতেন। এরই মাঝে একটু অবসাদ কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে আরাম করতে যেয়ে শুয়ে পড়েন এবং হযরত বিলাল (রা) জেগে থাকার ও সবাইকে ফজরের জন্য ঘুম থেকে ওঠানোর দায়িত্বে থাকেন। কিন্তু আল্লাহরই অসীম কুদরত, সুবহে সাদিকের সময় স্বয়ং হযরত বিলাল (রা) ঘুমিয়ে পড়েন এমনকি সূর্য ওঠে যায়। সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ ﷺ চোখ খোলেন। তারপর সবাই ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় ঘুম থেকে উঠেন। সবার সালাত কাযা হওয়ায় প্রত্যেকেই বিষণ্ণ হন। রাসূলুল্লাহ ﷺ আযান দানের ব্যবস্থা করে সালাতের ইমামতি করেন এবং বলেন, নিদ্রাজনিত কারণে সালাতের সময় গড়িয়ে গেলে তাতে গুনাহ নেই। বরং জাগ্রত থেকে যদি কেউ সালাত কাযা করে, তবে তার জন্য রয়েছে গুনাহ। (মুসলিমের সংক্ষিপ্ত সার)
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কোন কোন সফরে এমন ঘটনা সংঘটিত হয়। গভীর রাতে তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ পথ চলতেন। এরই মাঝে একটু অবসাদ কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে আরাম করতে যেয়ে শুয়ে পড়েন এবং হযরত বিলাল (রা) জেগে থাকার ও সবাইকে ফজরের জন্য ঘুম থেকে ওঠানোর দায়িত্বে থাকেন। কিন্তু আল্লাহরই অসীম কুদরত, সুবহে সাদিকের সময় স্বয়ং হযরত বিলাল (রা) ঘুমিয়ে পড়েন এমনকি সূর্য ওঠে যায়। সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ ﷺ চোখ খোলেন। তারপর সবাই ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় ঘুম থেকে উঠেন। সবার সালাত কাযা হওয়ায় প্রত্যেকেই বিষণ্ণ হন। রাসূলুল্লাহ ﷺ আযান দানের ব্যবস্থা করে সালাতের ইমামতি করেন এবং বলেন, নিদ্রাজনিত কারণে সালাতের সময় গড়িয়ে গেলে তাতে গুনাহ নেই। বরং জাগ্রত থেকে যদি কেউ সালাত কাযা করে, তবে তার জন্য রয়েছে গুনাহ। (মুসলিমের সংক্ষিপ্ত সার)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)